‘শূন্য’ সিপিআইএমের ডিগবাজি, ‘দিদি-মোদী’, ‘বিজেমূল’ ভুল হয়েছিল বলা, সূর্যের বোধোদয়ে শোরগোল

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৬-৭ বছর ধরে যে কথা ভাঙা রেকর্ডের মতো বাজিয়ে আসছিল সিপিএম তা ভুল বলে কবুল করে নিলেন রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র। সোশ্যাল মিডিয়ার বক্তৃতায় স্পষ্ট করে দিলেন, তৃণমূল আর বিজেপিকে এক করে দেখা ঠিক হয়নি। বিজেমূল স্লোগান ভুল ছিল।

প্রথম টের পাওয়া গিয়েছিল ১৭ মে। নারদ কাণ্ডে চার নেতা মন্ত্রীকে সিবিআই গ্রেফতার করার পর যখন রাজ্য রাজনীতি আন্দোলিত তখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে সিপিএম রাজ্য কমিটি একটি বিবৃতি জারি করেছিল। তাতে তৃণমূলের প্রতি খোঁচা ছিল বটে! তবে দিদি-মোদী সেটিংয়ের গল্প ছিল না। সেদিনই দ্য ওয়াল-এর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল তাহলে কি বিজেমূল তত্ত্ব থেকে সরে আসছে সিপিএম? হলও তাই।

বুধবার রাতে রাজ্য সিপিএমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ‘নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের কাজ’ শীর্ষক বক্তৃতা দেন সূর্যবাবু। সেখানেই তিনি বলেছেন, বিজেপির সঙ্গে অন্য দলকে এক করে দেখা পার্টির কর্মসূচিগত বোঝাপড়া নয়। বিজেমূল স্লোগান, তৃণমূল-বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ জাতীয় স্লোগান, বক্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। স্পষ্ট করে সূর্যবাবু বলেছেন, “আমাদের পার্টির কর্মসূচিগত বোঝাপড়াতেই পরিষ্কার বিজেপি আর তৃণমূল কখনওই সমান নয়।”

শুধু তাই নয়। ওই বক্তৃতায় সূর্য মিশ্র এও বলেছেন, তৃণমূল সরকারের জনমোহিনী প্রকল্পগুলিকে ছোট করে দেখা ঠিক হয়নি। ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, উনিশের লোকসভায় ধাক্কা খাওয়ার পর প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা সামাল দিতে তৃণমূলের ‘দুয়ারে সরকার’, ‘দিদিকে বলো’র মতো কর্মসূচিগুলি সফল হয়েছে।

এবার ভোটে বাঙালি অস্মিতাকে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক দরাজ গলায় মমতার সেই সাফল্যে সিলমোহর দিয়েছেন। বলেছেন, বিজেপির দখলদারির মনোভাব রাজ্যের মানুষ মেনে নেননি, বাঙালি অস্মিতা গেরুয়া আধিপত্যবাদকে মেনে নেয়নি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে কংগ্রেসের মধ্যে বাঙালি নেতাদের বিদ্রোহ থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-ধারাবাহিক ভাবেই বাঙালি আধিপত্যবাদকে অস্বীকার করেছে। বলা ভাল এই অস্মিতা বাঙালির হিমোগ্লোবিনে বইছে। কিন্তু বঙ্গ সিপিএম সেসব বুঝেই উঠতে পারেনি। যখন অনুধাবন করছে তখন স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাংলা বিধানসভায় একজনও বাম বিধায়ক নেই।

সূর্যবাবু এও মেনে নিয়েছেন, ২০০৮ থেকে গণভিত্তিতে যে ক্ষয় শুরু হয়েছিল তা সামাল দেওয়া যায়নি। রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, একটা দল যখন বারবার রণকৌশলে ভুল করে, স্লোগান নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয় তখন তার অবস্থা এরকমই হয়। তাঁদের মতে, রণকৌশল এবং স্লোগান– এই দুটোই নির্ধারিত হয় দলের উপর তলা থেকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুটি ক্ষেত্রেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এক যুগ ধরে ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.