ইসরো চরবৃত্তি মামলায় বিজ্ঞানী নাম্বিনারায়ণের অন্য়ায় গ্রেফতারির সিবিআই তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় চরবৃত্তি মামলায় ইসরোর বিজ্ঞানী নাম্বি নারায়ণনের অন্যায়  গ্রেফতারির তদন্ত করতে সিবিআইকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে তিন মাসের  মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলেছে বিচারপতি এ এম খানবিলকরের নেতৃত্বে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ। নারায়ণন ইসরোর ক্রায়োজেনিকস ডিভিশনের দায়িত্বে ছিলেন।  ১৯৯৪ সালে তাঁকে কয়েকটি শত্রু দেশের কাছে গোপন প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য পাচার, ফাঁস করায় অভিযুক্ত  করে সরকারি গোপনীয়তা রক্ষা আইনে গ্রেফতার করে কেরল পুলিশ। কিন্তু পরে প্রমাণ হয়, তাঁকে ফাঁসানো  হয়েছিল, তাঁর বিরুদ্ধে তোলা চরবৃত্তির অভিযোগ মিথ্যা। ১৯৯৮ সালে তিনি যাবতীয় অভিযোগ থেকে রেহাই পান।

তিনি অন্যায়, ভুল পদক্ষেপ করা, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন। পাল্টা অভিযোগ করেন, তাঁকে দিয়ে কথা বলিয়ে নিতে কেরল পুলিশ ও ইনটেলিজেন্স ব্যুরো তাঁর ওপর অত্যাচার করেছে।  অত্যাচার, মানসিক নির্যাতনের ক্ষতিপূরণ চেয়ে তিনি প্রথমে জাতীয় মানবাধিকার  কমিশনের দ্বারস্থ হন। কমিশন তাঁকে ১০ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করে। এরপর তিনি রিট পিটিশন দায়ের করেন কেরল হাইকোর্টে। দোষী পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। হাইকোর্টের এক বিচারপতির বেঞ্চ তা অনুমোদন করে। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর আবেদন খারিজ করে। তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান।

সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮-র সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, নয়ের দশকের মাঝামাঝি ইসরো চরবৃত্তি মামলায় নারায়ণনের বিরুদ্ধে কেরল পুলিশের মামলাটি বিদ্বেষপ্রসূত ছিল, তাঁকে চরম অবমাননা, হেনস্থা সইতে হয়েছিল।

বিচারপতি খানবিলকরের বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ডি কে জৈনের জমা দেওয়া রিপোর্টটিও খতিয়ে দেখে। জৈনের ওপর নারায়ণনের বিরুদ্ধে কেরল পুলিশের অন্য়ায় আচরণের তদন্ত করার ভার পড়েছিল।  বেঞ্চের মত, রিপোর্টেই বিষয়টি গুরুতর বলে উল্লেখ করে এর গভীর তদন্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। মনে হচ্ছে, এটা ভুল করে ধামাচাপা দেওয়া, এড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপার।

বেঞ্চ বলেছে, কমিশনকে যেহেতু রায় জানাতে বলা হয়নি, শুধু আদালতকে সহায়তা করতে বলা হয়েছে, তাই সিবিআইকে আরও তদন্ত চালাতে হবে।  আমরা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিকে রিপোর্টের একটি কপি সিবিআইয়ের ডিরেক্টর বা অস্থায়ী ডিরেক্টরকে ফরোয়ার্ড করতে বলছি। সিবিআই এরপর আইনানুসারে এগবে। তারা রিপোর্টটিকে প্রাথমিক বলে ধরে এগতে পারে।

নারায়ণনকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি ডি কে জৈনের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গড়েছিল শীর্ষ আদালত, যার কাজ অন্যায়কারী পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন কিনা, তা স্থির  করা। কমিটি দিনকয়েক আগে মুখবন্ধ করা খামে কোর্টে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে।

কেন্দ্রও মামলায় আবেদন পেশ করে সুপ্রিম কোর্টকে বিচারপতি জৈন কমিটির রিপোর্ট গ্রহণ করতে আবেদন করে, কর্তব্যে গাফিলতি করা পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More