ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি, রাজ্যগুলিকে জানিয়ে দিল স্বাস্থ্য মন্ত্রক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের টিকার দ্বিতীয় ডোজ এখনও যাঁদের বাকি, তাঁদের সময়মতো সেই ডোজ দেওয়ার দিকেই এখন প্রতিটি রাজ্য সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিক, এমনই নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ এবং ভ্যাকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জাতীয় গ্রুপের সদস্য ডক্টর আরএস শর্মা রাজ্যগুলির ভ্যাকসিন-পরিস্থিতি খতিয়ে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন রাজ্যগুলির সঙ্গে। সেখানেই সামনে আসে, প্রথম ডোজ নেওয়ার পরেও অনেকেরই দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া হয়নি সময় হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও। স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন রাজ্যগুলিকে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজ্যগুলি যত ভ্যাকসিন পাচ্ছে কেন্দ্রের থেকে, তার মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশ ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করে রাখতে পারে, দ্বিতীয় ডোজের জন্য। বাকি ৩০ শতাংশ প্রথম ডোজের জন্য ব্যবহার করা হোক।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কার্যত টালমাটাল দশা গোটা দেশে। রোজই দৈনিক সংক্রমণ, মৃত্যু বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ভেঙে পড়ার মুখে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। কোথাও নেই বেড, কোথাও নেই অক্সিজেন। এরই মাঝে ভ্যাকসিনের আকাল গোটা পরিস্থিতিতে আরও সংকটজনক করে তুলেছে। অভিযোগ, বিক্ষোভ বেড়েই চলেছে।

এরই মধ্যে ভ্যাকসিনের জোগান নিয়ে আঙুল উঠেছে কেন্দ্রের দিকে। ভ্যাকসিন বণ্টন নিয়ে একাধিক রাজ্যের সঙ্গে কার্যত বাগযুদ্ধ চলছে কেন্দ্রের। এর মাঝেই মে মাসের শুরু থেকে ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের টিকাকরণ শুরু হয়েছে। কিন্তু দেশের একাধিক রাজ্যে ভ্যাকসিনের অভাবে এই কর্মসূচি সফল করাই সম্ভব হচ্ছে না। ৪৫-ঊর্ধ্বরাই টিকার দুটি ডোজ পাচ্ছেন না, কমবয়সিদের তো আরওই মুশকিল।

তবে কেন্দ্র ১৮-ঊর্ধ্বদের টিকাকরণ শুরু করার কথা বললেও, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এক্ষুণি শুরু হবে না ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের টিকাকরণ। করোনার দ্বিতীয় ডোজ প্রাপকদের প্রথমে, তারপর ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কাসদের ও যার পরে সবার জন্য টিকাদান কর্মসূচি চালু হবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

রাজ্যের চিকিৎসক মহলের পক্ষ থেকেও বার্তা ছিল দ্বিতীয় ডোজ প্রাপকদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রয়োজন। প্রথম ডোজ প্রাপকদের পরের ডোজ পেতে কোনও সমস্যা না হয় তা নিয়েও চিন্তায় ছিলেন অনেকে। কার্যক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। কোথাও রাতভর লাইন দিয়েও মেলেনি টিকা, কোথাও বা কোনও কেন্দ্রেই টিকা নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ডোজে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রের নির্দেশ কতটা কার্যকরী হয়, সেটাই দেখার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More