তিনটি কৃষি আইন কার্যকর নয় এখনই, নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট, গড়ে দিল কমিটিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে তিরস্কার করে বলেছিল, আপনারা কি কৃষি আইনগুলি স্থগিত রাখবেন, না আমরা স্থগিতাদেশ জারি করব? মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতই তিনটি আইনের ওপরে স্থগিতাদেশ জারি করল। গত সেপ্টেম্বরে ওই আইনগুলি পাশ হয়। সুপ্রিম কোর্ট এদিন নির্দেশ দিয়েছে, কৃষি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গড়তে হবে। সেই কমিটি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে বিরোধ মেটাবে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে এদিন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, “আদালত ফের আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনটি কৃষি আইন কার্যকর করা যাবে না।”

এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার শীর্ষ আদালতে বলেছে, কৃষি আইন নিয়ে তাড়াহুড়ো করা হয়নি। দুই দশক ধরে আলোচনার পরে ওই আইন করা হয়েছে। দেশের কৃষকরা ওই আইনে খুশি হয়েছেন। এর ফলে তাঁরা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করার আরও বেশি সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে মোদী সরকার চেষ্টা করছে যাতে কৃষকদের মধ্যে থেকে ওই আইন নিয়ে ভুল ধারণা দূর করা যায়।

প্রধান বিচারপতি এদিন বলেন, “এটা জীবন-মরণের প্রশ্ন। আন্দোলনের ফলে যাঁদের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে, তাঁদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সবচেয়ে ভালভাবে সমস্যাটার সমাধান করা যায়। সেজন্যই আইনগুলি স্থগিত রাখা হয়েছে।”

পরে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কৃষি আইন নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধান করার জন্যই কমিটি গড়া হবে।” দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিল, আগামী ২৬ জানুয়ারি কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিল বার করতে যেন বারণ করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতিরা কৃষক সংগঠনগুলিকেও নোটিস পাঠিয়েছেন।

কৃষকদের পক্ষে আইনজীবী এম এল শর্মা এদিন শীর্ষ আদালতে বলেন, কৃষকরা কোনও কমিটিতে থাকবেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন। বিচারপতিরা তাঁকে বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীকে কিছু করতে বলতে পারি না। তিনি এই মামলায় কোনও পক্ষ নন।”

এর আগে সোমবার প্রধান বিচারপতি বলেন, খারাপ কিছু ঘটে গেলে সকলকেই তার দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁর কথায়, “যদি কোনও ভুল হয়ে যায়, আমাদের সকলকে তার দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা চাই না কেউ আহত হোক। তাহলে আমাদের হাতেও রক্ত লাগবে।” একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনটি বিতর্কিত আইনের ওপরে স্থগিতাদেশ দেওয়ার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাঁরা এখন যেখানে অবস্থান করছেন, ভবিষ্যতেও সেখানেই করবেন নাকি অন্য জায়গায় সরে যাবেন।

গত ৭ জানুয়ারি অষ্টমবারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কৃষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। তখনই কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর স্পষ্ট বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কৃষি আইন বাতিল করবে না। কৃষক ইউনিয়নগুলি ইচ্ছা করলে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে।

আগামী ১৫ জানুয়ারি ফের কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার। তার আগে এদিন প্রধান বিচারপতির মন্তব্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল, কৃষক নেতাদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বলেন, পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে একটা সমঝোতায় আসার জন্য সরকারকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয় শীর্ষ আদালত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More