সুশান্তের বায়োপিক হোক চান না অভিনেতার বাবা কেকে সিং, নির্মাতাদের নোটিশ দিল দিল্লি আদালত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও গডফাদারের সাহায্য ছাড়াই, টেলিভিশন থেকে বড় পর্দায় ধীরে ধীরে নিজের জায়গা পাকা করে নিচ্ছিলেন তিনি। নিজের দক্ষতা দিয়েই সাফল্যকে ছুঁয়ে দেখার সিঁড়িতে তিনি চড়ে বসেন! কিন্তু হঠাৎ মাঝপথে থেকে যায় সেই যাত্রা। অকালেই তিনি পাড়ি দেন না ফেরার দেশে। গ্রহ নক্ষত্ররা যাঁর বন্ধু ছিল, সেই মহাবিশ্বেই যাত্রা করেন অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। গতবছর তাঁর রহস্য মৃত্যু গোটা দেশের সিনেমাপ্রেমী মানুষদের মনে কেটে ছিল দাগ, যা এখনও দগদগে হয়ে রয়েছে।

বলিপাড়ার অনেকেই চেয়েছেন প্রয়াত অভিনেতার জীবনী নিয়ে তৈরি করতে বায়োপিক। কিন্তু এই প্রস্তাবে মত নেই সুশান্তের বাবা। তিনি ছেলের বায়োপিকের ওপরে নিষেদ্ধাজ্ঞার আর্জি জানান, আর তার পরেই নির্মাতাদেরকে লিগ্যাল নোটিশ দেয় দিল্লি আদালত।

সুশান্তের বাবার আবেদনে বলা হয়েছে, সুশান্তের মৃত্যু-তদন্ত এখনও বিচারাধীন। যে ছবিটিকে নিষেধ করার কথা বলা হয়েছে, তা আদপে ঘটনার সাক্ষী এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের প্রভাবিত করতে পারে। এমনকি জনসাধারণের মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ায় অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠরাই এই ছবির পিছনে রয়েছেন বলে সুশান্তের বাবা মনে করছেন। আবেদনপত্রের দাবি, অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবেই এই ছবিটি বানানো হচ্ছে।

কেকে সিংহের আইনজীবী অক্ষয় দেব বলেছেন, ‘‘বিচারাধীন তদন্তকে যাতে প্রভাবিত না করতে পারে, তাই কোনও প্রকার চলচ্চিত্র বা বই প্রকাশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চায় সুশান্তের পরিবার।’’

২০২০ সালের ১৪ জুন সুশান্তের বান্দ্রার আবাসনে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তার পর থেকে উত্তাল গোটা দেশ। প্রশ্ন ওঠে, আদৌ কি অভিনেতার মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা? নাকি এমন সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে কারও প্ররোচনা? এমনকি হত্যার প্রসঙ্গও ওঠে সে সময়ে। একাধিক পরিচালক এই বিষয়ে চিত্রনাট্য লিখতে চেয়েছিলেন। এমনকি সুশান্তের মতো দেখতে ‘টিকটক’ তারকাকে অভিনেতার ভূমিকায় দেখা যাবে, এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল।

কিন্তু সুশান্তের পরিবার সে বিষয়ে আপত্তি জানাতে আদালতের দ্বারস্থ হল। প্রয়াত অভিনেতার বাবা কেকে সিংহ দিল্লি উচ্চ আদালতে সুশান্তের বায়োপিকে নিষেধাজ্ঞা জারি করার আবেদন জানালেন। তারই ভিত্তিতে নির্মাতাদের নোটিস ধরালেন বিচারপতি মনোজ কুমার ওহরি। যেখানে বলা হয়েছে, অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনের কোনও তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। এতে অভিনেতা ও তাঁর পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হবে। সুশান্তের পরিবারের অনুমতি ছাড়া কোনও চলচ্চিত্র বা লেখা প্রকাশ করা যাবে না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More