বেহাল রাস্তায় হাসপাতালের পথে ঝাঁকুনিতে রোগী মৃত্যুর নালিশ! মালদহে পথ অবরোধ বাসিন্দাদের

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: খানাখন্দে ভরা বেহাল রাস্তা, তাই অ্যাম্বুল্যান্স ঢোকেনি। কোনওমতে অটো করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল রোগীকে। কিন্তু পথে প্রবল ঝাঁকুনি নিতে না পেরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লকের কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষ্মীপুর গ্রামে বুধবার এই ঘটনা ঘটে। তারপরেই ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন গ্রামের লোক। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল এই রাস্তা সংস্কারের দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে টায়ার জ্বালিয়ে, রাস্তার মধ্যে ধানের চারা বসিয়ে বিক্ষোভে সরব হন এলাকার বাসিন্দারা।

প্রায় দু’ সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন এই গ্রামের বাসিন্দা সনাতন ঠোগদার। তাঁর ছেলে স্থানীয় টিটুন ঠোগদার জানান, অবস্থা খারাপ হওয়ায় বুধবার মালদহ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করা হয়। কিন্তু রাস্তা এতটাই খারাপ যে অ্যাম্বুল্যান্স আর এসে উঠতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘‘মাঝরাস্তা থেকেই ফেরত যায় অ্যাম্বুল্যান্স। উপায় না দেখে আমরা একটা অটো ডাকি। সেই অটোতে কোনওমতে বাবাকে তুলেছিলাম। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে এত ঝাঁকুনি বাবা সহ্য করতে পারেনি। পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।’’

এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ দশ বছর ধরে লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা কঙ্কালসার অবস্থায় পড়ে আছে। ২০১৭ সালের বন্যার পর রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। স্থানীয় নেতাদের বারবার বলেও কোনও কাজ হয়নি। বরং বৃষ্টি শুরু হতেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এই রাস্তাটি। হেঁটে পার হওয়াই অসাধ্য, গাড়ি চলাচলের তো প্রশ্নই নেই। ক্ষোভ ছিলই, রোগী মৃত্যুর ঘটনয় তা চরম আকার নেয়। বিক্ষোভ শুরু হয় লক্ষ্মীপুর গ্রামে।

মূলত ১০ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে নিত্যদিন ওই বেহাল রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এক হাঁটু কাদা ভেঙে যাতায়াত করেন তাঁরা। নসরপুর, ভেলাবাড়ি, চণ্ডীপাড়া, গাররা ও ভাটল সহ একাধিক গ্রামের মানুষ রীতিমতো সমস্যায়। বিহারের সঙ্গেও সরাসরি সংযোগ রয়েছে এই রাস্তার। ফলে দুর্ভোগের মুখে সেখানকার মানুষও।

স্থানীয় বাসিন্দা নকুলচন্দ্র ঠোগদার বলেন, ‘‘ভোটের আগে জনপ্রতিনিধিরা এই রাস্তা মেরামতের আশ্বাস দেন, কিন্তু  তাতে কোনও কাজ হয় না। বর্তমানে রাস্তার হাল এতটাই খারাপ যে, কোথাও হাঁটু সমান জল, কোথাও আবার বৃষ্টির জমা জল বইছে রাস্তার উপর দিয়ে। এই গ্রামে কোনও অ্যাম্বুল্যান্স আসতে চায় না। খারাপ রাস্তার জন্যই বুধবার এক রোগী রাস্তাতেই মারা যায়।’’

বছরের পর বছর খানাখন্দে ভরা কর্দমাক্ত এই পথ দিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন আট থেকে আশি সকলেই। ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান অভিভাবকেরা। গর্ভবতী মায়েদের এই পথ দিয়ে হাসপাতালে নিতে কার্যত নাভিশ্বাস ওঠে।

জেলা পরিষদের সদস্য সন্তোষ চৌধুরী জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদকে জানানো হয়েছে। বর্ষার পর রাস্তাটি সংস্কার করার আশ্বাস দেন তিনি।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.