গরমে প্রেগনেন্সি! কীভাবে সুস্থ রাখবেন নিজেকে? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাতৃত্বের অনুভূতি অনন্য, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু অনেক সময়েই সন্তান পেটে নিয়ে নানা অস্বস্তির মুখোমুখি হতে হয় মেয়েদের। বিশেষত ভারতের মতো দেশে গরমকালে, এমনিতেই যখন অস্বস্তি থাকে চরমে, তখন প্রেগনেন্সির ঝঞ্ঝাটও বেড়ে যায় অনেকটাই। কীভাবে গরমের প্রেগনেন্সিতেও একেবারে ফিট অ্যান্ড ফাইন থাকা যায়? জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন কোনও মহিলা সন্তানসম্ভবা হন, তখন তাঁর শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে। আর সেই পরিবর্তনগুলিই নানা শারীরিক অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে। তাপমাত্রার পারদ চড়লে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও খারাপ। প্রেগনেন্সির সময় ঠিক কোন কোন সমস্যার মুখোমুখি হন মহিলারা? আগে চোখ রাখা যাক সেই তালিকায়।

১) প্রেগনেন্সির শুরুর দিকেই থাকে বমি বমি ভাব। এমনকি বমিও হয় মাঝে মাঝেই।

২) বদহজম, খিদে না পাওয়া কিংবা গ্যাসের সমস্যা

৩) প্রেগনেন্সির প্রথম তিন মাস পর পা, পায়ের পাতায় জল জমতে শুরু করে, ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে ইডিমা।

৪) গর্ভাশয়ের আকার বাড়তে থাকায় প্রেগনেন্সির সময় মাঝে মাঝেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়।

৫) প্রচণ্ড গরম লাগে।

গরমকালের প্রেগনেন্সির এই টুকিটাকি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় বাতলে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

১) হাইড্রেশন: প্রেগনেন্সি হোক, বা নাই হোক, জল খাওয়ার বিকল্প নেই। গরমে প্রেগনেন্সির সময়ও প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। দিনে অন্তত ৩ লিটার করে জল খাওয়া বাঞ্ছনীয়। এর পাশাপাশি নারকেলের জল কিংবা তাজা ফলের রস (চিনি ছাড়া) খাওয়া যেতে পারে। জল না খেলে হিট স্ট্রোক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২) ডায়েট: প্রেগনেন্সির সময় প্রচুর সবজি, ফল (বিশেষত তরমুজ) খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। দইও খেতে হয় বেশি করে। তবে তেল মশলা ঘি-যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। কমাতে হবে নুন খাওয়াও।

৩) সাঁতার বা ব্যায়াম: গরমকালে ঠান্ডা ও সতেজ থাকার অন্যতম সহজ উপায় হল সাঁতার। এছাড়া প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করলে শরীর ভাল থাকে। তবে কোনওটাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়।

৪) পা-কোমরের ব্যায়াম: পায়ের দিকে যে রস জমে যায় তার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা দরকার। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে বালিশের উপর পা রেখে বেশ কিছুক্ষণ ব্যায়াম করতে হবে।

৫) পোশাক-পরিচ্ছদ: প্রেগনেন্সির সময় অবশ্যই হালকা ঢিলেঢালা পোশাক পড়া উচিত। হালকা রঙের জামাকাপড় পড়লেই ভাল। জুতোর ক্ষেত্রেও একই বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

৬) সানগ্লাস/ছাতা: প্রেগনেন্সির সময় বাইরে যাতায়াত করতে হলে গরমকালে সানগ্লাস ব্যবহার করতেই হবে। ছাড়া রোদের তাপ যাতে সরাসরি গায়ে না লাগে তার জন্য ব্যবহার করতে হবে বড় ছাতা। এক্ষেত্রে সাধারণত সানস্ক্রিন মেখে বেরোনোর পরামর্শই দেন চিকিৎসকরা।

৭) ঘুম: দুপুরের দিকে অনন্ত আধঘণ্টা ঘুম দরকার প্রত্যেক হবু মায়ের। দিনের মধ্যে ওই সময়েই তাপমাত্রা থাকে সবচেয়ে বেশি।

এছাড়া প্রেগনেন্ট অবস্থায় কোনওরকম অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখলেই আগে যেতে হবে ডাক্তারের কাছে। নিয়মিত চেক আপের সময় সমস্ত কথা ডাক্তারকে খুলে বলা দরকার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More