‘চারটে পাকিস্তান তৈরি করতে পারি’, তৃণমূল নেতা আলম শেখের মন্তব্যে বিতর্ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বার বাংলার নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণ প্রায় সম্পূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। তারই মধ্যে নতুন ইন্ধন জোগাল নানুরের তৃণমূল নেতা শেখ আলমের মন্তব্য।

এদিন নানুরের বাসাপাড়ায় মিছিল শেষ করার পর স্থানীয় তৃণমূল নেতা আলম শেখ আগ্রাসী বক্তৃতায় বলেন, “আমরা ৩০ শতাংশ মুসলমান যদি এককাট্টা হই, তা হলে চার চারটে পাকিস্তান বানাতে পারি। তখন কোথায় যাবে ভারতবর্ষের এই ৭০ শতাংশ?”

শুনুন তাঁর বক্তব্য।

আলম শেখের বক্তৃতার বাকি অংশ শোনার আর কেউ ধৈর্য্য দেখায়নি। তা নানুর থেকে কলকাতা হয়ে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ঘটনার ঘন্টা খানেকের মধ্যে কৌতূহলের সঙ্গে ফোন আসতে শুরু করে দিল্লি থেকে। আর বিন্দুমাত্র দেরি না করে প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি।

রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূলের শাসন কালে বাংলায় কিছু সংখ্যালঘু নেতা এ ধরনের কথা বলার সাহস পেয়ে গেছে। এরা আবার বাংলার বুকে ৪৬ সালকে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। বাংলাকে ধর্মীয় ভাবে ভাগ করতে চাইছে”। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণেই এক শ্রেণির নেতার এই বাড় বাড়ন্ত হয়েছে বলে বোঝাতে চান বিজেপি নেতারা।

তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, আলম শেখ শহরের নেতা নন। গ্রাম বা মফস্বল শহরের নেতা বলে ধরা যেতে পারে। তার বক্তৃতা সামগ্রিক ভাবে বিচার করতে গেলে অতটাও তীক্ষ্ণ বলে মনে হবে না। কারণ, আলম বোঝাতে চেয়েছেন, বিজেপি কেবল ৭০ শতাংশ নিয়ে রাজনীতি করে। মন্দির-মসজিদ করে। কিন্তু ভারতবর্ষ শুধু ৭০ শতাংশকে নিয়ে নয়। বাকি ৩০ শতাংশও এই দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে সবাই ইট সিমেন্ট রডের মতো। এক জনকে বাদ দিলে ভারতবর্ষের ইমরাত দাঁড়াবে না।

কিন্তু সংশয় হল, ভোটের সময়ে পুরো কথা কেউ শুনতে চায় না। ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর রাজীব গান্ধী বলেছিলেন, বড় ঝড় এলে অনেক গাছ পড়ে যায়। কিন্তু একটা গাছ না পড়লেই ভাল। কিন্তু তাঁর কথার দ্বিতীয় অংশটি কেউ মনে রাখতে চায়নি। হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই চায়নি। শিখ হত্যার ঘটনায় রাজীব সায় দিয়েছেন বলে প্রচারের চেষ্টা হয়েছিল দেশ জুড়ে। আজও সে কথা শুনতে হয় কংগ্রেসকে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More