ঝাড়গ্রামে ডিউটি করে বাড়ি ফেরার সময় জঙ্গলের পথে আক্রান্ত দুই সিভিক ভলান্টিয়ার, ধৃত ৩

কী কারণে এমন ঘটনা তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক অনুমান টাকা-পয়সার লুঠের জন্যই দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার পথে আধঘণ্টার ব্যবধানে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হলেন ঝাড়গ্রাম থানার দুই সিভিক ভলান্টিয়ার। রবিবার রাতে ঝাড়গ্রাম শহর লাগোয়া পানিশোলের জঙ্গলে ওই ঘটনার পর তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে গোটা এলাকা।

পুলিশসূত্রে জানা গেছে, ডিউটি সেরে মোটরবাইকে করে বাঁধগোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শুষনিগেড়িয়া গ্রামে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন গৌতম কপাট নামে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। শহর থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার যেতেই পুরাতন ঝাড়গ্রাম থেকে মানিকপাড়া যাওয়ার রাস্তায় দুষ্কৃতীরা বাঁশ পেতে তাঁর মোটরবাইক থামায়। তারপর বাঁশ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। কোনওক্রমে নিজের মোটরবাইক নিয়ে পালিয়ে বাঁচেন ওই সিভিক ভলান্টিয়ার।

এই ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পরে বাদল সরেন নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার ডিউটি শেষ করে ওই রাস্তা দিয়েই বাড়ি ফিরছিলেন। তার বাড়ি টিয়াকাটি গ্রামে। জানা গেছে, একইভাবে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের মোটরবাইক থামিয়ে দুজনে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে তাঁকে। ভেঙে দেওয়া হয় ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের মোটরসাইকেলটি। ফলে তিনি আর মোটরবাইক নিয়ে পালাতে পারেননি। এরপরেই দুষ্কৃতীরা তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন এবং টাকা পয়সা লুঠ করে চম্পট দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাশের গ্রাম কালীনগর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। সোমবার সকালে আক্রান্ত অপর সিভিক ভলান্টিয়ার গৌতম কপাট  ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশকে গোটা ঘটনার বর্ণনা দেন। গৌতম বলেন, ‘‘ঝাড়গ্রাম একলব্য বিদ্যালয়ে আমার ডিউটি ছিল। রাতে ডিউটি শেষ করে আমি বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ করে দেখি পানিশোলের গোদরাপোলের কাছে দুই ব্যক্তি রাস্তার দু’দিকে দুটি বড় বাঁশের লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে মারতে শুরু করে। ওই অবস্থাতেই আমি জোরে গাড়ি চালিয়ে কোনওক্রমে বাড়ি পৌঁছই।’’

সোমবার তিন অভিযুক্তকে ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হয়। তিনজনকেই ঝাড়গ্রাম আদালতের বিচারক চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। কী কারণে এমন ঘটনা তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক অনুমান টাকা-পয়সার লুঠের জন্যই দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.