বায়ার্ন যুগ কি অস্তমিত? নেইমারদের জয় মনে হয় সেটাই প্রমাণ করল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বে প্রতিটি দলের একটা ট্রানজিশন পিরিয়ড চলে, সেইসময় দলটির অনেকসময় পুনর্গঠন চলে, কিংবা সিনিয়রদের জায়গা নেওয়ার মতো সেরকম জুনিয়র উঠে আসে না। তেমনই মনে হয় একটা পর্ব চলছে জার্মানির বার্য়ান মিউনিখের। যদিও তারা হারল ১৫টি ম্যাচ পরে, কিন্তু এই হারের পরেও নানা জল্পনা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে বায়ার্নের হারে নানা অশনিসংকেত। হেভিওয়েট দলগুলি খুব সহজে মুথ থুবড়ে পড়লে নানা আশঙ্কা হয়। পিএসজি-র কাছে ২-৩ হারের পর হ্যানসি ফ্লিকের দল নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ল। রবার্ট লেভানদস্কি ছিলেন না। সের্জে গনাব্রিও খেলেননি, তাতেও বায়ার্নের গোল লক্ষ্য করে শট ৩১, কর্নার ১৫, বল পজেশন ৬৪ শতাংশ। কিন্তু, গোল পিএসজি-র গোল তিনটি, যার মধ্যে জোড়া গোল কিলিয়ান এমবাপের।

আর্জেন্তিনীয় কোচ পোচেত্তিনো সহজ কৌশল নিয়েছিলেন। বায়ার্নের রক্ষণ অনেকটাই ওপরে উঠে খেলে। তাদের প্রলুদ্ধ করে নিচে নামিয়ে আনো, তারপর নেইমার-এমবাপে-দি’মারিয়া ত্রিভুজ আক্রমণে ঘায়েল করো, এটাই ছিল কৌশল।

গতবার এই বায়ার্নের বিরুদ্ধেই ফাইনালে খেলেছিল পিএসজি। চেষ্টা ছিল একইরকম, গোল পায়নি। বায়ার্ন রক্ষণ ভঙ্গুরই ছিল। কিন্তু শুরুতেই সুযোগ কাজে লাগাতে না-পারার ব্যর্থতায় হেরেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ফাইনালে। এবার মোট চারবার বায়ার্নের তিনকাঠি লক্ষ্য করে শট এবং তিনটি গোল!

তার মধ্যে দুটি গোল আবার শুরুতে, ২৮ মিনিটের মধ্যে। দুটি গোলের ক্ষেত্রেই বিপক্ষ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়েরের ত্রুটি রয়েছে।

দ্বিতীয় গোলের সময় নেইমার পেছন থেকে ক্রস রেখেছিলেন। গোল হওয়ার পর দুরন্ত মনে হতে বাধ্য। কিন্তু নেইমারের ব্রাজিলীয় অধিনায়ক মারকিনিওসের কৃতিত্ব আরও বেশি। ঠিক সময় দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন যখন বায়ার্ন রক্ষণ অফসাইডের ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিল তাদের। মারকিনিওস বেরোলেন ঠিক সময়, বল নিয়ন্ত্রণে নিলেন এক-ছোঁয়ায়, অনায়াসে পরাস্ত করলেন ন্যুয়েরকে। তখন পিএসজি-র দুটি আক্রমণ এবং দুটি গোল!

পিএসজি-র ছন্দ কেটে যায় সেইসময়ই, তুষারপাতের ফলে পিছল মাঠ, মারকিনিওস চোট পেলেন কুঁচকিতে। রক্ষণে স্তম্ভ হয়েছিলেন, তিনি বাইরে যাওয়ায় বায়ার্ন সুযোগ পেল ফিরে আসার। প্রথমার্ধেই একটি গোল শোধ করেছিলেন চৌপো-মোতিং, দুরন্ত হেডে। দ্বিতীয়ার্ধে থমাস মুলারের হেডে সমতা ফিরল। কিন্তু আবারও ৬৮ মিনিটে এমবাপে এগিয়ে দেন, সুলের পরিবর্তে মাঠে-আসা বোয়াতেং-কে ভুল করতে বাধ্য করে।

ইউরোপের নকআউটে তিনটি ম্যাচ খেলে ৬ গোল এখন এমবাপের। নিশ্চিতভাবেই তাঁকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখবে পিএসজি। ২০১৫ সালে বার্সেলোনা যখন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল, সেবার শেষ পাঁচ ম্যাচে সব খেলাতেই গোল করেন নেইমার, এবার এমবাপে সেই ছন্দে বিরাজ করছেন।

আগামী মঙ্গলবার ফিরতি লেগ। পারিতে নিজেদের মাঠে নেইমারদের ০-২ হার যেন না হয়, নিশ্চিত করতে হবে। বায়ার্নের কাছে ২-০ জয়, তাদের এগিয়ে রাখবে সন্দেহ নেই।

অন্য ম্যাচে সেমিফাইনালের দিকে এক পা এগিয়ে রাখল চেলসি। অ্যাওয়ে ম্যাচে পোর্তোকে ২-০ হারিয়ে। ম্যাসন মাউন্ট ও বেন চিলওয়েলের গোলে। জুভেন্তাসকে হারিয়ে প্রথম আটে পৌঁছনোর আনন্দ ধরে রাখতে পারল না পেপের পোর্তো।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More