পড়ুয়ারা শুধু নয়, হেডস্যারের অবসরে কেঁদে ভাসালেন অভিভাবকরাও, জলপাইগুড়ির স্কুলে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: অবসর নিলেন প্রধান শিক্ষক। শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নয় কেঁদে ভাসালেন অভিভাবকেরাও। ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক সম্পর্কের এমন সম্পর্কের বিরল দৃশ্য দেখা গেল জলপাইগুড়িতে।

সরকারি নিয়মেই অবসর নেন শিক্ষক শিক্ষিকারা। অবসরের সময় প্রথা অনুযায়ী বিদায় সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। বিদায়বেলায় চোখে জলও দেখা যায় আকছাড়। কিন্তু জলপাইগুড়ি পূর্বাঞ্চল হাইস্কুলে বুধবার যেই দৃশ্য দেখা গেল তা এককথায় নজিরবিহীন।

এই স্কুলকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেওয়ার পিছনে বড় অবদান রয়েছে যাঁর, তিনি এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলীপ দেব। আজ ছিল তাঁর অবসরের দিন। বিদায়বেলায় যেমন কান্নায় ভেঙে পড়লেন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকারা, তেমনই চোখের জল ফেললেন অভিভাবকরাও। ২০০২ সালের অগস্ট মাসে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি এই স্কুলে যোগদান করেছিলেন। তখন এই স্কুল ছিল জুনিয়র স্কুল। এরপর ধীরে ধীরে হাইস্কুলে উন্নীত হয়। পিছিয়ে থাকা এলাকায় এই স্কুলের বেশিরভাগ ছাত্রই নিম্ন আয়ের পরিবারের। সেইসব পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা যদি কখনও স্কুলে না আসতো তিনি তাদের বাড়ি চলে গিয়ে খোঁজ নিতেন। প্রয়োজনে শাসন করতেন। আর এতেই অভিভাবক মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন দিলীপবাবু।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক সুমিত্র মিশ্র বলেন, দিলীপ বাবুর এই সময়কালে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক সব যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। তার সময়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা কাজ করার স্বাধীনতা পেয়েছেন। যার সুবাদে তাঁরাও স্কুলের জন্য নিজেদের উজার করে দিয়েছে।

কার্তিক দাস নামে এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েদের শাসন করে পড়া আদায় করে নিতেন তিনি। সব দিক দিয়ে আদর্শ শিক্ষক।”
এর প্রধানশিক্ষক দিলীপবাবু বলেন, “আমার এই স্কুলে দীর্ঘ সময়ে প্রচুর লোকের ভালোবাসা পেয়েছি। এতে আমি গর্বিত। আজ বিদায় লগ্নে তাই আমারও মন ভারাক্রান্ত হয়ে আসছে।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে এদিন তিনি দায়িত্ব তুলে দেন অরূপ দত্ত নামে তাঁর এক সহকর্মীকে। কান্নায় তখন ভেঙে পড়েছেন দুজনেই।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.