১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কোভিড-টিকা পাবেন সকলে, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপেক্ষার শেষ হল। এবার ১৮ বয়স হলেই নেওয়া যাবে করোনার টিকা। আগামী ১ মে থেকে আর ৪৫ নয়, ১৮ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে করোনার টিকাকরণ চালু হয়ে যাবে দেশে। ১৮ বছর হলেই টিকা পাবেন প্রতিটি দেশবাসী। এবার আর ৪৫ নয়, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কোভিড ঝড়ের মুখে এমনটাই ঘোষণা করল কেন্দ্র। ১ মে থেকেই শুরু হবে এই টিকাকরণ।

দৈনিক করোনা সংক্রমণ পৌনে তিন লাখে এসে ঠেকেছে দেশে। এমন পরিস্থিতিতে টিকাকরণে গতি আনার কথাই বারবার বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কীভাবে দেশের বড় অংশের মানুষকে দ্রুত টিকা দেওয়া যায় সে নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। দফায় দফায় বৈঠকও হচ্ছে। তৃতীয় পর্বের টিকাকরণ শুরু হবে মে মাস থেকে। এই পর্বে ৬০ বছরের বেশি প্রবীণ, ৪৫ বছরের বেশি কোমর্বিডিটির রোগীরা যেমন থাকবেন, তেমনি কমবয়সীদেরও টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রক বলছে, বয়স্ক বা মধ্যবয়সীরা যেমন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তেমনি কমবয়সীদের মধ্যেই সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। এতদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই বলে আসছিল, সুস্থ কমবয়সীদের টিকা দেওয়ার এখনই কোনও দরকার নেই। আগে বয়স্ক ও কোমর্বিডিটির রোগীদের প্রাধান্য দেওয়া হোক। কিন্তু এখন সংক্রমণের হার যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে হলে কমবয়সীদের তালিকার বাইরে রাখলে চলবে না।

১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এই বয়সের মধ্যে উপসর্গহীন বা অ্যাসিম্পটিমোটিক রোগীর সংখ্যাও বেশি। এমন অনেকেই আছেন যাঁরা নিজেদের অজান্তেই সংক্রমিত হয়েছেন আবার সেরেও গিয়েছেন। যেহেতু বয়স কম তাই শরীরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বেশি, সে কারণেই হয়তো জটিল রোগ দেখা দেয়নি অনেকের। উপসর্গ যেহেতু নেই তাই তাঁদের থেকে রোগ ছড়াবার আশঙ্কা কোনওভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমনও দেখা গেছে, যথেচ্ছ মেলামেশার ফলে কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়াদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে। তাঁদের থেকে আরও বহুজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এইভাবেই একটা চেইন তৈরি হয়েছে।

করোনার টিকাকরণ শুরু হওয়ার পরে অনেক বিজ্ঞানীই বলেছিলেন, শুধু বয়সের বিচারে নয়, শরীর-স্বাস্থ্য, পেশা, মেলামেশার ধরন ইত্যাদি খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে টিকার অগ্রাধিকার কারা পাবেন। সেখানে শুধু বয়স্ক বা কোমর্বিডিটির রোগীরা নন কমবয়সীরাও আছেন। অ্যাস্ট্রজেনেকা ইতিমধ্যেই ৩০ বছর বা তার কমবয়সীদের শরীরে টিকার ট্রায়াল শুরু করেছে। অন্যান্য ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলিও সেই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More