হাতের বাইরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি, বুধবার থেকে ১৪ দিনের লকডাউনের পথে মহারাষ্ট্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় হাতের বাইরে কোভিড ১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি। সংক্রমণ সংখ্যা প্রতিদিনই আগের দিনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। এই  অবস্থায় ১৪ এপ্রিল, বুধবার থেকে মহারাষ্ট্রে অন্তত দু সপ্তাহ লকডাউন জারির কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপে। রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। কোভিড ১৯ টাস্ক ফোর্সের সেই বৈঠকে ছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও, যাঁদের বেশিরভাগেরই মত, অন্তত ১৪ দিন রাজ্যে পূর্ণ লকডাউন চালু থাকা উচিত। বিধিনিষেধের গাইডলাইন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। টোপে বলেন, লকডাউনের মেয়াদ, অর্থনীতিতে তার সম্ভাব্য ফলের মোকাবিলা কীভাবে করা হবে, সে ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা হয়। টাস্ক ফোর্সের অভিমত, রাজ্যে চলতি করোনা পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগের যে লকডাউনের দরকার আছে। রাজ্যে অক্সিজন উত্পাদনের প্ল্যান্ট খোলা নিয়েও কথা হয়েছে বৈঠকে।
পরে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ট্যুইট করে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে রাজ্য টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে বৈঠকে অক্সিজেন, শয্যার ব্যবস্থা, রেমডিসিভিরের ব্যবহার, ট্রিটমেন্ট প্রটোকল, সুযোগসুবিধা বাড়ানো, বিধিনিষেধ জারি ও কোভিড প্রটোকল ভাঙার জরিমানা –সব নিয়েই কথা বলেন।

উদ্ধবের রাজ্যের অর্থ ও অন্য দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গেও আজ বৈঠকে বসার কথা, যেখানে লকডাউনের ব্যাপারে আলোচনা হবে।

গত শনিবারই কঠোর লকডাউন জারির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, অতিমারী পরিস্থিতি নিয়ে ডাকা সর্বদল বৈঠকে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার সপ্তাহ শেষের লকডাউন, নৈশকালীন কার্ফু, নিষেধাজ্ঞা বিধি সহ বেশ কিছু বিধিনিষেধ চালু করেছে, যা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা।

টোপের পাশাপাশি রাজ্যের আরেক মন্ত্রী আসলাম শেখকে  উদ্ধৃত করেও সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, কোভিড ১৯ টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে প্রত্যেকেই লকডাউন জারির পক্ষে মত দিয়েছেন। তার এসওপি, গাইডলাইন নিয়ে আলোচনা হবে।

রবিবারই নতুন ৬৩,২৯৪টি করোনা সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছে মহারাষ্ট্রে, যা গত বছর অতিমারী শুরুর পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ। মোট সংক্রমিত ৩৪ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যুও ৩৪৯টি বেড়ে হয়েছে ৫৭,৯৮৭।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রক জানাচ্ছে,  দেশের মোট অ্যাকটিভ কোভিড-১৯ কেসের ৭০.৮২ শতাংশই ৫টি রাজ্যে সীমাবদ্ধ। তাদের অন্যতম মহারাষ্ট্র। দেশের মোট অ্যাক্টিভ সংক্রমণ কেসের ৪৮.৫৭ শতাংশই হয়েছে সেখানে।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More