ভারতের ‘অগ্নিপুত্রী’ টেসি থমাস, বিশ্ব চেনে ‘মিসাইল ওম্যান’ নামে

তাঁকে আবিষ্কার করেছিলেন, 'মিসাইল ম্যান' ডঃ এপিজে আব্দুল কালামই।

রূপাঞ্জন গোস্বামী

বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশক তখন শুরু হয়েছিল। মহাকাশে শক্তি প্রদর্শনের লড়াই চলছিল আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে। মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন ডঃ বিক্রম আম্বালাল সারাভাই। ১৯৬২ সালে গঠন করেছিলেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কমিটি অফ স্পেস রিসার্চ।

আমেরিকা থেকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন বিজ্ঞানী একনাথ বসন্ত চিটনিসকে। মহাকাশে ভারতের প্রথম রকেটটি উৎক্ষেপণের সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল। প্রজেক্টের বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিজে বেছে নিয়েছিলেন ডঃ সারাভাই। নির্বাচিত দলটিতে ছিলেন তরুণ বিজ্ঞানী এ.পি.জে. আবদুল কালামও।

থুম্বায় এপিজে আব্দুল কালাম ও ডঃ বিক্রম সারাভাই

সমুদ্রতট সংলগ্ন এলাকায় খোঁজা শুরু হয়েছিল রকেট উৎক্ষেপণের উপযুক্ত স্থান। তন্ন তন্ন করে খুঁজে অবশেষে পাওয়া গিয়েছিল, সারি সারি নারকেল গাছ ও তালপাতা দিয়ে ছাওয়া মৎস্যজীবীদের গ্রাম ‘থুম্বা’। আরব সাগরের তীরে, নারকেল গাছের ছায়া ঘেরা গ্রামে,গড়ে উঠেছিল ‘থুম্বা ইকুয়েটরিয়াল রকেট লঞ্চিং স্টেশন‘(TERLS)।

২১ নভেম্বর, ১৯৬৩ সাল। সেই দিন বিকেল ছ’টা পঁচিশ মিনিটে থুম্বার বুক থেকে উল্কাগতিতে অন্তরিক্ষের পথে ছুটে গিয়েছিল ভারতের প্রথম রকেট। মহাকাশের বুকে গিয়ে লিখেছিল ভারতের নাম। লঞ্চ প্যাড ছেড়ে যাওয়া নাইকি-অ্যাপাচে সাউন্ডিং রকেটের দিকে তাকিয়েছিলেন তরুণ এ.পি.জে. আবদুল কালাম। পশ্চিম আকাশে সেদিনের মত বিদায় নিচ্ছিল ক্লান্ত সূর্য। অন্যদিকে ভারতের মহাকাশ গবেষণার আকাশে দেখা দিয়েছিল ভোরের সূর্য।

থুম্বায় ভারতের প্রথম রকেটের যন্ত্রাংশ জুড়ছেন আব্দুল কালাম।

নারীশক্তির বিজয়ের সংকেত দিয়ে গিয়েছিল সেই ১৯৬৩ সাল। কারণ ১৯৬৩ সালের ১৬ জুন ভোস্তক-৬ মহাকাশযানে চড়ে মহাকাশে গিয়েছিলেন পৃথিবীর প্রথম মহিলা মহাকাশচারী ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা। ১৯৬৩ সালেই থুম্বা রকেট লঞ্চিং স্টেশন থেকে মাত্র ১৪৭ কিলোমিটার দূরে জন্ম নিয়েছিল এক শিশু কন্যা। থুম্বা রকেট লঞ্চিং স্টেশনের তরুণ বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম কল্পনাই করতে পারেননি, তাঁরই ভাবশিষ্যা থুম্বা থেকে মাত্র ১৪৭ কিলোমিটার দূরে আলেপ্পিতে সবে জন্ম নিয়েছেন। ‘মিসাইল ম্যান’ কালামের জাদুস্পর্শে পরবর্তীকালে যিনি হয়ে উঠবেন ভারতের ‘মিসাইল ওম্যান’।

