ছিল আবর্জনা, হয়ে গেল রুমাল! রান্নাঘরের ডাস্টবিনেই লুকিয়ে পরিবেশ রক্ষার ম্যাজিক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রান্নাঘরের স্যাঁতস্যাতে আবর্জনা নিয়ে সমস্যায় পড়েন অনেকেই। ফেলবেন না জমিয়ে রাখবেন বুঝে উঠতে পারেন না। এদিকে সাধের গাছগুলোর জন্য ভাল সার তৈরি করার লোভও ছাড়া যায় না। ফলে জমতে থাকে আনাজ। দুর্গন্ধে ভরে যায় চারদিক। শেষমেশ বাড়ির লোকজনের টেকা দায় হয়ে উঠলে হয়ত ফেলেই দিতে হয় সবটা ধরে আস্তাকুঁড়ে।

সম্প্রতি তেলেঙ্গানার বাসিন্দা, ৫০ বছরের গৃহিণী অরুণজ্যোতি লোখান্ডায় হেঁসেলের আবর্জনা রাখার সমস্যা থেকে মুক্তির পথ বাতলালেন। এতে সার তৈরি যেমন হবে, তেমনি হবে আবর্জনার সদগতিও। দূষণ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করবে এই পদ্ধতি। কী সেই উপায়? জেনে নেওয়া যাক।

প্রতিদিনের গৃহস্থালি থেকে উৎপন্ন বর্জ্যের পরিমাণ নেহাত কম নয়। রান্নাঘরের তরি-তরকারির খোসা, আধখাওয়া ফলের টুকরো, ফল ও সবজির বীজ ইত্যাদি স্তূপাকারে জমতে থাকলে তা পাহাড় প্রমাণ হয়ে পড়ে। এগুলোকে না জমিয়ে তখুনি থেঁতো করে ফেলার পরামর্শ দিলেন অরুণজ্যোতি। রান্নাঘরের বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে অভিনব এক বীজ-ন্যাপকিন বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানালেন সেই চমকপ্রদ উদ্ভাবনের বৃত্তান্ত।

জানা যায়, তেলেঙ্গানার নালগণ্ডা অঞ্চলের বাসিন্দা অরুণজ্যোতি ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল। মা তাঁকে হাতে ধরে মাটির উনুন গড়তে শেখানোর পর মাঝেমধ্যেই মাটি, কাগজ প্রভৃতি দিয়ে রকমারি বস্তু বানিয়ে ফেলতেন তিনি।

এরপর স্নাতক হয়েছেন কস্টিউম ডিজাইনে। পোশাক তৈরির দোকান চালান স্বামীর সঙ্গে। পাশাপাশি হাতে কলমে কাজ শেখানোর জন্য ওয়ার্কশপের আয়োজন করতেন প্রায়ই। সেখানে দুঃস্থ শিশুদের জন্য থাকত বিনামূল্যে শিখনের ব্যবস্থা।

সম্প্রতি অরুণজ্যোতি আয়োজিত ফেলে দেওয়া কাগজ থেকে হ্যান্ডমেড পেপার তৈরির একটি ওয়ার্কশপ বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। তাঁর কথায়, “২০১৪ থেকেই রান্নাঘরের আবর্জনা দিয়ে গাছের সার বানাই। একটা আবর্জনা পাত্র ছিল রান্নাঘরে, কিন্তু ছুঁচোর উৎপাতে সেসব রাখা দায়। দুর্গন্ধের জন্য বাড়ির লোকেও অভিযোগ করতে লাগল। শেষে উপায় বের করলাম। শাক-সবজির ফেলে দেওয়া খোসা পিষে একটা মণ্ড তৈরি করে প্লাস্টিকের শিটে বিছিয়ে দিলাম। তারপর তা বেটে সমান করে কাগজ বানিয়ে ফেললাম।”

সেই কাগজ রুমালের আকারে কেটে রোদে শুকিয়ে রাখতেন। প্রয়োজনে ভেঙে ভেঙে গাছের গোড়ায় দিতেন। গাছের পুষ্টিও এতে দ্বিগুণ হল। আবর্জনা জমিয়ে রাখার কোনও সমস্যাই থাকল না আর। তবে কতটা সহজ ছিল এই পদ্ধতি?

অরুণজ্যোতি জানিয়েছেন, প্রথমবারেই সফল হননি তিনি। বর্জ্য নির্মিত রুমাল প্রথমবার রোদে শুকনোর পরই ফেটে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়। এরপর ঢেঁড়সের কেটে ফেলা বোঁটাগুলো বেছে নিয়ে মিশিয়ে দিলেন আবর্জনার মণ্ডে। একটা আঠা ভাব আসায় মণ্ড আরও থকথকে হল। এইবার শুকিয়ে যে রুমাল বানালেন তা আর ভাঙল না। জমাট বেঁধে রুমালের মতোই রইল।

এরপর আরও একধাপ এগিয়ে সেই রুমালের ওপর ফেলে দেওয়া ফল এবং সবজির বীজ বীজ পুঁতে দিলেন অরুণজ্যোতি। আশ্চর্যভাবে সেই রুমালের মেঝেতেই গজাল নতুন গাছ। জানা গেছে, সেই বীজের রুমালই মাটিতে বসিয়ে দেন এখন অরুণজ্যোতি। মানুষজনকে উপহারও দেন।

অরুণজ্যোতির এই অভিনব উদ্যোগের প্রশংসা করেছে সকলে। পরিবেশবান্ধব নতুন বীজ রুমাল উদ্ভাবনের জন্য মানুষ এখন তাঁর নাম করে। তেলেঙ্গানা রাজ্য উদ্ভাবন গোষ্ঠী অরুণজ্যোতির বীজ-রুমাল বানানোর পদ্ধতি ছবি সহ জনগণের কাছে তুলে ধরল আজ। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে তাঁর পন্থা অবলম্বনে কলুষমুক্ত পরিবেশ ফিরে পাবেন দেশবাসী।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More