রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৪

প্রেমিকের কাছে পালাতে গিয়ে পথ হারাল কিশোরী, ধর্ষণ করল অটোচালক ও তার বন্ধু

দ্য ওয়াল ব্যুরো : লুধিয়ানা থেকে পালিয়ে দিল্লি পৌঁছতে চেয়েছিল ১৫ বছরের এক কিশোরী। ভুল করে সে পৌঁছায় অমৃতসরে। সেখানে সে এক অটো চালক তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে যায় হোটেলে। সে আর তার এক বন্ধু কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে চড়িয়ে দেয় লুধিয়ানার একটি বাসে। বাসে ওঠানোর আগে তাকে শাসায়, ধর্ষণের কথা কাউকে বললে বিপদ হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরীর বাড়ি লুধিয়ানার কিলা মহল্লা অঞ্চলে। বছরখানেক আগে তাদের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে সাহিল নামে একটি ছেলে আসে। তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। মেয়েটি জানিয়েছে, তারা সিদ্ধান্ত নেয়, বিয়ে করবে। সাহিল তাকে বিয়ের জন্য ৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে আসতে বলে।

মেয়েটি বাড়ি থেকে ১৫০০ টাকা চুরি করে পালায়। লুধিয়ানা স্টেশন থেকে একটি ট্রেনে ওঠে। কিন্তু তা দিল্লির ট্রেন ছিল না। ট্রেনে চড়ে পরদিন সে পৌঁছায় ফিরোজপুরে। সেদিন রাতে এক ভদ্রলোক তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরদিন সে ফিরোজপুর থেকে আর একটি ট্রেনে চড়ে। এবারও সে ভুল ট্রেনে ওঠে। ট্রেনে চড়ে সে পৌঁছায় অমৃতসরে।

মেয়েটি জানিয়েছে, অমৃতসরে সে সাহিব সিং নামে এক অটোচালককে জিজ্ঞাসা করে, দিল্লি যাওয়ার ট্রেন কোথায় পাওয়া যাবে। সাহিব তাকে বলে, কাল সকালের আগে দিল্লি যাওয়ার ট্রেন নেই। অটোচালক মেয়েটিকে একটি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে সাহিব ও তার বন্ধু বাবা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পরদিন মেয়েটি লুধিয়ানায় পৌঁছে ডিভিশন ফোর থানায় অভিযোগ করে।

তদন্তকারী অফিসার শমসের সিং বলেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬, ৩৪ এবং পকসোর সেকশন ফোরে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা খুব শীঘ্রই ধরা পড়বে।

২০১২ সালে এদেশে প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্স অ্যাক্ট বা পকসো তৈরি হয়। ১৮-র কম বয়সী ছেলেমেয়েদের  যৌন হেনস্তা, যৌন হয়রানি ও পর্নোগ্রাফিতে ব্যবহার করলে ওই আইনে শাস্তি দেওয়া হয়। এই ধরনের মামলার বিচার হয় বিশেষ আদালতে। বিচারের সময় যাতে নির্যাতিতের কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হয়। বিচারের সময় শিশুটির বাবা-মা অথবা সে নির্ভর করে এমন কেউ আদালতকক্ষে উপস্থিত থাকে।

পকসোতে বলা আছে, যদি কোনও ব্যক্তি শিশু নির্যাতন সম্পর্কে জেনেও গোপন করে যান, তাহলে তাঁর ছয়মাস জেল অথবা ফাইন হবে। নির্যাতিত শিশুটির বয়ান নিতে হবে ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে।

Shares

Comments are closed.