দুপুর থেকে কৃষকদের রেল রোকো শুরু, ব্যাপক প্রভাব পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার দুপুরে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটকে রেল অবরোধ শুরু করেছেন কৃষকরা। কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে রেল রোকো-র ডাক দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। অবরোধ চলবে বিকাল চারটে পর্যন্ত। কৃষক নেতারা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হবে।

কৃষকরা রেল অবরোধ শুরু করার আগেই এদিন কোনও কোনও শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রেন লাইনের আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছে আরপিএফ ও রাজ্য পুলিশ। হরিয়ানার সোনিপত, আম্বালা এবং জিন্দে রেল স্টেশনগুলি পুরোপুরি আটকে দেওয়া হয়েছে। আম্বালা, কুরুক্ষেত্র, পানিপথ, পাঁচকুলা এবং ফতেহাবাদ জেলায় আন্দোলনকারীরা ট্রেন লাইনে বসে পড়েছেন। তাঁদের এক বড় অংশ মহিলা।

রেল সূত্রে খবর, পাঞ্জাবে দিল্লি-লুধিয়ানা-অমৃতসর রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জলন্ধর ও মোহালি জেলায় জলন্ধর ক্যান্টনমেন্ট থেকে জম্মু যাওয়ার রেলপথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরুতে পুলিশ কৃষকদের রেল অবরোধে বাধা দেয়। তা নিয়ে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। এক কৃষক নেতা বলেন, “পুলিশ আমাদের রেল অবরোধ করতে দেয়নি। পুলিশ বলেছে, প্রতিবাদ জানানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। কৃষক ইউনিয়নগুলি আগেই ঘোষণা করেছে, দেশ জুড়ে রেল অবরোধ হবে। সেক্ষেত্রে এখানে আলাদা করে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে কেন?”

কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে ৮০ দিনের বেশি। সরকারের সঙ্গে ১১ বার বৈঠকে বসেছেন কৃষক নেতারা। তাতেও কোনও সমাধান হয়নি। কৃষক নেতারা বলেছেন, এবার নতুন কৌশলে আন্দোলন হবে। দিল্লি সীমান্তে আর বেশি মানুষ অবস্থান করবেন না। অনেকে নিজেদের গ্রামে গিয়ে আন্দোলন করবেন। বিভিন্ন রাজ্যে বড় আকারের জনসমাবেশ করে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে জনমত তৈরি করা হবে।

কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত স্থির করেছেন, এবার দেশ জুড়ে কিষাণ মহাপঞ্চায়েত করা হবে। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানে বেশ কয়েকটি মহাপঞ্চায়েতে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। দিল্লি সীমান্তে উপস্থিত এক কৃষক বলেন, “এখানে ১০ লক্ষ কৃষক জমায়েত হলেই বা কী যায় আসে? সরকার কি আমাদের দাবি মেনে নেবে? আমরা সারা দেশ জুড়ে প্রতিবাদ করব।”

গাজিপুর প্রটেস্ট কমিটির সদস্য জগতার সিং বাজওয়া বলেন, “সরকারের একগুঁয়েমির কথা চিন্তা করে আমরা দিল্লি সীমান্তে বড় জমায়েত করেছিলাম। কৃষক নেতারা তাঁদের কৌশল বদলাচ্ছেন। তাঁরা চান, প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি বাড়ির মানুষ কৃষক আন্দোলনের কথা জানুক। আমরা আগামী দিনে নানা জায়গায় মহাপঞ্চায়েত করব।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More