স্কটল্যান্ড থেকে গ্রিস, লকডাউনে বাড়ি ফিরতে সাইকেলে ৩,২১৮ কিলোমিটার পাড়ি

গ্রিসের ছেলে ক্লেওন পাপাডিমিত্রিউ ৩,২১৮ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে স্কটল্যান্ডের আবেরডিন থেকে এসেছেন গ্রিসের এথেন্সে। জানা গিয়েছে স্নাতকস্তরের ছাত্র ক্লেওন পড়াশোনা করে আবেরডিন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিস্ময় জাগিয়েছেন বিহারের মেয়ে জ্যোতি কুমারী। লকডাউনে বাবাকে সাইকেলে বসিয়ে সাত দিনে তিনি পাড়ি দেন ১২০০ কিলোমিটার পথ। সেই গুরুগ্রাম থেকে বাবাকে নিয়ে এসেছেন বিহারে গ্রামের বাড়িতে। সাইকেল চালানোর এমন দক্ষতা দেখে বিস্মিত অনেকেই।

এবার আরও বড় রেকর্ড করলেন আর এক ছাত্র। জ্যোতি কুমারীর থেকে অনেক দূরে সেই গ্রিসে থাকেন ক্লেওন পাপাডিমিত্রিউ। সাত সপ্তাহে স্কটল্যান্ড থেকে গ্রিস গোটা রাস্তাটাই সাইকেল চালিয়ে এসেছেন। জ্যোতি বাবাকে নিয়ে এসেছিলেন বাড়িতে। কিন্তু ক্লেওন লকডাউনের সময়ে বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করতে সাইকেলে পাড়ি জমান এতটা পথ।

আরও পড়ুন

লাদাখে দাঁড়িয়ে চিনকে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, ‘সাম্রাজ্য বিস্তারের জমানা খতম হয়ে গেছে’

গ্রিসের ছেলে ক্লেওন পাপাডিমিত্রিউ ৩,২১৮ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে স্কটল্যান্ডের আবেরডিন থেকে এসেছেন গ্রিসের এথেন্সে। জানা গিয়েছে স্নাতকস্তরের ছাত্র ক্লেওন পড়াশোনা করে আবেরডিন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর বাবা মা থাকেন এথেন্সের কাছে মেলিসিয়া শহরে। মার্চে লকডাউন শুরু হয় ব্রিটেনে। সেখানে আটকে পরেন ক্লেওন। লকডাউন শুরু থেকেই বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। এদিকে লকডাউনের জেরে ট্রেন, বাস না চলায় বাড়ি ফেরার ইচ্ছা থাকলেও কোনও উপায়ই ছিল না। ক্লেওন আটকে পড়েন স্কটল্যান্ডেই। তারপরে ইচ্ছারই জয় হয়। তিনি ঠিক করেন লকডাউনের নিয়ম মেনেই বাড়ি ফিরতে হবে। লকডাউনে সাইকেল চালানোয় কোনও বিধিনিষেধ ছিল না। তাই, দু-চাকার যানটিকেই সারথি বানিয়ে নেন ক্লিওন।

ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে সে যাত্রা শুরু করে তার সাইকেলের প্যাডেলে পা রেখে। সঙ্গে নেন থাকার জন্য একটা তাঁবু। আর রাস্তায় খাওয়ার জন্য পিনাট বাটার, পাঁউরুটি, সার্ডিন মাছ। পথে প্রয়োজন হতে পারে এমন আরও টুকটাক কিছু সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বাড়ির লক্ষ্যে।

ব্রিটেন থেকে রওনা দেন ১০ মে। হল্যান্ড চলে আসেন নৌকায়। পিঠে ছিল ৩০ কেজির বোঝা নিয়ে এরপরে দু’চাকায় প্যাডেল করে পার হন জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ইতালি। ইতালি পৌঁছে ফের নৌকায় চেপে পৌঁছন গ্রিসের পাত্রানসে। সেখান থেকে ফের সাইকেল। এমন করে সাতটা সপ্তাহ কেটে যায়। আর একটা সময়ে পৌঁছেও যান নিজের শহর মেলিসিয়ায়।

এতটা পথ কি আর নির্বিঘ্নে আসতে পেরেছেন? মোটেও নয়। সংবাদমাধ্যমকে ক্লেওন জানিয়েছেন, সাইকেলের টায়ার পাংচার তো ছিলই সেই সঙ্গে কখনও তুষারপাত, কখনও শিলাবৃষ্টির মধ্যে পরতে হয়। আবার তীব্র গরমেও চালাতে হয় সাইকেল। নানা আবহাওয়ায় দিনের পর দিন সাইকেল চালিয়ে সারা শরীরেই ফোসকা পড়েছে। কিন্তু অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় ক্লিওন বলছেন, একটুও কষ্ট হয়নি। যেটুকু হয়েছে তাও উবে গেছে বাড়ি ফেরার আনন্দে। তবে আর নয়। এবার স্কটল্যান্ড বিমানেই ফিরবেন ক্লোওন পাপাডিমিত্রিউ। আর সেটা সব কিছু স্বাভাবিক হওয়ার পরে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More