Browsing Tag

joler okkhor

জলের অক্ষর পর্ব ১৬

কুলদা রায় ঈশ্বর নিজের হাতে কিছু লিখলে লিখতেন 'নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে' উপন্যাসটি। নিজে হতেন সোনাবাবু, জ্যাঠামশাই, মুশকিল আসানের লম্ফ পীর অথবা ঈশম। পুরনো অর্জুন গাছে লিখে রেখে যেতেন, 'আমরা ওপারে চলিয়া গেলাম'। হয়তো তখন ঈশম নদীর পাড় ধরে হেঁটে…

জলের অক্ষর পর্ব ১৫

কুলদা রায় আমাদের নরেন মুদিকে যে ইলিয়াস আলী নাই করে দিল, আর যে নরেন্দ্র মোদি গুজরাতের ফতিমার দুলহাকে খুন করতে বুলন্দ আওয়াজ দিল- এরা দুজনেই কিন্তু দুটো ধর্মের লোক। দুজনই তারা তাদের ধর্মে নিষ্ঠ। শুধু নিষ্ঠ হলে বিপদ ছিল না। কিন্তু বিপদ হতে…

জলের অক্ষর পর্ব ১৪

কুলদা রায় মোদীকে আমি চিনি না। চেনার দরকারও নাই। পৃথিবীতে সকল মানুষকে চেনা যায় না। আর আমি বরিশালের মনু। যেখানে বরিশালের সবারেই চিনি না— সেখানে ভারত নামের একটা রাষ্ট্রের গুজরাতের নরেন্দ্র মোদীকে চিনতে যাব কোন দুঃখে! তবে আমার পাড়ার নরেন…

জলের অক্ষর পর্ব ১৩

কুলদা রায় মানুষের মনে ধর্মবোধ কী করে জাগে এ বিষয়ে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তিনটি কারণের কথা বলেছেন- ১. ভয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ-ব্যাধি, পশুদের আক্রমণ, যুদ্ধ, জীবন-জীবিকার মধ্যে যে অনিশ্চয়তা দেখা যায়। সেইসব বিপত্তির কারণে মানুষ অসহায় বোধ করে।…

জলের অক্ষর পর্ব ১২

কুলদা রায় একজন অগ্রজ কথাসাহিত্যিক কাল বললেন, একটি গল্প বা উপন্যাস লেখা শুরুর আগে ও শুরুর কিছুক্ষণ পরে দুইবার গল্পকারের উচিত নিজেকে প্রশ্ন করা, এই গল্পটি বা উপন্যাসটি আমি কেন লিখতে চলেছি? এটা কি কোনও অনন্য লেখা হচ্ছে?  সর্বোপরি একজন…

জলের অক্ষর পর্ব ১১

কুলদা রায় রবীন্দ্রনাথকে আমি প্রথম আবিষ্কার করি আমার আজা মশাইয়ের কাছে। সেটা চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের আগের কথা। মা আমাদের নিয়ে তাঁর বাপের বাড়ি গেছেন। নৌকা করে দিয়েছিল বাবা। আমাদের নদীর নাম মধুমতি। ভেড়ারহাটের পরে আড়পাড়ার মিয়াবাড়ির মসজিদ পার করে…

জলের অক্ষর পর্ব ১০

কুলদা রায় সত্যি ঘটনাকে হুবহু লিখলে সেটা গল্প বা ফিকশন হয় না। আবার অভিজ্ঞতার বাইরে ফিকশন করতে গেলে সত্যিটাকেও হেলা করা যায় না। গল্পকার তার মতো করে সত্যি ঘটনা বা অভিজ্ঞতাকে কেটে-ছেঁটে গল্পের আকারে নিয়ে আসেন।  অথবা বানানো ঘটনাটিকেই এমনভাবে…

