রাজ্যে লকডাউন হবে কিনা, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, তেলঙ্গানা প্রশাসনকে বলল হাইকোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় সোমবারই দিল্লিতে শুরু হচ্ছে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে তেলঙ্গানা সরকারকেও লকডাউন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলল হাইকোর্ট। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা। হাইকোর্টের বিচারপতি এদিন বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লকডাউন অথবা কার্ফু নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তেলঙ্গানা সরকারকে। না হলে হাইকোর্ট নির্দেশ দেবে।” রাজ্যে কোভিড পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়েছে হাইকোর্ট।

সোমবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় তেলঙ্গানায় কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০০৯ জন। মারা গিয়েছেন ১৪ জন। কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কোন ওয়ার্ডে কতজন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। ক’জনের আরটি পিসিআর টেস্ট করা হয়েছে্‌ তাও জানাতে হবে।

সোমবার দুপুরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘোষণা করেন, এদিনই রাত ১০ টা থেকে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে লকডাউন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরে মদের দোকানগুলির বাইরে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। খান মার্কেট, কনট প্লেসের গোল মার্কেট এবং শহরের আরও কয়েকটি এলাকায় মদের দোকানের সামনে জমে ভিড়। টুইটারে অনেকে মদের দোকানের সামনে ভিড়ের ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেননি। মাস্কও পরেননি অনেকে।

দিল্লির শিবপুরী অঞ্চলে এক মদের দোকানের বাইরে এক মহিলার মন্তব্য নিয়ে আলোড়ন শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি বলেছেন, “ইঞ্জেকশন নিয়ে লাভ হবে না। অ্যালকোহলে কাজ হবে।”

দেশের যে শহরগুলি কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে দিল্লি অন্যতম। এদিন রাত ১০ টা থেকে আগামী সোমবার ভোর পাঁচটা পর্যন্ত রাজধানীতে লকডাউন থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, দিল্লিতে বড় সংকট এড়াতেই ছ’দিন লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সময় কেবল অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা চালু থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি এখন লকডাউন জারি না করি, তাহলে হয়তো আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে। দিল্লিবাসীদের রক্ষা করতে সরকার দায়বদ্ধ।” পরে তিনি বলেন, ছ’দিনের লকডাউনে আমরা হাসপাতালে আরও বেশি বেডের ব্যবস্থা করতে পারব। অক্সিজেনের সরবরাহও বাড়ানো যাবে।

কেজরিওয়াল জানান, দিল্লির হাসপাতালগুলিতে আইসিইউয়ের বেড প্রায় নেই বললেই চলে। অক্সিজেনের সরবরাহও উদ্বেগজনক হারে কমে গিয়েছে। একটি প্রাইভেট হাসপাতালে শনিবার রাত তিনটের সময় অক্সিজেন ফুরিয়ে গিয়েছে। ফলে রোগীদের অবস্থা হয়ে উঠেছে শোচনীয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More