ডঃ টেসি থমাস ভারতের মিসাইল ওম্যান

ভারতের অন্যতম সুন্দর জায়গা হল কেরালার আলেপ্পি। একদিকে ঘন নীল আরব সাগর, অন্যদিকে নয়নাভিরাম ব্যাকওয়াটার। অসংখ্য নদী, খাঁড়ি,খাল ও উপহ্রদের গায়ে নারকেল গাছের ছায়া ঘেরা ছোট ছোট গ্রাম। লাল টুকটুকে টালির ছাদওয়ালা বাড়ি। চওড়া সিমেন্টের দালান। যানবাহন বলতে লঞ্চ, বোট বা দেশি নৌকা। গ্রামগুলির বেশিরভাগ মানুষই খ্রিস্টান ও মৎস্যজীবী। দেশ বিদেশের পর্যটকেরা ছুটে আসেন আলেপ্পিতে। প্রাণভরে আলেপ্পির সৌন্দর্য পান করে ফিরে যান দেশে। সেই কবে থেকে আলেপ্পিকে ইউরোপীয়রা চেনে ‘ভেনিস অব দ্য ইস্ট’ নামে।

সুন্দরী আলেপ্পি

সুন্দরী আলেপ্পির থাইপ্পারাম্বিল নামের সুন্দর এক গ্রামে, ১৯৬৩ সালের এপ্রিল মাসে জন্ম নিয়েছিলেন টেসি থমাস। মাদার টেরেসার অনুগামী ছিল খ্রিস্টান পরিবারটি। মাদার টেরেসার নামেই, সদ্যজাত শিশু কন্যার নাম রাখা হয়েছিল টেসি। বাবা টি টি থমাস ছিলেন ব্যবসায়ী (মতান্তরে আইএফএস অফিসার)। পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলেকে একাই সামলাতেন মা কুঞ্জাম্মা থমাস। সর্বদা কড়া নজর রাখতেন ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ওপর।

টেসির বয়স যখন মাত্র তেরো। বাবার স্ট্রোক হয়েছিল। শরীরের বাম দিক সম্পূর্ণরূপে অবশ হয়ে গিয়েছিল। পরিবারে নেমে এসেছিল চরম অর্থ সংকট। তবুও ছেলেমেয়েদের শিক্ষার দিকে কোনও ত্রুটি রাখেননি টেসির মা। এক নতুন লড়াই শুরু করেছিলেন কুঞ্জাম্মা। যে লড়াইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছিল মেয়ে টেসির ওপর।

মা কুঞ্জাম্মার সঙ্গে অগ্নিপুত্রী টেসি

ছোটবেলা থেকেই টেসি ছিল অঙ্ক ও ফিজিক্সে তুখোড়। বিজ্ঞানের সব বিষয়ে টেসির মার্কস থাকত একশো বা তার কাছাকাছি। টেসির অবসরের সঙ্গী ছিল মহাকাশ। কারণ ‘থুম্বা ইকুয়েটরিয়াল রকেট লঞ্চিং স্টেশন‘ টেসিদের বাড়ি থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না। ছোট্ট টেসি ভাবত আরব সাগরের তীর ধরে দক্ষিণ দিকে ১৪৭ কিলোমিটার হাঁটলেই সে পৌঁছে যাবে তার স্বপ্নপুরীতে।

ছোট থেকেই মহাকাশের প্রতি টেসির অসীম আগ্রহ ছিল। কাগজ পড়তে শেখার পর থেকে, বাড়িতে কাগজ টেসি খুলেই খুঁজত ‘থুম্বা ইকুয়েটরিয়াল রকেট লঞ্চিং স্টেশন‘ নিয়ে কোনও খবর আছে কিনা। বালিকা টেসির মনে রকেট নিয়ে নানা প্রশ্ন জাগত। কীভাবে রকেট ওড়ে, রকেটে কী কী যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়, উড়ে গিয়ে কোথায় রকেটগুলি ভেঙে পড়ে। মহাকাশ ও রকেট সম্পর্কিত কোনও বই পেলে, গল্প উপন্যাসের মতই এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলত টেসি।

মিসাইল তৈরি থেকে শুরু করে বাড়িতে রকমারি পদ রান্না, সবেই স্বচ্ছন্দ টেসি

প্রথমে আলেপ্পির সেন্ট মাইকেল স্কুল, তারপর সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে পড়াশুনা করে, কালিকট ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বি.টেক করেছিলেন টেসি। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য মাসে ১০০ টাকা এডুকেশন লোন নিয়েছিলেন স্টেস্ট ব্যাঙ্ক থেকে। কারণ স্কলারশিপ হিসেবে যে টাকা পেতেন তা দিয়ে টিউশন পড়তেন।

লোনের টাকা দিয়ে মেটাতেন হস্টেলের খরচ। অসম্ভব মেধাবী হওয়ায় টেসির হস্টেলের খরচে ভর্তুকি দিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন পাঠক্রম বহির্ভূত বিষয়ে অংশগ্রহণ করতেন টেসি। যেমন বিতর্ক, ছবি আঁকা ও খেলাধূলা। স্কুল জীবন থেকেই খুব ভাল ব্যাডমিন্টন খেলতেন টেসি। সবার আশা ছিল, একদিন জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক স্তরের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হবেন টেসি।