জলের অক্ষর পর্ব ৯

কুলদা রায় ঈশ্বর মারা গেছেন। এখন তার চেয়ারে বসেছে শয়তান।  এই কথা দুটি আমাকে কাল বলেছে কিয়ারা। তার বয়স ছয় বছর। ছোট্ট প্রজাপতির মতো মেয়েটা। হোমলেস। তার বাড়ি সিয়েরা লীনে। তার বাবা নেই। শেষবার তার বাবাকে হোটেল রুয়ান্ডা নামে একটি হোটেলের দরজা…

জলের অক্ষর পর্ব ৮

কুলদা রায় আমি কাউখালি চিনি। এপারে হুলারহাট বন্দর। কালিগঙ্গা থেকে একটু পুবে গেলেই ডানদিকে কচা নদী বাঁক নিয়েছে সন্ধ্যার দিকে। এখানে এসে হাওয়া খেলে। বুঝতে পারি পাঙ্গাশিয়া এসে পড়েছি। সেখান থেকে নৈকাঠি। আরেকটু এগোলেই চিড়াপাড়া। চিড়াপাড়ায় এলেই…

জলের অক্ষর পর্ব ৭

কুলদা রায় শব্দের মধ্যে একটা মৃতদেহ শুয়ে আছে। কার মৃতদেহ? আমার বাবার। আমার ঠাকুরদার। তাঁর ঠাকুরদার। আমার বন্ধু মোহসীনের পরদাদার। তিমথির নানাজানের। কল্পনা চাকমার পিসির মাসিশাশুড়ির শব শব্দের মধ্যে শুয়ে আছে। আমরা যারা শব্দের…

জলের অক্ষর পর্ব ৬

কুলদা রায় ছেলেবেলা থেকে আমি রোগা পটকা বলে আমার ঠাকুর্দা আমাকে নজরুল পাবলিক লাইব্রেরিতে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। সেখানে প্রতিদিনই গল্প পড়ি। গল্প পড়ে রাতে ঘুমানোর সময়ে আমার বড়দিদির বলা গল্পের সঙ্গে মেলাতে চেষ্টা করেছি। একটু বড় হলে আমাকে…

জলের অক্ষর পর্ব ৫

কুলদা রায় ছেলেবেলায় গ্রামে বোরকা পরা মহিলাদের দেখেছি। তারা হয়তো হেঁটে হেঁটে কাছেপিঠের কোনও গ্রামে বাপের বাড়িতে যাচ্ছে। বা মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছে। অথবা কবিরাজ বাড়িতে যাচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো হাটে যাচ্ছে ক'টা আনাজ বিক্রি করতে।  এদের…

জলের অক্ষর (পর্ব পাঁচ)

কুলদা রায় আমার প্রিয় উপন্যাস ভিক্টর হুগোর 'দি হ্যাঞ্চ ব্যাক অব নতরদ্যাম'। প্রথম পড়েছিলাম ১৯৮১ সালে। ময়েনুদ্দিন স্যার পড়তে দিয়েছিলেন বাবাকে। বাবা দিল আমাকে পড়তে। কী অদ্ভুত সেই পড়া। আজও মর্মে গেঁথে আছে। এখনও অমলিন। লিখলে এরকম উপন্যাসই…

জলের অক্ষর পর্ব ৪

কুলদা রায় মেক্সিকো সিটি থেকে ৩০ মাইল দূরের একটি প্রাচীন শহর। এটাকে বলা হত পিরামিডের শহর। নাম তেওতিহুকান। এ শহরে গেলে ঈশ্বর হওয়া যায়। এ শহরে এসেছি। এখানে মিগুয়েলের সঙ্গে দেখা। মিগুয়েল আমাদের গাইড। গাইড মিগুয়েল অবাক করে দিয়ে…

জলের অক্ষর পর্ব ৩

কুলদা রায় মুনিনাগ রবিশঙ্কর বলের বাড়ি। কিন্তু কখনও মুনিনাগ যাননি। বছর দুই-তিন আগে বরিশাল গিয়েছিলেন। সঙ্গে কথাসাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী। ইচ্ছে ছিল মুনিনাগে যাবেন। মুনিনাগ নামে একটি গ্রাম তাঁরা খুঁজে পাননি। তখন আমার রাত্রি নেমেছে।…

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More