ভবানীপুরে কংগ্রেস কি লড়বে, অধীররা মাঠ ছাড়লে সিপিএম কী করবে?

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু প্রতিক্ষীত ভবানীপুর বিধানসভার উপনির্বাচনের (Bhawanipur By Election) দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ভোট ঘোষণা মাত্র দিদির পাড়ায় প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল (TMC)।

ব্যানারে লেখা হয়েছে, ভবানীপুর ঘরের মেয়েকই চায়! বিজেপি ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র তোপ দেগেছে। গেরুয়া শিবির আদৌ ভোটে লড়বে কি না তা নিয়েই সংশয় রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে কী করবে বাম কংগ্রেস?

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী আগেই বলেছিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত মত মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে না ভবানীপুর উপনির্বাচনে। একুশের ভোটে সংযুক্ত মোর্চার শরিক হিসেবে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসেরই প্রার্থী ছিল। এদিনও অধীরবাবু বলেছেন, আমি আমার কথা আগেই বলেছিলাম। বাকিটা কী হবে দল ঠিক করবে। হাইকম্যান্ড যেমন নির্দেশ দেবে তেমনই হবে। ভবানীপুরের ভোটে প্রার্থী দেওয়া না দেওয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানও।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কংগ্রেস যদি প্রার্থী না দেয় ভবানীপুরে তাহলে বামেরা কী করবে?

অধীরবাবু যখন এর আগে প্রার্থী না দেওয়ার কথা বলেছিলেন তখন বামেদের অনেকেই বলেছিলেন, কংগ্রেস প্রার্থী না দিলেও তারা লড়বেন। তবে এদিন ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর বিজেপির মতো সুজন চক্রবর্তীও প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বাকি চারটি জায়গায় ভোট ঘোষণা করল না কমিশন? কিন্তু কংগ্রেস প্রার্থী না দিলে বামেরা কী করবে ভবানীপুরে সে ব্যাপারে সিপিএমের কোনও নেতাই মন্তব্য করতে চাননি।

সিপিএম সূত্রে খবর, আগামীকাল বামফ্রন্টের শরিকদলগুলির সঙ্গে কথা বলে কংগ্রেসকে জিজ্ঞাসা করা হবে তাঁরা কী চাইছে। আগামী ৬ স্পটেম্বর কলকাতা জেলার সম্পাদকমণ্ডলীর সভা ডাকা রয়েছে। তেমন হলে সেখানেই দুই তিনজন প্রার্থীর নাম তালিকা করে রাজ্য কমিটিতে পাঠিয়ে দেবে কলকাতা জেলা সিপিএম।

তারপর আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ঠিক করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কে লড়বেন ভবানীপুরে। এ ব্যাপারে শনিবার সন্ধে পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে সিপিএমের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় দু’জনের নাম রয়েছে। এক, ডিওয়াইএফআইয়ের কলকাতা জেলার সভাপতি কলতান দাশগুপ্ত এবং যুব নেতা রাজেন্দ্র প্রসাদ। তবে দলের একটা অংশ আবার এও চাইছেন যে, ফের ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে লড়ানো হোক যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে।

সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সিপিএমের যুব সংগঠনের কলকাতা জেলার সম্মেলন রয়েছে। এই দুই নেতা সম্মেলন ছেড়ে কী ভাবে ভোট প্রচারে অংশ নেবেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে দলের মধ্যে। ফলে তৃতীয় কোনও নামও আসতে পারে। কিন্তু আদৌ সিপিএম ভবানীপুরে লড়বে কি না তা নির্ভর করছে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের উপর।

এদিন কমিশন যে নির্ঘণ্ট দিয়েছে তাতে ভবানীপুর, সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরে ভোট হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। গণনা ৩ অক্টোবরে। বাকি থাকবে খড়দহ, দিনহাটা, শান্তিপুর ও গোসাবার ভোট। ভবানীপুরে ভোট করানো নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “আমরা চিন্তায় আছি, হঠাৎ ভবানীপুরেই কেন ভোট হবে?

তাহলে বাকি কেন্দ্রে কেন নয়? কী উদ্দেশে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? এখনও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়নি। যানবাহন ঠিক মতো চলছে না। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলতেই পারি।’

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.