কর্মক্ষেত্রে ডঃ টেসি থমাস

বি.টেক করার পর পুণের ইন্সটিটিউট অফ আর্মামেন্ট টেকনোলজি (বর্তমানে ডিফেন্স ইন্সটিটিউট অফ অ্যাডভান্স টেকনোলজি) থেকে গাইডেড মিসাইল নিয়ে এম.ই করেছিলেন টেসি থমাস। সেখানেই টেসির সঙ্গে আলাপ হয়েছিল হবু স্বামী সরোজ কুমার পটেলের। মাস্টার ডিগ্রির পর ‘মিসাইল গাইডেন্স’ নিয়ে পি.এইচ.ডি করেছিলেন হায়দরাবাদের জওহরলাল নেহেরু টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে। একবার ভেবেছিলেন আইএএস পরীক্ষা দেবেন। প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবন পাল্টে দিয়েছিল একটি ইন্টারভিউ।

১৯৮৬ সালে পুণের ইনস্টিটিউট অফ অ্যাভিয়েশন টেকনোলজির অধ্যাপক পদে আবেদন করেছিলেন। ইন্টারভিউ মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে তাঁকে প্রায় তখনই পদে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। ইনস্টিটিউট অফ অ্যাভিয়েশন টেকনোলজিতে গাইডেড মিসাইলের ফ্যাকাল্টি মেম্বার হয়ে গিয়েছিলেন ডঃ টেসি থমাস। বয়স তখন মাত্র তেইশ।

১৯৮৮ সালে ডাক এসেছিল, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে থাকা বিখ্যাত সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) থেকে। ডঃ টেসি থমাস যোগ দিয়েছিলেন হায়দরাবাদের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরিতে। সেখানে নতুন প্রজন্মের ব্যালেস্টিক মিসাইল অগ্নির ‘মিসাইল গাইডেন্স‘-এর কাজ শুরু করেছিলেন ডঃ টেসি থমাস।

ছবিতে মিসাইল গাইডেন্স

মিসাইল গাইডেন্স হল একটি পদ্ধতি, যেটি টার্গেটে সঠিকভাবে আঘাত করার জন্য মিসাইলকে গাইড করে। মিসাইলের কাজকে নির্ভুল করে তোলার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি অবদান মিসাইল গাইডেন্সের। সাধারণত ইনফ্রারেড, লেসার ও রেডিও ওয়েভ দিয়ে মিসাইলকে নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত করানো হয়।

এ ক্ষেত্রে টেসির অসামান্য এক গবেষণা আশাতীতভাবে সাহায্য করেছিল ভারতের ক্ষেপনাস্ত্র প্রকল্পগুলিকে। দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইলের গাইডেন্স স্কিমের এক অসামান্য নকশা করেছিলেন টেসি। যেটি ব্যবহার করা হয়েছে সমস্ত অগ্নি মিসাইলে।

অগ্নিপুত্রী ডঃ টেসি থমাস

বেশ কিছু বছর আগে থেকেই ডঃ টেসি থমাসের ওপর নজর ছিল ‘মিসাইল ম্যান’ এপিজে আবদুল কালামের। টেসির মত একজন নাছোড়বান্দা প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীকেই খুঁজছিলেন টেসিরই ‘রোল মডেল’ আবদুল কালাম। যাঁর কাছে কর্মই ধর্ম। অগ্নি-থ্রি মিসাইল প্রজেক্টে ডঃ টেসি থমাসকে টেনে নিয়েছিলেন ডঃ কালাম।

ডঃ টেসি থমাস হয়েছিলেন অগ্নি-থ্রি মিসাইল প্রজেক্টের অ্যাসোসিয়েট প্রজেক্ট ডিরেক্টর। ছোট্টবেলার স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল টেসির, ভগীরথ কালামের হাত ধরেই। এরপর আর পিছন দিকে ফিরতে হয়নি টেসিকে। অকল্পনীয় একাগ্রতা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের বিনিময়ে স্পর্শ করেছিলেন সাফল্যের শীর্ষবিন্দু।

অগ্নি -থ্রি উৎখেপণের আগের ছবি। দলের একমাত্র মহিলা বিজ্ঞানী টেসি দাঁড়িয়ে আছেন একেবারে বামে।

