আঙুল আছে, ছাপ নেই! তিন প্রজন্ম ধরে বিরল অসুখ বাংলাদেশের এক পরিবারে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধুনিক যুগে প্রতিটা পদক্ষেপে আঙুলের ছাপ প্রয়োজন। আইডি কার্ড, ফোনের সিম কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স। সব ক্ষেত্রেই। কিন্তু হাত থাকতেও যদি আঙুলের ছাপ না থাকে তখন! বিরলতম এই অসুখে ভুগছে বাংলাদেশের এক পরিবার। পরিবারে তিন প্রজন্ম ধরেই কারও হাতেই আঙুলের রেখা নেই। ফলে নেই কোনও আইডি কার্ড, ফোনের সিম কার্ড।

বিরলতম এই রোগের নাম অ্যাডারমাটোলিফিয়া। এটি একটি জিনগত অসুখ। যার কারণে হাতের তালু রুক্ষ, শুষ্ক হয়। পায়ের পাতার পিছনে, হাতের তালুতে কোনও রেখা থাকে না। এই রোগ থাকলে বংশের প্রতিটা সদস্যের মধ্যেই এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। যার কারণে কেউই কোনও আইডি কার্ড বানাতে পারবেন না। বানালেও লেখা থাকবে ‘নো ফিঙ্গার প্রিন্ট’। এক দেশ থেকে অন্য দেশে পা-ও রাখতে পারবেন না কেউ।

বিরল অসুখে ভোগা পরিবারটির কনিষ্ঠতম প্রজন্মের প্রতিনিধি অপু এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। অপুর ঠাকুরদার সময়ে দেশে আইডি কার্ড তৈরি করার জন্য আঙুলের ছাপের প্রয়োজন হত না। তবে সময় বদলেছে। ২০০৮ সালে অপুর বাবা পরিচয় পত্র তৈরি করতে গিয়েই বিপদে পড়েছেন। বারবার তাঁর আঙুলের ছাপ নেওয়ার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন সরকারি আধিকারিকরা। তারপর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তাঁকে পরিচয় পত্র আলাদা করে বানিয়ে দেওয়া হলেও তাতে লিখে দেওয়া হয় ‘নো ফিঙ্গার প্রিন্ট’।

বিরলতম এই অসুখ সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই পরিবারের কারও। তাঁরা জানেনই না এটা যে তাঁদের অসুখ। ২০১৬ সালে মোবাইল ফোনের সিম কার্ডের জন্যেও আঙুলের ছাপ বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয় দেশে। সেখানেও বাধা পরতে তাঁদের। বারবার চেষ্টা করে সেখানেও বিফল ‌হয় তাঁরা।‌ সব শেষে অপুর মায়ের আঙুলের ছাপ নিয়ে তাঁরা মোবাইলের সিম কার্ডের ব্যবস্থা করেন।

বাংলাদেশের এক ডার্মাটোলজিস্ট তাঁদের হাতের তালু দেখে পরীক্ষা করে শনাক্ত করেছেন এই অসুখ।
‘কনজেনিয়াল পালমোপ্লান্টার কেরাটোডার্মা’- এই অসুখের কারণেই তাঁদের হাতের আঙুলে কোনও রেখা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। সুইস ডার্মাটোলজিস্ট প্রফেসর পিটার ইটিন এই রোগটিকে শনাক্ত করে বলেছেন এটি সেকেন্ডারি অ্যাডারমাটোলিফিয়া। যার কারণে হাতের তালু শুষ্ক হয়।

অপু মাঝে মধ্যেই দুঃখপ্রকাশ করেন এই নিয়ে। প্রতিদিন রোজকার জীবনে চলাচলে তাঁদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। বাধা পড়ে নানা কাজেও। একইসঙ্গে অপুর বাবা অমল সরকারও জানিয়েছেন অসুখের সম্পর্কে না জানলেও কখনও কখনও বিপদে পড়তে হয় বাবা-ছেলে দু’জনকেই।

অনেক বাধা পেরিয়ে আজ অমল এবং অপু সরকার জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতে পেরেছেন। মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর, চোখের রেটিনা স্ক্যান করে এবং মুখমণ্ডলের ছবি দিয়ে তাঁরা আইডি কার্ড বানাতে পেরেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ফোনের সিম কার্ড তাঁরা তুলতে পারেননি। এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্সও না। পাসপোর্ট তৈরি করতেও যে এখনও বহুদিন তাঁদের সময় লাগবে সেকথা জানিয়েছেন অপু।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More