সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানের জামিন নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ৫ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করতে যাচ্ছিলেন কেরলের সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পান। পথে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয় সন্ত্রাসদমন আইন ইউএপিএ। তাঁর জামিন চেয়ে একটি পিটিশন জমা পড়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। তার ভিত্তিতে সোমবার শীর্ষ আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নোটিশ দিল। নোটিশে বলা হয়েছে, সাংবাদিকের জামিনের আবেদন নিয়ে বক্তব্য জানাক উত্তরপ্রদেশ সরকার।

কেরল ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস থেকে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সিদ্দিক কাপ্পানের মৌলিক অধিকার রক্ষার আর্জি জানানো হয়েছিল। সাংবাদিক ইউনয়ন বলে, সিদ্দিক কাপ্পানকে আইনজীবীর সাহায্য নিতে দেওয়া হোক। তাঁর সঙ্গে পরিবারের লোকজনকে দেখা করতে দেওয়া হোক। মথুরা জেলের মধ্যে সাংবাদিকের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক ইউনিয়নের আর্জি, সুপ্রিম কোর্ট মথুরা ডিস্ট্রিক্ট জাজ অথবা হাইকোর্টের কোনও বিচারপতিকে দিয়ে ওই অভিযোগের তদন্ত করাক।

সাংবাদিক ইউনিয়নের হয়ে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, “এফআইআরে সিদ্দিক কাপ্পানের নাম নেই। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি। কিন্তু তিনি ৫ অক্টোবর থেকে জেলে আছেন।” কাপ্পান নিজে অভিযোগ করেন, আইনজীবীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এদিন সাংবাদিক ইউনিয়নের পিটিশন শোনে। প্রধান বিচারপতি আবেদনকারীদের প্রশ্ন করেন, আপনারা হাইকোর্টে যাননি কেন?

অক্টোবরের শুরুতে সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানের সঙ্গে আরও তিনজন হাথরাস যাওয়ার পথে ধরা পড়েন। ওই তিনজন ছিলেন বিতর্কিত পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার সদস্য। চলতি বছরের শুরুতে উত্তরপ্রদেশে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভের জন্য এই সংগঠনটিকেই দায়ী করে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে চাওয়া হয়।

নির্দিষ্ট সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি হাথরাসের দিকে যাচ্ছেন। পরে রাস্তায় একটি টোল প্লাজা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। তাঁদের কাছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও কয়েকটি পুস্তিকা পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুস্তিকাগুলি শান্তিভঙ্গ করতে পারে। আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি করতে পারে। জেরায় চার ব্যক্তি স্বীকার করেন, তাঁদের সঙ্গে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া এবং তার সহযোগী সংগঠন ক্যামপাস ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার সম্পর্ক আছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে চার উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার পরিবারের দাবি, তাঁরা দলিত হওয়ার জন্যই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছিল। গণধর্ষণের পরে তরুণীর ওপরে বীভৎস অত্যাচার করে অপরাধীরা। তাঁর শরীরে নানা জায়গায় হাড় ভেঙে যায়। সারা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। ঘাড়ে গভীর ক্ষত থাকার জন্য তাঁর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, তরুণীর জিভেও ক্ষত ছিল। চার অপরাধী যখন তাঁকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি নিজের জিভ কামড়ে ফেলেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More