শরীর, ত্বক সুস্থ রাখতে নিয়মিত ‘গ্লুটাথিওন’ খান, বলছেন ডক্টর সুশান্ত রাওরানে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ সাল আতঙ্কে, ভয়েই কেটে গেল। বাড়িতে থাকলেও কি শরীর ভাল থেকেছে? না, একেবারেই না। অতিরিক্ত ট্রেস, টেনশনের কারণে শরীরের উপর যেমন প্রভাব পড়ে, তেমনই ত্বকের উপরও তার ছাপ পড়ে। বাড়িতে থাকলেও অনেকেই অনিয়ম করেন। ভুল ডায়েটের ফলেও কিন্তু শরীর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সামনেই বিয়ের মরশুম। সুস্থ, সবল থাকার প্রতিই এবারে প্রত্যেকে জোর দিচ্ছেন। আবার শীতকাল বলেই ত্বকের নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। শরীর, ত্বক মিলিয়ে যাবতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন গ্লুটাথিওনের সাহায্যে। ফলে সামনেই যাঁদের বিয়ে, তাঁরা সম্পূর্ণভাবে গ্লুটাথিওনের উপর ভরসা করতে পারেন। এমনটাই বলছেন অ্যাড্রোয়েট বায়োমেড লিমিটেডের কো-ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর সুশান্ত রাওরানে।

গ্লুটাথিওন ত্বকের জন্য কেন জরুরি

গ্লুটাথিওনের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়া এর মধ্যে অ্যান্টিমেলানোজেনিকের গুণাবলি থাকায় ত্বকের উপরের দাগছোপ, পিগমেন্টেশন এগুলো দূর করে। একইসঙ্গে বলিরেখা দূর করে, ত্বক আগের চেয়ে অনেক বেশি নরম থাকে।

টাইরোসিনেজ নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপাদন আটকায় গ্লুটাথিওন। ফলে মেলানিন কমে যায়। ত্বকের উপর ছুলি পড়লে, বা অন্যান্য দাগ থাকলে তা মুছে যাবে। সোরিয়াসিস হলে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে পড়ে। সেটা থেকেও মুক্তি পেতে পারেন গ্লুটাথিওনের মাধ্যমে।

তিনটে আলাদা রকমের অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে গ্লুটাথিওনের মধ্যে। কোনও কারণে শরীরের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তা নিরাময় করে। ফলে কাজ করার এনার্জি, ক্ষমতা দুটোই ফিরে আসবে।

ধুলো, ময়লার কারণে ত্বকের জৌলুস অনেক সময় হারিয়ে যায়। গ্লুটাথিওন ত্বকের দাগছোপ দূর করবে। একইসঙ্গে ত্বক আগের চেয়ে আরও উজ্জ্বল দেখাবে।

শরীরের জন্য গ্লুটাথিওন কেন প্রয়োজনীয়

মানুষের কোষে এমনিতেই গ্লুটাথিওন থাকে। কিন্তু ভুল জীবনযাপনের ধরন, ডায়েট, এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা নষ্ট হয়ে যায়। তার ফলে অনেক রকমের রোগ ব্যাধি দেখা যায়। গ্লুটাথিওনের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের যাবতীয় রোগ, এমনকি অনেক দূরারোগ্য ব্যাধি সারাতেও সাহায্য করে।

ফ্রি ব়্যাডিক্যালের ফলে কোষের উপর যে প্রভাব পড়ে, তা থেকে রক্ষা করে গ্লুটাথিওন। একইসঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অতিরিক্ত টক্সিনও বের করে দেয়। বিভিন্ন রোগের কারণে ফুসফুসের উপর প্রভাব পড়ে। গ্লুটাথিওন ফুসফুসকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচায়।

বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করার জন্য যেসমস্ত কোষ সাহায্য করে, যেমন এনকে, টি সেল, এগুলোকে উজ্জীবিত করে। ফলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের ইনফেকশন থেকে শরীরকে রক্ষা করে। অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন হেপাটাইটিস, হারপিস, লিম, এগুলোকেও নিরাময় করে। শরীরের জিন এক্সেপ্রেশন, সিস্টাইন স্টোরেজ, এগুলোতেও গ্লুটাথিওনের ব্যাপক অবদান রয়েছে।

গ্লুটাথিওনের সূত্র

সঠিক ডায়েটের মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক গ্লুটাথিওনের মাত্রা বাড়াতে পারেন। তাছাড়া বাজারে নানা রকম গ্লুটাথিওনের সাপ্লিমেন্টস পাওয়া যায়। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে পারেন। তাছাড়া আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুটাথিওন থাকে। বাজারে যেসব ক্রিম পাওয়া যায় তাতে আসলে ত্বকের সমস্যা দূর হয় না। ফলে ডায়েট বা সাপ্লিমেন্টসের মাধ্যমে ত্বকের সমস্যা দূর করতে পারেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More