এত বড় ষাঁড়! অবাক হবেন না, আরও বিস্ময় অপেক্ষা করছে আপনার জন্য

প্রাণীগুলির মধ্যে কোনও কোনও প্রাণী মাঝে সাঝে এমনই অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে, যা দেখে আমাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতিকায় স্থলজ প্রাণীর কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে, প্রাগৈতিহাসিক যুগের ডাইনোসোর বা পৃথিবীতে কোনওরকমে  অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা হাতি, জিরাফ, গন্ডার ও হিপোদের ছবি। মানুষের আশেপাশে থাকা প্রাণীগুলির মধ্যে অতিকায় প্রাণী বলতে গেলে উট। তবে মানুষের পোষ মানা প্রাণীগুলির মধ্যে কোনও কোনও প্রাণী মাঝে সাঝে এমনই অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে, যা দেখে আমাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। আজ দেখব তেমনই কিছু প্রাণী। যে প্রাণীগুলি আমাদের খুবই চেনা। কিন্তু তাদের এই অস্বাভাবিক আকৃতি অনেকের কাছে অজানা রয়ে গিয়েছে আজও। 
 ‘মুজ’ ঘোড়া (আমেরিকা)  

দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে ব্রিড করা ‘পারচেরন’ প্রজাতির ঘোড়া ‘মুজ’। অনান্য পারচেরন প্রজাতির ঘোড়াদের হেলায় হারিয়ে ‘পারচেরন সুপ্রিম ওয়ার্ল্ড চাম্পিয়নশিপ’ জিতে নিয়েছে দৈত্যাকৃতি মুজ। মুজের আসল নাম ‘নর্থ আমেরিকান মেড’ হলেও, সে কিন্তু বিখ্যাত মুজ নামেই।

ঘোড়াটির মালিক উইন্ডারমেয়ার ফার্মের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, উত্তর আমেরিকার বহু রেস জিতেছে উল্কাগতিতে ছুটতে পারা মুজ। অত্যন্ত সুঠাম চেহারার মুজের উচ্চতা সাতফুট এবং ওজন পাঁচশো কেজির কাছাকাছি। রোজ সকালে মর্নিং ওয়াক করার পর পাঁচ কেজি আপেল তার চাইই চাই। সঙ্গে কয়েক কেজি ব্রকোলি হলে ভালো হয়।

‘চিলি’ গরু (ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ডের সমারসেটের ফার্নে আনিম্যাল স্যাংচুয়ারিতে থাকে দৈত্যাকৃতি গরু ‘চিলি’। কয়েক বছর আগে একটি অতিকায় ও  চারটে স্বাভাবিক আকৃতির গরুকে সমারসেটের রাস্তাঘাটে অনাথ অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। মালিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাই গরুগুলিকে নিয়ে আসা হয় ফার্নে স্যাংচুয়ারিতে। অতিকায় গরুটির নাম দেওয়া হয় চিলি। স্যাংচুয়ারিতে যত্ন পেয়ে কয়েক বছরের মধ্যেই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে চিলি। ছ’ফুট ছ’ইঞ্চি লম্বা চিলির ওজন  ১২৫০ কেজি।

চিলিকে দেখাশুনা করেন জেনি হুইডন। তিনি জানিয়েছেন, অনান্য গরুদের মতোই চিলির পছন্দের খাবার ঘাস। তবে দিনে একবার অন্তত কেজি পাঁচেক গাজর চাই। মাঠে চরতে খুব ভালোবাসে চিলি। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও মাঠ থেকে ঘরে ফিরতে চায় না। এই নিয়ে চিলির সঙ্গে রোজ ঝামেলা লাগে জেনির।

 ‘ওকলাহোমা স্যাম’ গাধা ( আমেরিকা)

২০১২ সালে ‘ওকলাহোমা স্যাম’ নামে চার বছরের গাধাটিকে, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গাধা’ আখ্যা দিয়েছিল গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার গাধাটির ওজন তিনশো কেজি। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ফার্মে বন্ধুদের সঙ্গে থাকে গাধাটি। গাধাটির বন্ধুরা হলো একটি পাতিহাঁস, একটি ম্যাকাও, একটি রাজহাঁস ও চারটি বেড়াল। সারাদিন বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটি করে সময় কাটে স্যামের।

গাধাটির মালিক লিন্ডা ডেভিস জানিয়েছেন, ‘স্যাম’ খুব একটা বেশি খায় না সে। তবে সারাদিনে কয়েক কেজি পালং শাক ও টমেটো হলে ভালো হয়। বাড়ির বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় মাঝে মাঝে খেলা থামিয়ে জানলার বাইরে থেকে টিভি দেখা চাই। কার্টুন দেখতে খুব ভালোবাসে স্যাম।

‘দারিউস’ খরগোস (ইংল্যান্ড) 

ইংল্যান্ডের ব্রুমসগ্রুভে বাস করে ‘দারিউস’ নামের এই অতিকায় খরগোশটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় খরগোশ হিসেবে দারিউসের নাম আছে গিনেসেও। চার ফুট চার ইঞ্চি লম্বা দারিউসের ওজন তিরিশ কেজি। দারিউসের ছেলে জেফও বাবার মতোই লম্বা প্রায়। তবে দারিউসের মেয়ে এনা সম্ভবত কয়েক বছরের মধ্যেই ছাড়িয়ে যাবে বাবা এবং দাদাকে।

