বিজেপির উস্কানিতে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা, দাবি তৃণমূলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিজেপি যখন তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে তখন বৃহস্পতিবার পাল্টা গেরুয়া শিবিরকে কাঠগড়ায় তুলতে চাইল তৃণমূল।

এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবদিক বৈঠক করে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৩ মে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যপাল এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে বিজেপি। কিন্তু যেখানে নতুন সরকার শপথই নিল না, সেখানে এই হিংসার দায়ভার তাদের উপর বর্তায় কীভাবে। হিংসা নিয়ে যদি কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু জানার থাকে তবে তারা কমিশনের কাছে জানুক। ৩ মে রাত পর্যন্ত যত খুন হয়েছে তার দায় কমিশন এড়াতে পারে না।”

ভোটের পরের দিন পর্যন্ত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ছিল কমিশনের অধীনে। তৃণমূল সেটাকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছে। তাছাড়া প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন, বিজেপি নেতারা নির্বাচনের প্রচারে যে উস্কানি দিয়েছিলেন তার জন্যই এই ঘটনা।

বাংলার হিংসা নিয়ে ইতিমধ্যেই নবান্নে জোড়া চিঠি পাঠিয়েছে নর্থব্লক। প্রথম চিঠির জবাব না দেওয়ায় দ্বিতীয় চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লা লিখেছেন, গত ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হয়। তারপর থেকেই রাজ্যে হিংসার ঘটনা ঘটে চলেছে। বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। উঠেছে খুনের অভিযোগও। এই ব্যাপারে রিপোর্ট চেয়ে ৩ তারিখে রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কিন্তু আজ অবধি কোনও রাজ্যের তরফে কোনও রিপোর্ট পেশ করা হয়নি বলেই অভিযোগ। স্বরাষ্ট্রসচিব বলেছেন, “প্রথম চিঠির উত্তর পাইনি। এটা আমার দ্বিতীয় চিঠি। মনে করিয়ে দিতে চাই রাজ্যে যে হিংসার ঘটনা ঘটে চলেছে সে ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ না করা হলে বিষয়টা আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।” এর মধ্যেই এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে মেদিনীপুরে।

যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, তাঁদের অনেক কর্মীকে খুন করা হয়েছে, আজকে কোচবিহারে উদয়ন গুহকে মেরে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এসব বিজেপি বলছে না। শুধু নিজেদের কথাই বলছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More