পুলওয়ামায় লাগাতার সেনা-সংঘর্ষে খতম এক জঙ্গি, দুই সাধারণ মানুষ জখম জঙ্গিগুলিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বড় সাফল্য ভারতীয় সেনার। পুলওয়ামার পাম্পোর এলাকায় এনকাউন্টারে খতম আরও এক জঙ্গি। সূত্রের খবর, আরও দুই জঙ্গি কব্জায় এসেছে নিরাপত্তা বাহিনীর। জঙ্গিদের পাল্টা আক্রমণেও জখম দুই সাধারণ মানুষ। এখনও এনকাউন্টার চলছে এলাকায়। দক্ষিণ কাশ্মীরের এই ঘটনা জঙ্গিদমনে ভারতীয় সেনাকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল বলেই মনে করছেন অনেকে।

রবিবারই দীর্ঘ দিন চেষ্টার পরে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা হয় জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের অপারেশন চিফ সইফুল্লা ওরফে গাজি হায়দরকে। তার আগে মে মাসেই পুলওয়ামার আরও এক এনকাউন্টারে হিজবুলের আরও এক অপারেশনাল কম্যান্ডার রিয়াজ নাইকো খতম হয়েছিল। তখনই সইফুল্লাকে নতুন চিফ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। কয়েক মাসের মাথায় ফের মিলেছে সাফল্য।

এর পরে গতকাল সন্ধেয় আগাম খবর পেয়ে পাম্পোর এলাকায় তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী। লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা আক্রমণ করতে শুরু করলে সেনা আর জঙ্গিদের মধ্যে এনকাউন্টার শুরু হয়। চারগিক থেকে এলাকা ঘিরে ফেলে সেনা। মরিয়া গুলি চালায় জঙ্গিরা, এর পরে সেনাও জঙ্গিদের গুলির যোগ্য জবাব দেয়। নিহত হয় এক জঙ্গি। আরও দুই জঙ্গিকে ঘিরে রেখেছে বাহিনী। জঙ্গিগুলিতে আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকালই পুলওয়ামার ত্রাল শহরে হানা দেয় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ। এর জেরে এক সাধারণ দোকানদার নিহত হন ও তিন জন আহত হন। আরও একটি ঘটনায় পুলওয়ামারই ওয়ানপোরাতে জঙ্গিদের গুলিতে আহত হয়েছেন পেশায় গাড়ি চালক এক সাধারণ মানুষ। এছাড়াও পুলওয়ামার পাম্পোরে আরও দু’‌টি সংঘর্ষে দু’‌জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

এর পরেই ওই এলাকা সেনাবাহিনী ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান চালায়। এক জঙ্গিকে নিকেশ করার পরে সেনাবাহিনী গোটা এলাকা সিল করে দিয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের ডিজিপি দিলবাগ কয়েক দিন আগেই বলেছেন, গত এক বছরে কাশ্মীরে অন্তত ২০০ জন জঙ্গিকে খতম করা সম্ভব হয়েছে। যাদের মধ্যে দু’জন প্রতাপশালী হিজবুল কম্যান্ডার।

এদিকে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে পাক মদতপুষ্ট প্রায় আড়াইশো জঙ্গি। সন্ত্রাসবাদীদের নিয়ন্ত্রণরেখা পার করিয়ে দিতে লাগাতার সংঘর্ষ বিরতি ভেঙে চলেছে পাক সেনারা। জানুয়ারি থেকে অগস্টের মধ্যে অন্তত ২৪২ বার গোলাগুলি চলেছে নিয়ন্ত্রণরেখায়। পয়লা জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৮৬ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে সীমান্তে। শীতের আগে সীমান্ত পেরিয়ে উপত্যকায় ঢুকে পড়ার বড়সড় চেষ্টা চালাতে পারে জঙ্গিরা। সেনা সূত্র জানাচ্ছে, জঙ্গি অনুপ্রবেশ রোখার জন্য সীমান্তে বিশেষ স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে নতুন করে সেনা পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ৩৪৩.৯ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সেনার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ করা হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More