উত্তরপ্রদেশে রবিবার লকডাউন, মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বেরোলে জরিমানা হতে পারে ১০ হাজার টাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বেরিয়ে প্রথমবার ধরা পড়লে জরিমানা দিতে হবে হাজার টাকা। দ্বিতীয়বার ধরা পড়লে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে হবে ১০ গুণ। উত্তরপ্রদেশে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একইসঙ্গে রবিবার তিনি রাজ্যে লকডাউন ঘোষণা করেছেন।

বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশ সরকার ঘোষণা করে, রাজ্যের সব স্কুল ১৫ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এদিন রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৪৩৯। মারা গিয়েছেন ১০৪ জন। বুধবারও রাজ্যে ২০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হন।

উত্তরপ্রদেশের ১০ টি জেলায় সন্ধ্যা আটটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত কার্ফু জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যোগী আদিত্যনাথ টুইট করে বলেন, “১০ টি জেলায় অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। তাদের মধ্যে আছে লখনউ, প্রয়াগরাজ, বারাণসী, কানপুর নগর, গৌতম বুদ্ধ নগর, গাজিয়াবাদ, মিরাট, গোরখপুর। ওই জেলাগুলিতে সন্ধ্যা আটটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত কার্ফু জারি করা হয়েছে।” রাজ্যে যে শহরগুলিতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে, তার মধ্যে আছে লখনউ, বারাণসী ও প্রয়াগরাজ।

বারাণসীতে গত দু’সপ্তাহে কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১২৬৬ শতাংশ। জেলা প্রশাসন থেকে পর্যটকদের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে, এপ্রিল মাসে মন্দির নগরীতে আসবেন না। বারাণসীর জেলাশাসক কৌশল রাজ শর্মা বলেন, “আমরা ভারতীয় ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, চলতি মাসে বারাণসীতে আসবেন না। কারণ এখানে কোভিড ছড়িয়েছে অভুতপূর্ব হারে।”

বারাণসী প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে, যাঁরা কাশী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শনে যাবেন, তাঁদের আগে আরটি পিসিআর টেস্ট করাতে হবে। যাঁদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে, তাঁদেরই মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হবে।

বারাণসী জেলায় এখন অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ২০৬। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ এবং অপর জনবহুল শহর প্রয়াগরাজের পরে বারাণসীতেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। গত ৩১ মার্চ শহরে ১১৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখন সেখানে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ছিল ৫৫০। কিন্তু বুধবার মন্দির নগরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৮৫ জন।

বারাণসীর জেলা কমিশনার দীপক আগরওয়াল বলেন, কোভিড সংক্রমণ ব্যাপক হারে বাড়ছে। সেজন্য কাশী বিশ্বনাথ, সংকটমোচন ও অন্নপূর্ণা মন্দিরে প্রবেশের আগে আরটি পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বারাণসীর আশপাশের জেলার মানুষকে বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শহরে প্রবেশ করবেন না। শহরে ইতিমধ্যে নাইট কার্ফু জারি করা হয়েছে। গঙ্গার কোনও ঘাটে বিকাল চারটে থেকে সকাল ছ’টা পর্যন্ত স্নানার্থীদের আসতে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More