নেতৃত্বে পিএলজিএ কম্যান্ডার হিডমা, সঙ্গী সুজাতা, তিনদিক থেকে ঘিরে জওয়ানদের ওপর গুলি, বিস্ফোরণ ৪০০ মাওবাদীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তিশগড়ের শনিবারের ভয়াবহ মাওবাদী হামলার হাড় হিম করা তথ্য ক্রমশ সামনে আসছে। সরকারি কর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০০ মাওবাদী ঘন জঙ্গলে তিনদিক থেকে জওয়ানদের ঘিরে ধরে গুলিবৃষ্টি করে, আইইডি বিস্ফোরণও ঘটায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এই আক্রমণ। ২২ জওয়ান লুটিয়ে পড়েন। পাল্টা বাকি জওয়ানরা গুলি চালান। এনকাউন্টারে ১০-১২ মাওবাদীও খতম হয়।
কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর বিশেষ জঙ্গলযুদ্ধে পারদর্শূ কোবরা ইউনিট, সিআরপিএফের রেগুলার ব্যাটালিয়ন, বস্তারিয়া ব্যাটালিয়ন, ছত্তিশগড় পুলিশের আওতাধীন ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড ও অন্য কিছু শাখা থেকে প্রায় ১৫০০ জনের বাহিনীর সদস্য নিহত জওয়ানরা। দিনকয়েক আগে ওই বিশাল বাহিনী মাওবাদীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে বিজাপুর-সুকমা জেলার সীমান্ত বরবর তল্লাশি ও ধ্বংস করার অভিযানে যায়। মাওবাদীরাও পাল্টা ওখানে তত্পরতা শুরু করেছে বলে সূত্র মারফত খবর পেয়ে প্রায় ৭৯০ জন জওয়ানের বাহিনী জাগারগুন্দা-জোঙ্গাগুন্দা-তারেম এলাকায় রওনা হয় ভোরবেলায়। তখনই মাওবাদীদের তথাকথিত পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (পিএলজিএ) বাহিনীর ১ নম্বর ব্যাটালিয়নের গেরিলারা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। নেতৃত্ব দেয় তাদের নেতা হিডমা ও তার সঙ্গী সুজাতা। হিডমার মাথার দাম ৪০ লাখ টাকা, বয়স ত্রিশের কোঠায়। বস্তারে নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর গত কয়েক বছরে একাধিক বড় হামলায় সে নেতৃত্ব দিয়েছে বলে সন্দেহ। মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এলাকাটি অসমতল, এবরোখেবড়ো, গভীর দুর্ভেদ্য জঙ্গলে ঘেরা। এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর ক্যাম্পও খুব কম। অবাধে সন্ত্রাস চালায় মাওবাদীরা। জনৈক পদস্থ অফিসার বলেছেন, তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলে জওয়ানদের অবিশ্রান্ত গুলিবৃষ্টির মুখে ঠেলে দেয় মাওবাদীরা। লাইট মেশিন গান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বুলেট ছুটে আসে। সেইসঙ্গে কম তীব্রতার আইইডি বিস্ফোরণ। জওয়ানরা কোনওক্রমে বড় গাছের আড়ালে লুকিয়ে পাল্টা জবাব দেন। কিন্তু একটা সময় তাদের গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসে।
আহত জওয়ানদের উদ্ধার করে এলাকার বাইরে নিয়ে যেতে হেলিকপ্টার পাঠানোর বার্তা যায়। কিন্তু গুলিযুদ্ধ থামার পর প্রথম হেলিকপ্টারটি ঘটনাস্থলে নামতে নামতে বিকাল ৫টা পেরিয়ে যায়।
নিহত ২২ জওয়ানের মধ্যে সিআরপিএফের ছিলেন আটজন, যাঁদের সাতজনই কোবরা কম্য়ান্ডো, একজন বস্তারিয়া ব্যাটালিয়নের। বাকিরা ডিআরজি ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের। এক সিআরপি ইন্সপেক্টরের এখনও খবর নেই। নিহত জওয়ানদের প্রায় ২ ডজন অত্যাধুনিক হাতিয়ারও মাওবাদীরা লুঠ করেছে বলে খবর। ট্রাক্টর ট্রলিতে চাপিয়ে নিহত সঙ্গীদের দেহ নিয়ে গিয়েছে মাওবাদীরা। ়
সরকারি কর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ জওয়ানই বুলেটের ঘায়ে নিহত হয়েছেন। একজন সম্ভবত অজ্ঞান হয়ে যান, পরে ডিহাইড্রেশনের ফলে মারা যান। নিরাপত্তা জওয়ানরা, বিশেষ করে কোবরা কম্যান্ডোরা বীরের মতো লড়াই চালান, নিশ্চিত করেন যে, মাওবাদীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বেশিক্ষণ হামলা চালাতে পারবে না।
এদিকে মাওবাদীদের কড়া বার্তা দিয়ে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল নিরাপত্তাবাহিনীর মনোবল তুঙ্গে রয়েছে, তারা মাওবাদীদের ডেরায় তাদের কঠিন লড়াইয়ের মুখে ফেলেছে বলে জানিয়ে দাবি করেছেন, ওদেরও প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More