নীরব মোদীকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা যেতে পারে, মনে করেন ব্রিটেনের বিচারক

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পিএনবি কেলেংকারিতে অন্যতম অভিযুক্ত নীরব মোদীকে যাতে বন্দি করে ভারতে আনা যায়, সেজন্য মামলা চলছে প্রায় দু’বছর ধরে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্কের ১৪ হাজার কোটি টাকা ঠকিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। নীরব মোদী এখন দক্ষিণ পশ্চিম লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়র্থ জেলে আছেন। ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে কোর্টে হাজিরা দেন ৪৯ বছর বয়সী নীরব। সম্প্রতি ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক স্যামুয়েল গুজি বলেছেন, নীরব মোদীর বিরুদ্ধে যে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তাতে তিনি মনে করেন অভিযুক্তকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা যেতে পারে।

নীরব মোদীর বিরুদ্ধে প্রত্যর্পণের মামলায় বিচারক রায় দেবেন শীঘ্র। সেই রায়ের কপি যাবে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রসচিব প্রীতি পটেলের কাছে। তিনি সেই রায়ে সই করবেন। রায় বিরুদ্ধে গেলে নীরব হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন। একইভাবে রায় যদি তাঁর পক্ষে যায়, তাহলে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারবে ভারত সরকারও।

ভারত থেকে ব্রিটেনে পালিয়ে গিয়েছিলেন নীরব মোদী। বন্দি প্রত্যর্পণের ওয়ারেন্ট অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে তিনি বহুবার জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। নীরব মোদীর বিরুদ্ধে দু’দফা ফৌজদারি মামলা করেছে সিবিআই এবং ইডি। ভারত সরকারের কৌঁসুলি কোর্টে বলেন, নীরব মোদীকে ভারতে নিয়ে গেলে তাঁর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নেই।

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের টাকা তছরুপের মামলায় নীরব মোদীর সঙ্গেই অভিযুক্ত হয়েছেন তাঁর কাকা মেহুল চোকসি। সিবিআই ও ইডি-র তদন্তে জানা যায়, নীরব মোদী চুরি করা অর্থের এক বিরাট অংশ পরিবারের কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে রেখেছেন। ইডি ইতিমধ্যে নীরব মোদীর ১৮৭৩ কোটি টাকার মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। এই সম্পত্তির বেশিরভাগই ছিল বিদেশে। একটি সূত্রের খবর, হংকং, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেন, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে নীরব মোদীর ৯৬১ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

নীরব মোদীর আইনজীবী ক্লেয়ার মন্টগোমেরি সওয়াল করেন, ভারতে বিচার ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে। সেখানে সব কিছু নিয়ে রাজনীতি হয়। সিবিআই ও ইডি-র নিন্দাও করেন তিনি। পাশাপাশি দাবি করেন, ভারতের জেলগুলির অবস্থা অতি খারাপ। চিকিৎসা বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবার অমিল রয়েছে সেখানে। এই পরিস্থিতিতে ভারতে ফিরলে কখনই ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে না বলে হতাশায় ভুগছেন নীরব মোদী। তাই এখন তাঁকে ভারতে পাঠানো হলে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.