দিল্লি বিমানন্দরে করোনার র‍্যানডম টেস্ট শুরু, এরপরে হবে বাস টার্মিনাসে, রেলস্টেশনে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত এক মাস ধরে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ফের বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। দিল্লি সরকার বুধবার জানাল, ওই রাজ্যগুলি থেকে যে যাত্রীরা বিমানে চড়ে দিল্লিতে আসবেন, তাঁদের এদিন থেকেই র‍্যানডম কোভিড টেস্ট করা হবে। যাঁরা করোনা পজিটিভ হবেন, তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে পাঠানো হবে কোয়ারান্টাইনে। এরপরে বাস টার্মিনাস ও রেল স্টেশনেও র‍্যানডম করোনা টেস্ট শুরু হবে।

দিল্লির ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, যে রাজ্যগুলিতে সংক্রমণ বাড়ছে, সেখান থেকে কেউ দিল্লিতে এলে র‍্যানডম টেস্ট করবে ডিস্ট্রিক্ট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি। যাত্রীদের দেহ থেকে স্যাম্পেল সংগ্রহ করা হবে। যাঁরা করোনা পজিটিভ হবেন, তাঁদের কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে ১০ দিন। তাঁরা যেখানে আছেন, সেখানেই তাঁদের কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে তাঁদের হাসপাতালে কোয়ারান্টাইন করা হতে পারে।

অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে দিল্লিতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ৬১১ জন। বুধবার সকালে পাওয়া খবর অনুযায়ী, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় শহরে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯৫ জন। গত সপ্তাহে বিবৃতি দিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ যদি কোভিড বিধি মেনে না চলেন, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধি অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে মামলা করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লিতে এখন করোনার থার্ড ওয়েভ চলছে। ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের মোকাবিলায় দিল্লির স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতদূর তৈরি, তা নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকের। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল জানিয়ে দিয়েছে, সেখানে আর আইসিইউ বেড নেই। দিল্লি সরকারের করোনাভাইরাস অ্যাপ জানাচ্ছে, পাঁচটি প্রধান হাসপাতালের মধ্যে চারটিতেই আইসিইউ ভেন্টিলেটর বেড নেই। সরকারি হাসপাতালগুলিতে অবশ্য কোভিড রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ৪ হাজার বেড খালি আছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শহরে কোভিড যে হারে বাড়ছে, তা যদি কমানো না যায়, তাহলে সেই বেডগুলি ভর্তি হতে বেশি সময় লাগবে না।

সারা দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত শনিবার মাঝরাত থেকে রাজ্যে নাইট কার্ফু জারি করা হয়েছে। সরকারের তরফে রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোভিড ঠেকাতে আগামী দিনে ফের লকডাউন জারি করা হতে পারে।

গত কয়েকদিনে মহারাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ ঘটেছে সবচেয়ে দ্রুত হারে। অতিমহামারীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে কেরল, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.