রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪

দেখাশোনার পরে কাছাকাছি এসেছিল তারা, কে জানত মিলন বদলে যাবে মৃত্যুতে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকলেই ভেবেছিল, সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠবে তাদের দু’জনের মধ্যে। প্রেম গাঢ় হলে মিলনও হবে আশানুরূপ ভাবেই। তেমনই ইতিবাচক ইঙ্গিতও মিলেছিল। কিন্তু কে জানত, এত হিসেব-নিকেশ করেও লন্ডনের চিড়িয়াখানায় একটি বিরল প্রজাতির বাঘ এবং তার সঙ্গীর প্রথম মিলনের মুহূর্ত চরম মর্মান্তিক হয়ে উঠবে!

সুমাত্রার এক অন্যতম বিরল এবং ছোট প্রজাতির একটি বাঘ মেলাটি। লন্ডনের জেএসএল চিড়িয়াখানায় বড় হচ্ছিল সে। সম্প্রতি ‘ইউরোপীয় কনজারভেশন প্রোগ্রাম’-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী অসীম নামের আর একটি একই প্রজাতির বাঘকে জেএসএল চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, অসীম ও মেলাটির মধ্যে মেলামেশার মাধ্যমে তাদের প্রজাতির বাঘের সংখ্যা বাড়ানো।

দেখে নিন অসীম আসার পরে সে কী করছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মেলাটিকে বেশ কয়েক দিন ধরে পর্যবেক্ষণে রাখার পরে রবিবার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তার নতুন সঙ্গী অসীমের কাছে। কিন্তু সমস্ত পরিকল্পনা তছনছ করে দিয়ে, তাদের দেখা-সাক্ষাৎ শুরু হওয়ার পরেই দ্রুত তা চরম আকার ধারণ করে। অসীম অত্যন্ত রেগে যায় মেলাটিকে দেখেই। তর্জন গর্জনের ধরন শুনে চিড়িয়াখানার কর্মীরা কোনও ঝুঁকি না নিয়ে, দু’জনকে দু’জনের কাছ থেকে দূরে সরাতে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য চান। কিন্তু কিছু করে ওঠার আগেই  অসীম মেলাটির উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে মেরে ফেলে।

মেলাটির মৃত্যুতে অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন টুইটে।

সাত বছরের অসীমকে ১০ দিন আগেই আনা হয় ওই চিড়িয়াখানায়। দু’টি বাঘকে কাছাকাছি দু’টি ঘেরাটোপের মধ্যে রাখা হয়, যাতে তারা পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করতে না পারলেও একে অপরের গন্ধ শুঁকতে পারে। বেশ ভাল ভাবে কয়েক দিন পর্যবেক্ষন ও নজর রাখার পরে বিশেষজ্ঞদের মনে হয়, পরস্পরের গন্ধ পছন্দ করছে তারা। এ বার তাদের এক খাঁচায় ছেড়ে দেখা যেতে পারে। সেই মতোই শুক্রবার সকালে দু’জনের মাঝের দরজা খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু চিড়িয়াখানার কর্মীদের অবাক করে দিয়ে অসীম মেলাটিকে আক্রমণ করে বসে।

মেলাটির এই আকালমৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না জেএসএল চিড়িয়াখানার কর্মীরা। তারা এখন মনে করছেন, যতই পর্যবেক্ষণ করা হোক, বাঘের মেজাজ তো! আগে থেকে আঁচ পাওয়া যায় না। ঘটনার পরে চিড়িয়াখানা তরফে একটি মন্তব্যে বলা হয়েছে, ‘‘লন্ডনের জেএসএল চিড়িয়াখানার সকলেই মেলাটির এই অকালমৃত্যুতে শোকগ্রস্ত।” ঘটনার পরে সে দিনের জন্য বাঘের খাঁচা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সে বিষয়ে একটি টুইট করে জানান চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

বাঘেদের মধ্যে সব চেয়ে ছোট প্রজাতির হয় সুমাত্রার বাঘেরা। তাদের গায়ে কমলা রঙের উপরে চওড়া কালো দাগ থাকে। ডব্লিইডব্লিইএফ-এর মতে ইন্দোনেশিয়ান বাঘ বিপন্ন প্রজাতির। তাদের সংখ্যা বর্তমানে ৪০০। সেই কারণেই এই বাঘেদের জনন ঘটানো প্রয়োজন।

Shares

Comments are closed.