জটিল অর্থোপেডিক অপারেশনে সাফল্য জেলা হাসপাতালে, চলৎশক্তি ফিরে পেলেন সাফাই কর্মী

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাঁটাচলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন পৌরনিগমের এক সাফাই কর্মী। সফল অস্ত্রোপচারের পর তাঁর চলৎশক্তি ফিরিয়ে দিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা হাসপাতালের শল্যচিকিৎসকেরা। জটিল অপারেশনে সাফল্য আসায় জেলার চিকিৎসকমহলে খুশির আবহ। খুশি রোগীর বাড়ির লোকেরাও।

রোগীর পরিবারসূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর এক পথ দুর্ঘটনায় আহত হন আসানসোল পৌরনিগমের সাফাই কর্মী বুধাহাড়ি পাড়ার বাসিন্দা ৪২ বছরের মন্টু হাঁড়ি। আহত অবস্থায় তাঁকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় মন্টুবাবুর কোমর ও পায়ের সংযোগস্থলের কাছে থাকা বলের উপরের আস্তরণ ভেঙে গিয়েছিল। এর ফলে হাঁটাচলার ক্ষমতা একেবারে হারিয়ে ফেলেন তিনি। জেলা হাসপাতালে অস্থি চিকিৎসা বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শ্রী নির্ঝর মাজির অধীনে ভর্তি করা হয় মন্টুবাবুকে।

এক দীর্ঘ ও জটিল অপারেশনের পর সোমবার ২ নভেম্বর মন্টু হাঁড়িকে তাঁর চলৎশক্তি ফিরিয়ে দিলেন ডাঃ মাজির অধীনে জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকেরা। দুঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই অস্ত্রোপচার। এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে চিকিৎসক ডাঃ মাজি জানান, আমাদের প্রত্যেকের কোমর আর পায়ের সংযোগ স্থলের কাছে একটা গোলাকার বলের মতো থাকে, যা পায়ের চলন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, সেই বলের উপর একটা মোটা আস্তরণ থাকে। দুর্ঘটনার কারণে মন্টুবাবুর জয়েন্টের সেই আস্তরণ ভেঙে যায়। এর ফলে স্বাভাবিক হাঁটাচলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন রোগী। অপারেশনের মাধ্যমে acetabulum fixation করে তাঁর চলৎশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া হল।

অপারেশনটি করতে সময় লেগেছে প্রায় দু’ঘণ্টা দশ মিনিট। অপরেশনে নির্ঝর মাজির সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন ডাঃ অদিতি গুপ্তা। পশ্চিম বর্ধমান জেলা হাসপাতালে প্রথম এই ধরনের জটিল অপারেশন করা হল বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আপাতত আগামী তিন মাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে রোগীকে। তিনমাস পর থেকে মন্টুবাবু ধীরে ধীরে হাঁটতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডাঃ মাজি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More