শুভেন্দুই বিরোধী দলনেতা, সিদ্ধান্ত বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালই দ্য ওয়াল-এ লেখা হয়েছিল, যে শর্তে অসমের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে, সেই শর্তেই বাংলায় বিরোধী দলনেতা হতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। হলও তাই। ওদিকে গুয়াহাটিতে যখন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হিমন্ত তখন হেস্টিংসে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়ে গেল নন্দীগ্রামের বিধায়কই এবার বিরোধী দলনেতা।

এদিন ৭৭ জন বিধায়ক নিয়ে বৈঠক ডেকেছিল বিজেপি। সেই বৈঠকে গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবিশঙ্কর প্রসাদ ও ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁদের উপস্থিতিতেই সিদ্ধান্ত হয় বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা হবেন শুভেন্দু।

সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা বিরাট। বিজেপির হয়ে প্রথম নির্বাচনে দাঁড়িয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জে জেতার পর, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর, শুভেন্দুকে সেই মর্যাদার আসন দিল গেরুয়া শিবির।

বাংলায় ভোটের সময়ে যে কেন্দ্রীয় নেতা বা পর্যবেক্ষকরা এসেছিলেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর তাঁদের প্রায় সকলের মত নিয়েছেন জগৎপ্রকাশ নাড্ডা-অমিত শাহরা। তাঁরা প্রায় সকলেই শুভেন্দু অধিকারীকে বিরোধী দলনেতা করার সুপারিশ করেছেন বলে জানা গিয়েছিল। এঁদের অধিকাংশের ব্যাখ্যা হল, সংশয়াতীত ভাবেই শুভেন্দুর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক আধিপত্য রয়েছে। বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর উচ্চতা ও মর্যাদা সবার থেকে বেশি। কিন্তু এও ঠিক যে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে পরাস্ত করেছেন শুভেন্দু।

সেই সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর নিজের জেলায় এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাতটি আসনে জিতেছেন। তা ছাড়া উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ সর্বত্রই তাঁর কমবেশি জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও। বাংলায় বিজেপির জনভিত্তি ধরে রাখতে এমন নেতৃত্বই প্রয়োজন।

নন্দীগ্রামের লড়াইটাই যেন বাংলার ভবিতব্য হয়ে উঠল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বিরোধী দলনেতা।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More