‘প্রশান্ত কিশোর ভাড়াটে’, নির্দেশ মানতে বাধ্য নই, বিস্ফোরক আর এক তৃণমূল বিধায়ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে বাংলায় ধাক্কা খাওয়ার পর প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করেছিল তৃণমূল (পড়ুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)। যিনি পিকে নামেই পরিচিত।

কিন্তু ভোটের মুখে এসে সেই পিকে-কে নিয়ে বিক্ষিপ্ত ভাবে ক্ষোভ যেন দলা পাকিয়ে উঠছে তৃণমূলে। যেমন শনিবার সন্ধ্যায় পিকে-র বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করলেন হাওড়া শিবপুরের প্রবীণ বিধায়ক জটু লাহিড়ী। তাঁর স্পষ্ট কথা, “প্রশান্ত কিশোর ভাড়াটে। তাঁর বা তাঁর টিমের নির্দেশ মানতে আমি বাধ্য নই।”

তাঁর কথায়, “পিকের টিম যখন-তখন কর্মসূচির নির্দেশ দেয়। আমি তাঁদের নির্দেশ মানতে পারব না।” নেত্রীর উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, “পিকে-কে দিয়ে সাফল্য আসবে না। আপনি দলের হাল ধরুন।” তিনি এও বলেন, “শুনেছি পিকের টিমের লোকজন অনেক টাকা মাইনে পায়! এত টাকা আসছে কোথা থেকে!”

এর আগে কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী কম বেশি এমনই সব কথা বলেছিলেন। শুক্রবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মিহির। কিন্তু তৃণমূলের এই পুরনো নেতা দল ছাড়ার কদিন আগে বলেছিলেন, ‘কে প্রশান্ত কিশোর? যিনি বাংলার মাটি চেনেন না, তাঁর কথায় আমাকে চলতে হবে! পারব না’। তিনি আরও বলেছিলেন, “দল আর দিদির হাতে নেই।”

সম্প্রতি প্রশান্ত কিশোর একদিন খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। সেদিন তিনি কাঁথিতে সাংসদ শিশির অধিকারীর বাড়ি গিয়েছিলেন। অনেকে সেদিন বলেছিলেন, প্রশান্ত কিশোর আসলে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময়ে বাড়িতে ছিলেন না শুভেন্দু। প্রশান্ত কিশোরের ফোনও ধরেননি।

শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠরাও অনেকে ঘরোয়া আলোচনায় প্রশ্ন তুলেছেন, কে প্রশান্ত কিশোর। তাঁর কথায়, শুভেন্দু গণ আন্দোলনের নেতা। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক দৌত্য বা আলোচনার জন্য একজন পেশাদারকে পাঠানো হবে কেন? পরে দেখা যায়, শুভেন্দু প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে দেখা না করলেও দলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় আলোচনায় ডাকলে এক কথায় রাজি হয়ে যান।

তবে তৃণমূলের অনেকের মতে, জটু লাহিড়ীর বিষয়টি ভিন্ন। তিনি পাঁচ বারের বিধায়ক। হাওড়ার পুরোনো কংগ্রেসি ঘরানার যে কয়েকজন নেতা এখনও জীবিত রয়েছেন তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। এটা ঠিক, অনাড়ম্বর জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই বিধায়ক এখনও ধুতি-পাঞ্জাবি পরে একটা লুনা গাড়ি নিয়ে নিজের কেন্দ্রে চক্কর কেটে বেড়ান। কিন্তু এও ঠিক, তাঁর বয়স হয়েছে। এবার তাঁর স্থানে অপেক্ষাকৃত তরুণ কাউকে সুযোগ দেওয়ার সময় হয়েছে। হতে পারে তিনি এ বার টিকিট পাবেন না আন্দাজ করেই পিকের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়া নিয়েও এদিন মন্তব্য করেছেন জটুবাবু। তিনি বলেছেন, “শুভেন্দু পারলেন মন্ত্রিত্বের মোহ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে!”

তা ছাড়া হাওড়া পুরনিগমের ভোট না করিয়ে প্রশাসক বসানো নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বর্ষীয়ান বিধায়ক। তাঁর কথায়, “ভোট করানো উচিত ছিল। মানুষ তো পরিষেবা পাচ্ছেন না।” ২৩ জুলাই সাংগঠনিক রদবদলে হাওড়ায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি বদল করেছিলেন দিদি। অরূপ রায়ের পরিবর্তে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লকে জেলা সভাপতি পদে বসানো হয়। এদিন নিয়েও ক্ষোভ জানান জটুবাবু। তাঁর কথায়, এই রদবদল মোটেও ঠিক হয়নি। এতে ক্ষতি হল দলের।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More