৪০ হাজার টাকা খোয়া গিয়েছিল ফেরিওয়ালার, উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিল জলপাইগুড়ির পুলিশ

ডিএসপি প্রদীপ সরকার জানান, ওই সময় এলাকায় টহল দিতে টিম নিয়ে বেড়িয়েছিলেন কোতোয়ালি থানার টাউনবাবু শঙ্কর দাস। উনি ব্যাগটি কুড়িয়ে পান। এরপর ব্যাগ থেকে পাওয়া নথি থেকেই মনোজের মোবাইল নম্বর পেয়ে যান। তারপরেই তাঁকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। এরপর তাঁর হাতে টাকা সমেত ব্যাগটি তুলে দেন।

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ফের পুলিশের মানবিক মুখে দেখল জলপাইগুড়ি। এক ফেরিওয়ালার খোয়া যাওয়া ৪০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিল কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

অনেক কষ্টে জিনিস ফেরি করে রোজগার। সেই টাকাই খোয়া গিয়েছিল অসাবধানে। যখন টের পেয়েছিলেন, তখন হাত কামড়েছেন শুধু। জিনিস ফেরি করে কতটুকুই বা আর আয়! তা থেকে জমানো টাকা খোয়া যাওয়ায় রীতিমতো ভেঙে পড়েছি‌লেন। পুলিশ তাঁকে ডেকে সেই টাকা হাতে তুলে দেওয়ায় আপ্লুত মনোজ জয়সওয়াল।

জলপাইগুড়ি শহরে দীর্ঘদিন ধরে কার্পেট ফেরি করেন মনোজ জয়সওয়াল। জলপাইগুড়ি শিল্পসমিতি পাড়ার বাসিন্দা তিনি। বুধবার শহরের একটি ব্যাঙ্কের শাখা থেকে চল্লিশ হাজার টাকা তোলেন তিনি। সেই টাকা একটি ফোলিও ব্যাগে ভরে সেই ব্যাগ ঠেলাগাড়িতে থাকা কার্পেটের ফাঁকে রেখে দেন। তারপর আবার জিনিস ফেরি করতে যাচ্ছিলেন জলপাইগুড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র কদমতলার দিকে। অসাবধানতা বশত ঠেলাগাড়ি থেকে তাঁর ব্যাগটি পড়ে যায়।

কদমতলায় পৌঁছে টাকা নেওয়ার সময় খেয়াল করেন ব্যাগটি নেই। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁর। ছুটতে ছুটতে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

ডিএসপি প্রদীপ সরকার জানান, ওই সময় এলাকায় টহল দিতে টিম নিয়ে বেড়িয়েছিলেন কোতোয়ালি থানার টাউনবাবু শঙ্কর দাস। উনি ব্যাগটি কুড়িয়ে পান। এরপর ব্যাগ থেকে পাওয়া নথি থেকেই মনোজের মোবাইল নম্বর পেয়ে যান। তারপরেই তাঁকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। এরপর তাঁর হাতে টাকা সমেত ব্যাগটি তুলে দেন।

মনোজবাবু বলেন, ‘‘লকডাউনের বাজারে মোটে বিক্রিবাটা নেই। কীভাবে সংসার চালাচ্ছি তা আমিই জানি। এই টাকাটা যদি আর না পেতাম স্ত্রী-পুত্র নিয়ে পথে বসতে হত। তাই যখন বুঝতে পেরেছিলাম টাকা খোয়া গেছে তখন মাথা কাজ করছিল না। পুলিশ যে এভাবে আমার পাশে দাঁড়াবে ভাবতে পারিনি।’’

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.