এবার বকেয়া মেটানোর দাবিতে ভাটপাড়া পুরসভার গেটে তালা মেরে বিক্ষোভ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ভাটপাড়া: গতকাল মেটারনিটি হাসপাতালে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখিয়ে ছিলেন অস্থায়ী কর্মীরা। মঙ্গলবার একই দৃশ্য দেখা গেল পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যেও। তাঁদের ৪ মাসের বেতন বাকি। তবু কর্তৃপক্ষ সেবিষয়ে কোনও কিছু করছে না। তাই তৃণমূল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে ভাটপাড়া পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে বসলেন অস্থায়ী পুরকর্মীরা।

অস্থায়ী কর্মীদের দাবি, ৪ মাসের বেতন বাকি। আমরা নিজেদের নিত্য দিনের প্রয়োজন মেটা পাচ্ছিনা। চেয়ারম্যান ধর্মপাল গুপ্তাকে বিষয়টি জানানো হয়ে ছিল। তিনি আশ্বাস দিয়ে ছিলেন চার মাসের বকেয়া এক সঙ্গে ১১ তারিখে মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তাঁর দেওয়া তারিখ পেরিয়ে গিয়ে আজ ২৩ তারিখ হয়ে গিয়েছে। টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়নি। রোজের সামান্য টাকাও কর্তৃপক্ষ মেটাতে পারে না। বরং উল্টে অপমান করে তাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিক্ষোভরত কর্মী বিজয় বর্মা জানান, ” বকেয়া টাকা না পেয়ে আজ চেয়ারম্যানের কাছে আমরা সকলে ছুটে গিয়ে ছিলাম। কিন্তু ধর্মপাল গুপ্তা জানান তাঁদের কাছে কোনও টাকা নেই বকেয়া মেটাবার মতো। তিনি টাকা দিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। বিজয়ের আরও অভিযোগ, ধর্মপাল না কি এদিন ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ কর্মীদের গুরুত্বহীন বলে অপমান করেন। তাই কর্তৃপক্ষের আশ্বাস না পেয়ে তাঁরা অগত্যা কাজ বন্ধ করে আন্দোলনে বসেছেন।

বিজয়ের আরও দাবি, প্রতিবারই মাইনে জন্য এই ভাবেই আন্দোলন করতে হয়। তিনি বলেন, পারিশ্রমিক পেতে প্রতিবার এই এক সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। আন্দোলন না করলে টাকা মেলে না। এটা কর্তৃপক্ষ বুঝে গিয়েছে।

পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের ইউনিয়ন সেক্রেটারি জওয়াহারলাল ভার্মা জানান, ”পুরসভা সকল বিভাগের অস্থায়ী কর্মীদের একই অবস্থা। এমনকি পুরসভার গাড়ির চালকরা পর্যন্ত মাইনে পাচ্ছে না। চেয়ারম্যানকে বলেও কোনও লাভ হয়নি। তিনি গত মাসে বলে ছিলেন ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে এবার থেকে সমস্ত পেমেন্ট দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। তাই যতক্ষণ টাকা না দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ কাজ বন্ধ থাকবে।”

এদিকে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং দাবি করেন, পুরসভা তাদের হাত থেকে চলে যাওয়ার পর থেকেই এমন অচল অবস্থা হয়েছে যা বলে প্রকাশ করা যায় না। অস্থায়ী কর্মচারীদের মাইনে অর্ধেক করে দেয়া হয়েছে এবং তারপরও দিনের-পর-দিন তারা বেতন পান না। পুরসভার এরকম পরিষেবা বন্ধ করাটা যুক্তি যুক্ত নয়। তাও দিনের-পর-দিন বেতন না পেলে শ্রমিকরা কি করবে সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্জুন। তবে সমস্যা না মিটলে যে কোন রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More