দারিউস এতোই বড় যে তাকে কুকুরের খাঁচায় রাখতে হয়। দিনে দশটা আপেল ও কেজি দুয়েক গাজর চাই তার। এছাড়াও নানান বায়নাক্কা লেগেই থাকে তার। দারিউসের খুব পছন্দের জিনিস হলো আইসক্রিম। এছাড়াও খোলা মাঠে বেড়াতে তার খুব ভালো লাগে। একবার খোলা মাঠে যাওয়ার সুযোগ পেলে হলো। তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে কালঘাম ছুটে যায় মালিক অ্যানেট এডওয়ার্ডের।

গোলিয়াথ ব্যাঙ ( ক্যামেরুন)

পৃথিবীর বৃহত্তম প্রজাতির ব্যাঙ হলো ‘গোলিয়াথ’। আফ্রিকার ক্যামেরুন ও ইকুয়েটোরিয়াল ঘানাতে পাওয়া যায় এই প্রজাতির   ব্যাঙ। এরা সাপ, মাছ, কচ্ছপ, কাঁকড়া, মাকড়শা ও ছোট ব্যাঙ খায়। প্রায় পনেরো বছর বাঁচে এই প্রজাতির ব্যাঙেরা। সেই ‘গোলিয়াথ’ প্রজাতির সদস্য ‘সান্ডা’ নামের এই দৈত্যাকৃতি ব্যাঙটি। সাড়ে তিনফুট দৈর্ঘ্যের সান্ডার ওজন প্রায় পাঁচ কেজি। ক্যামেরুনের এই ব্যক্তি ব্যাঙটিকে পুষেছেন। কিন্তু খাবার কিনে খাওয়াতে গিয়ে মাথায় হাত। তাই সারাদিন ব্যাঙটি নিয়ে ঘুরে বেড়ান জঙ্গলের আনাচে কানাচে ও নদীর ধারে। যদি ভরানো যায় সান্ডার জালার মতো পেটটি।

‘বালথাজার’ কুকুর (ইংল্যান্ড)

২০১৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কুকুরের আখ্যা পেয়েছিল ইংল্যান্ডের নটিংহামের গ্রেট ডেন ‘বালথাজার’। সাত ফুট দৈর্ঘ্যের বালথাজারের উচ্চতা ছিল সাড়ে চার ফুট এবং ওজন একশো কেজি। পরে ‘বিগ জর্জ’ নামে এক গ্রেট ডেনের কাছে উচ্চতায় কয়েক সেন্টিমিটার পিছিয়ে পড়লেও সারমেয়দের জগতে বালথাজারের কৌলিন্য একটুও কমেনি। বালথাজার প্রচুর খেতে পারে। রোজ অন্তত গোটা দুয়েক রোস্ট করা চিকেন তার চাই। এছাড়া সে সোফা ও জুতো চিবাতে ভালবাসে। আপাতশান্ত বালথাজারের দস্যিপনার জন্য সাতটি সোফা ও  তেইশ জোড়া জুতো পাল্টাতে হয়েছে মালিককে।

‘হারকিউলিস’ লাইগার ( আমেরিকা)

সিংহ ও বাঘের সংকরায়ণের ফলে উৎপন্ন হওয়া সংকর প্রাণীগুলিকে আগে বলা হতো ‘টাইগন’ ( টাইগার + লায়ন)। এখন বলা হয় ‘লাইগার’ ( লায়ন+টাইগার)। লাইগার ‘হারকিউলিস’ থাকে আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনার মার্টেল বিচ সাফারি পার্কে। হারকিউলিসের দৈর্ঘ্য এগারো ফুট, ওজন ছ’শো কেজি এবং উচ্চতা সাড়ে পাঁচ ফুট। প্রিয় খাদ্য এখনও মোষের দুধ। তবে দিনে প্রায় সাত কেজি ষাড়ের মাংস খেতে দেওয়া হয় তাকে। বাচ্চা লাইগারদের সঙ্গে খেলতে খুব ভালোবাসে হারকিউলিস।

ফিল্ড মার্শাল ষাঁড় ( ইংল্যান্ড)

ইংল্যান্ডের সমারসেটের এলস্টোনের ফার্মে থাকে বিশ্বের বৃহত্তম ষাঁড় ‘ফিল্ড মার্শাল’। আট বছরের  ষাঁড়টির উচ্চতা ছ’ফুট এক ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় দু’হাজার কেজি। বছরে দেড়শো কেজি ওজন বাড়ছে তার। মালিক আর্থার ডাকেট ষাঁড়টিকে গোয়ালে বন্দি রাখেন না। তাই ফিল্ড মার্শাল দিনরাত কাটায় ফার্মহাউসের বাইরে। রোজ ১০ কেজি খাবার খায় ষাঁড়টি। খাবারের মধ্যে ওট, বার্লি, আলু, বিট রাখা চাই। বিশ্বের সর্বকালের সর্ববৃহৎ ষাঁড় ছিল ‘ওল্ড বেন’। ১৯১০ সালে ষাঁড়টি মারা যাওয়ার আগে ষাঁড়টির উচ্চতা ছিল ছ’ফুট চার ইঞ্চি। ওজন ছিল ২১৪০ কেজি। তবে সে রেকর্ড অচিরেই ভেঙে যাবে। কারণ  বিশ্বের সর্বকালের সর্ববৃহৎ ষাঁড় হওয়ার লক্ষ্যে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলেছে অতিকায় ষাঁড় ফিল্ড মার্শাল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More