৩০০০ কিলোমিটার রেঞ্জের অগ্নি-থ্রি মিসাইল প্রজেক্টে অসামান্য অবদান রাখার পর, ডঃ টেসি থমাসকে সরাসরি অগ্নি-ফোর প্রজেক্টের নেতৃত্বে নিয়ে এসেছিলেন ডঃ কালাম। সেই প্রথম, কোনও ভারতীয় নারী হয়েছিলেন কোনও মিসাইল প্রজেক্টের ডিরেক্টর।

টেসি থমাসের নেতৃত্বে ভারত তৈরি করেছিল ৬৬ ফুট লম্বা, ১৭,০০০ কেজি ওজন ও ৪০০০ কিমি রেঞ্জের অগ্নি-ফোর মিসাইল। যেটি পারমাণবিক অস্ত্রবহনে সক্ষম। ডঃ টেসি থমাসের নেতৃত্বের অভুতপূর্ব সাফল্য, ভাঁজ ফেলেছিল সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী দেশগুলির কপালে।

এই সেই অগ্নি-ফোর, টেসির স্বপ্নের মিসাইল

কিন্তু ডঃ কালামের স্বপ্নও যে আকাশছোঁয়া। তিনি চান, দেশের ক্ষেপনাস্ত্র সম্ভারকে এমন স্থানে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে শত্রু ভুলেও ভারতের দিকে লাল চোখ তুলে তাকাতে না পারে। কালামের ভাবশিষ্যা টেসি এবার হয়েছিলেন ৫০০০ কিমি রেঞ্জের অগ্নি-ফাইভ মিসাইল প্রজেক্টের ডিরেক্টর।

টেসির নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল, ৫৭ ফুট লম্বা ৫০,০০০ কেজি ওজনের অগ্নি-ফাইভ মিসাইল। যে মিসাইল ১৫০০ কেজি ওয়ারহেড নিয়ে ৫০০০ কিমি দূরের বস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। ২০১২ সালের ১৯ এপ্রিল, ওড়িশার হুইলার দ্বীপ থেকে অগ্নি-ফাইভ মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ প্রমাণ করেছিল ডঃ টেসি থমাসের নেতৃত্বের প্রশ্নাতীত সাফল্যও।

টেসির নেতৃত্বে সফলভাবে তৈরি ও উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ৫০০০ কিমি পাল্লার এই অগ্নি-ফাইভ মিসাইল

তবে টেসির জীবনে সাফল্য সব সময়ে মসৃণভাবে আসেনি। এসেছিল ব্যর্থতাও। ২০১৬ সালে একটি মিসাইলের উৎক্ষেপণ সফল না হওয়ায় তাঁকে পড়তে হয়েছিল তীব্র সমালোচনার মুখে। কিন্তু সেসবে কান দেননি টেসি। নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন নিরবিচ্ছিন্ন গবেষণায়। ব্যর্থতাই তাঁকে যুগিয়ে ছিল আরও কঠোর পরিশ্রমের অনুপ্রেরণা।

প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা করে কাজ করতেন টেসি। কাজ করতেন সপ্তাহে সাতদিন। ছুটি নিতেন না। নিজের পরিবার ও ছেলে তেজসকে ভুলে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছিলেন দেশের সুরক্ষায়। মাত্র দশ মাসের মধ্যে মিসাইলটিকে সাফল্যের সঙ্গে উৎক্ষেপণ করে যোগ্য জবাব দিয়েছিলেন সমালোচকদের।

অজস্র পুরষ্কারের পালকে গাঁথা তাঁর সাফল্যের মুকূট

২০১৮ সাল থেকে ‘অগ্নিপুত্রী’ ডঃ টেসি থমাস বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’-এর(DRDO) অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমের ডিরেক্টর জেনারেল। গোটা বিশ্বে ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণার জমি চিরকালই পুরুষ শাসিত ছিল, আছে ও থাকবে; এই ভ্রান্ত ধারণাটিকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন ‘মিসাইল ওম্যান’ টেসি থমাস।

আসলে এই দেশ রানি লক্ষ্ণীবাঈয়ের দেশ, আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন লক্ষ্ণী শেহগলের দেশ তা মর্মে মর্মে অনুভব করেছিলেন ডঃ কালাম। তাই ডঃ টেসি থমাসকে দেশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ঋষিতুল্য মানুষটি। কারণ ডঃ কালাম জানতেন একমাত্র অগ্নিপুত্রীর হাতেই সঠিকভাবে রূপায়িত হবে তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More