তৃণমূলে এখন ছেড়ে দে মা অবস্থা, রাজীবের ইস্তফার পর জল্পনা উস্কে বললেন বৈশালী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক্ষ্ণীরতন শুক্ল যেদিন মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন, সে দিন বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া বলেছিলেন, উইপোকা কুরে খাচ্ছে দলকে।
শুক্রবার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সেই বৈশালী, দলের সমালোচনায় যেন আরও খোলামেলা। বললেন, ‘রাজীবের ইস্তফাই প্রমাণ করে দিল যে তৃণমূলে এখন ছেড়ে দে মে কেঁদে বাঁচি অবস্থা’।

বৈশালী এখনও তৃণমূলের বিধায়ক। তাঁকে নিয়ে জল্পনা রয়েছে যে তিনিও গেরুয়া পথগামী হবেন। তাঁর কথা শুনে এদিন অনেকেই বলছেন, বৈশালীও বুঝিয়ে দিলেন—তৃণমূল তাঁকে ছেড়ে দিলে ভাল হয়, তিনি কেঁদে (পড়ুন হেসে) বাঁচতে পারেন।

বৈশালী আরও বলেন, রাজীব দক্ষ প্রশাসক। তাঁর ইস্তফা দুঃখের ব্যাপার। তাঁর কথায়, হাওড়ায় জেলায় তৃণমূলের সংগঠনই নষ্ট হয়ে গেল। একে একে সবাই ছেড়ে যাচ্ছে।
৩১ জানুয়ারি হাওড়ায় জনসভা করার কথা রয়েছে অমিত শাহর। সেই সভায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশালী ডালমিয়া, রথিন চক্রবর্তী থেকে হাওড়ার বেশ কিছু নেতা বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সামিল হতে পারেন বলে খবর। সূত্রের খবর, লক্ষ্ণীরতন শুক্ল হয়তো সেদিন বা তার পর উত্তর হাওড়ায় একটি জনসভায় বিজেপিতে যোগ দেবেন।

ফলে পরিষ্কার যে ভোটের মুখে হাওড়ায় জবরদস্ত ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। অনেকের মতে, প্রাক্তন জেলা সভাপতি অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থাও এতে স্পষ্ট।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

মন্ত্রিসভা থেকে রাজীবের ইস্তফার পর তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “ওঁকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা হয়েছে, তারপরেও না বুঝলে কী আর করা যাবে! উনি যে পদত্যাগ করবেন তা তো বোঝা যাচ্ছিল, একদম বসে গিয়েছিলেন। দলই হয়তো ওঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত, তার আগে পদত্যাগ করেছেন ভাল হয়েছে”।

অন্যদিকে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “ও যে ছাড়বে সেটা জানা ছিল। ডোমজুড়ে দল ১০ হাজার ভোটে জিতবে, রাজীব কিচ্ছু করতে পারবেন না”। তাঁর কথায়, সব চেয়ে অত্যাচারিত হয়েছিলাম আমি। তার পরেও মাথা উঁচু করে দলে ফিরেছি। এঁরা তখন মন্ত্রী ছিলেন। সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন। এখন বলছেন, কিছু পাইনি। ভাল কথা। উনি ভাল থাকুন। দলের কোনও ক্ষতি হবে না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More