বুধবারের মধ্যেই উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে সাইক্লোন নিভার, আশঙ্কায় প্রহর গুনছে চেন্নাই

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণে গত দু’দিন ধরে সৃষ্টি হয়েছে একটি নিম্নচাপ। সোমবার সকাল সাড়ে ন’টায় ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি অবস্থান করছে চেন্নাইয়ের দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বে। আরও ঘনীভূত হয়ে তা সাইক্লোনের রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। সম্ভবত আগামী ২৫ নভেম্বর সেই সাইক্লোন তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির উপকূলে কারাইকল ও মামল্লাপুরমের মাঝামাঝি কোনও জায়গা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে।

নিম্নচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হবে ‘নিভার’। ইরান ওই নাম দিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং উত্তর-পূর্ব শ্রীলঙ্কায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করবে।

তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কারাইকল অঞ্চলে জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। সেখানে ২৫ নভেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রয়ালসীমা, তেলঙ্গানা, দক্ষিণ কর্নাটক ও অন্ধ্রের উপকূলে জারি হয়েছে অরেঞ্জ অ্যালার্ট। সেখানে ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মৎসজীবীদের বুধবার পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হেনেছিল সাইক্লোন উমফান। তারপরে চলতি বছরে বঙ্গোপসাগরে দ্বিতীয় সাইক্লোন সৃষ্টি হতে চলেছে।

২০ মে এরাজ্যে আছড়ে পড়ে ঘুর্ণীঝড় উমফান। তার আগেই সুন্দরবন অঞ্চলের বাসিন্দাদের ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল প্রশাসন। ঘুর্ণিঝড়ের পরে দীর্ঘদিন গ্রামের পর গ্রাম ছিল জলের তলায়। লক্ষ লক্ষ মানুষ ছিলেন ত্রাণশিবিরে।

উমফানের এক মাস পরেও তাই ঘরে ফিরতে পারেননি উত্তর চব্বিশ পরগনার সুন্দরবনের উমফান বিধ্বস্ত বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ। দুর্যোগের পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনও সুরাহা না দেখে আস্তে আস্তে বিপর্যস্ত এলাকার মানুষেরা শহরমুখী হয়েছিলেন। যাঁদের একটু আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তাঁরা বসিরহাট- দেগঙ্গা- বারাসত এমনকি রাজারহাট- নিউটাউন-দমদম এলাকাতে ঘর ভাড়া করে থাকছিলেন।

ভবানীপুর, হাসনাবাদ, ন্যাজাট, বাউনিয়া, রূপমারি, স্যান্ডেলের বিল, দুর্গা মণ্ডপ, দুলদুলি, ভাণ্ডারখালি, যোগেশগঞ্জ, গোবিন্দকাটি, ডাকবাংলো, শামশেরনগর, কালীতলা, বামনিয়া, হেমনগর বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের একটাই দাবি ছিল, তৈরি করা হোক কংক্রিটের নদী বাঁধ। যা সুন্দরবনের আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করবে।

উমফানের পর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাপের সঙ্গে সহাবস্থান করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু সাপের কামড় ও জলবাহিত নানা রোগ দেখা দেওয়ায় পেরে ওঠেননি। বাসিন্দারা বলছেন, ‘‘গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, ব্লক ও জেলা পরিষদ কোন স্তরেই অভাব অভিযোগ ও চরম দুর্দশার কথা বলে সমাধান পাইনি। রাজ্য সরকারের মাধ্যমে কেন্দ্রের দেওয়া আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের টাকাও মেলেনি এখনও। শান্তিতে থাকার মতো মাথা গোঁজার নিশ্চিন্ত আস্তানা নেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More