তিন দশক ধরে নববধূ সেজে রয়েছেন বৃদ্ধ! পেছনে রয়েছে মর্মস্পর্শী এক দুঃখের কাহিনি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুসংস্কারের জেরে মানুষ কত দূর যেতে পারে, বৃদ্ধ চিন্তাহরণ যেন তার প্রমাণ। গত ৩০ বছর ধরে নববধূ সেজে রয়েছেন তিনি। তাঁর পরনে লাল বেনারসি। নাকে বড় নাকছাবি। কানে ঝুমকো দুল। হাতভরা চুড়ি। একগলা ঘোমটা টেনে সদ্য বিয়ে হওয়া বউয়ের মতো রয়েছেন তিনি।

উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের বাসিন্দা চিন্তাহরণ চৌহানের এই আচরণের পেছনে অবশ্য দুঃখের এক মর্মস্পর্শী কাহিনি রয়েছে। চিন্তাহরণের বিশ্বাস, তাঁর এই সাজের সঙ্গেই জুড়ে রয়েছে তাঁর পরিবারের ভবিষ্যৎ। কারণ তিনি যখন যুবক ছিলেন, তখন মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে নিজের পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে হারিয়েছেন চিন্তাহরণ। তার পর, ১৯৮৯ সাল থেকে এই নববধূর সাজে থাকতে শুরু করার পর থেকে নাকি থেমেছে এই মৃত্যুমিছিল।

চিন্তাহরণ জানিয়েছেন, মাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে হয় তাঁর। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই তাঁর প্রথম স্ত্রী মারা যায়। তার পরে, ২১ বছর বয়সে তিনি কাজ করতে বাংলায় আসেন। উত্তর দিনাজপুরের ইটভাটায় কাজ করতেন তিনি। কাজ করতে করতে মালিকের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন। কিছু দিন পরে মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে দেন মালিক। কিন্তু এই বিয়ে চিন্তাহরণের পরিবার মানতে চায়নি। তাই স্ত্রীকে দিনাজপুরে ছেড়ে রেখেই উত্তরপ্রদেশ ফিরে যান তিনি।

এর কিছু দিন বাদে খবর আসে, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের চাপে কয়েক মাস বাদে আবারও বিয়ে করতে হয় চিন্তাহরণকে। তার পরে একে একে তাঁর বাবা, মা, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, মেয়ে–সব মিলিয়ে পরিবারের ১৪ জন প্রাণ হারান। যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে চিন্তাহরণকে।

চিন্তাহরণের দাবি, “একে একে যখন সবাই চলে যাচ্ছে, তখন আমি দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বপ্নাদেশ পাই। ও আমাকে বলে, ওকে ঠকানোর জন্যই এই শাস্তি পাচ্ছি আমি। আমি ওর কাছে ক্ষমা চাই, তখন ও বলে আমায় এভাবে নববধূর বেশে থাকতে। তাহলেই নাকি পরিবারের আর কারও ক্ষতি হবে না।”

তার পর থেকেই নতুন বউ সেজে বসে থাকেন চিন্তাহরণ। এই পোশাক পরার পর থেকেই নাকি তাঁর বাড়িতে আর কারও অকালমৃত্যু হয়নি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More