বাড়ির সবার করোনা, বাধ্য হয়ে গাছবাড়িতেই ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ তেলেঙ্গানার তরুণের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খোলা চোখে মনে হবে ‘গাছবাড়ি’। দিব্যি পরিপাটি সাজানো বালিশ-তোষক। রয়েছে টুকটাক খাবারের বন্দোবস্তও। গাছের ডালে ঝোলানো রশি আর বালতি। যখনই প্রয়োজন পড়ছে, নীচ থেকে জিনিসপত্র উপরে চালান হয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু এরপর খোঁজ নিতে গিয়েই বেরিয়ে আসছে আসল তথ্য। আপাত-শৌখিন এই গাছবাড়ি আদতে আইসোলেশন ওয়ার্ড। পরিবারের আর সবাই করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ছোট ছেলে গাছেই আস্তানা বসাতে বাধ্য হয়েছে।

জায়গার নাম— কোঠানান্দিকোন্ডা। তেলেঙ্গানার নালাগোন্ডা জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম। মেরেকেটে ৩০০ পরিবারের বাস। আর দায়ে পড়ে হলেও এই অভিনব ‘ওয়ার্ডে’র চিন্তা যার মাথায় এসেছে, তার নাম শিবা। বছর আঠারোর এই তরুণ গ্র‍্যাজুয়েশনের ছাত্র। করোনার জেরে কলেজ বন্ধ হওয়ায় সম্প্রতি বাড়ি আসে সে। তারপরই একে একে সবার কোভিড ধরা পড়ে। বাড়িতে ঠাঁই নেই। এতদিন একটিমাত্র ঘরে কোনওমতে চারজন মিলে ঠাসাঠাসি করে থাকা হত। কিন্তু টেস্টের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই স্বাস্থ্যকর্মীরা ভিজিটে এসে জানিয়ে দেয়, শিবাকে অন্য কোথাও যেতে হবে। নইলে তারও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ষোলো আনা।

কিন্তু বললেই আর উপায় বেরোয় না। গ্রামের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ৫ কিলোমিটার দূরে। সেখানে আইসোলেশন বেড নেই। শহরে হাসপাতাল আছে বটে। কিন্তু সেটাও প্রায় ৩০ কিমি দূরে। বাবা-মা-বোনকে ছেড়ে সেখানে গিয়ে থাকা যায়?

অনেক ভেবেচিন্তে মাথা খাটাতে থাকে শিবা। তখনই গাছবাড়ির প্ল্যান আসে। নিরুপায় চেষ্টা। তবু পরিবার থেকে নিজেকে আলাদা করতে পেরে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে এই সপ্রতিভ তরুণ। পরে জানিয়েছে, ‘এখানে কাছেপিঠে কোনও আইসোলেশন ওয়ার্ড নেই। দু’দিন আগে তফশিলি জনজাতির একটি হোস্টেলকে কোভিড সেন্টার বানানো হয়েছে। কিন্তু এ ছাড়া আর হাসপাতাল নেই। আমার এখানে থাকা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না।’

কষ্ট শুধু পরিবার ছেড়ে থাকার নয়, অসহযোগিতারও। ইতিমধ্যে বাড়ির আর সবাই করোনা আক্রান্ত হওয়ায় শিবাকেও গ্রামবাসীরা কোভিড পজিটিভ বলে ধরে নেয়। মেলামেশা তো দূর, সামাজিকভাবে একঘরে করে ফেলে কেউ কেউ। সাহায্যের হাতও এগিয়ে আসে না। আজকাল গ্রামের সরপঞ্চের নির্দেশে বাড়ির ছায়াটুকু কেউ মাড়ায় না।

যদিও এখন এতশত নিয়ে ভাবতে রাজি নয় শিবা। ১১ মে ছিল জাতীয় প্রযুক্তি দিবস। সেদিনই নতুন করে নিজের অস্থায়ী ঠিকানাকে নয়া চেহারা দিয়েছে সে। এখন গুগল ম্যাপেও জ্বলজ্বল করছে শিবার গাছবাড়ি, থুড়ি ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’!

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More