সায়নীর বিরুদ্ধে এফআইআর করলেন তথাগত রায়, টুইট-যুদ্ধের জের গড়াল পুলিশের দুয়ারে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছিল টুইটারে বাক্যযুদ্ধ, ৪৮ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই সেটাই হয়ে গেল আইনি লড়াই। অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। সায়নী হিন্দুধর্মের অবমাননা করেছেন বলে দাবি তাঁর। সেই মর্মেই চলেছিল টুইট লড়াই। এবার সায়নীর বিরুদ্ধে সেই অভিযোগই কলকাতা পুলিশের কাছে দায়ের করলেন তথাগত।

আজ রবিবার, অভিযোগপত্রের ছবি টুইটারে শেয়ার করে তথাগত রায় লেখেন, “সায়নী ঘোষ, আপনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অনেকেই এই টুইটে তথাগতকে সমর্থন করেছেন, এক ব্যক্তি জানিয়েছেন তিনিও মামলা করবেন সায়নীর বিরুদ্ধে। অনেকে আবার সায়নীর পাশেও দাঁড়িয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। সেদিন সকাল থেকেই টুইটারে বাক-যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তথাগত রায় ও সায়নী ঘোষের মধ্যে। সেই টুইটের শুরু ছিল, তার আগের দিন একটি সংবাদ চ্যানেলে সায়নী ঘোষের বক্তব্য। সেখানে অতিথি বক্তা হিসেবে একটি বিতর্কে অংশগ্রহণ করে তিনি বলেছিলেন,  ‘‘যে ভাবে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানটিকে রণধ্বনিতে পরিণত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভুল। উপরন্তু, এটি বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যেও পড়ে না। ঈশ্বরের নাম ভালবেসে বলা উচিত।’’  এই নিয়েই টুইটারে লড়তে থাকেন দুই পক্ষ। শেষে তথাগত রায় লেখেন, “আর পারছি না, ক্ষ্যামা দে মা লক্ষ্মী।” এখানেই শেষ হয় টুইট।

কিন্তু আসলে যে শেষ হয়নি, তারই প্রমাণ এ দিনের এফআইআর। সায়নীরও বিশ্বাস, সাম্প্রতিক টুইট যুদ্ধের জেরেই প্রতিশোধী আচরণ করছেন তথাগত।

তথাগত রায় কী অভিযোগ এনেছেন অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে?

জানা গেছে,২০১৫ সালে সায়নী ঘোষের টুইটার হ্যান্ডল থেকে একটি ছবি শেয়ার করা হয়েছিল, যাতে একটি শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরাচ্ছিলেন এক মহিলা। তাঁকে এইডস সচেতনতার বিজ্ঞাপনের আইকন ‘বুলাদি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ছবিটিতে লেখা ছিল, ‘বুলাদির শিবরাত্রি’। সায়নীর শেয়ার করা এ ছবির ক্যাপশনে ছিল, ‘এর থেকে বেশি কার্যকরী হতে পারেন না ঈশ্বর’।

এই ছবিটিকেই অভিযোগের হাতিয়ার করেছেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। তাঁর অভিযোগ, হিন্দু ধর্মের পবিত্রতা নষ্ট করছেন সায়নী। তিনি শিবের ভক্ত। ১৯৯৬ সালে শিবের পুজো দেওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা করেছিলাম। অভিনেত্রী সায়নীর এই ছবিটি দেখে তাঁর ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

যদিও এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সায়নী ঘোষ। তিনি নিজের টুইটার প্রোফাইল থেকে টুইট করে জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। পরে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার হলে তিনি ছবিটি ডিলিটও করেন। এই হ্যাক হওয়া এবং ছবি পোস্ট হওয়ার কথা আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন সায়নী। তবে তাতে যে শেষেরক্ষা হয়নি, তা এদিনের ঘটনাতেই স্পষ্ট।

সায়নী যদিও জানিয়েছেন তিনি তাঁর বক্তব্য থেকে সরছেন না, এও জানিয়েছেন আইন ও প্রশাসনকে সবরকম ভাবে সহযোগিতা করবেন তিনি। এখন এই অভিযোগের জল কোথায় গড়ায়, সেটাই দেখার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More