সংঘর্ষের আবহে আচমকা ‘শান্তি’র বার্তা ট্রাম্পের! ভিডিও পোস্ট করে বললেন, ‘মসৃণভাবে হস্তান্তর হোক ক্ষমতা’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘শান্তি এবং সমন্বয়ের’ জন্য আবেদন বার্তা দিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানালেন, মসৃণ ভাবে তাঁর থেকে ক্ষমতার হস্তান্তর হোক জো বাইডেনের হাতে। মার্কিন ক্যাপিটলে গতকাল দিনভর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরে, নানাভাবে কোণঠাসা হয়ে যাওয়ার পরে শেষমেশ এই বার্তাই দিলেন ট্রাম্প।

একটি ভিডিও বার্তা করে ট্রাম্প অনুরোধ করেন, তাঁর অনুগামী-সমর্থকরা যাতে শান্ত হন, হিংসার পথ থেকে সরে আসেন। বুধবারই মার্কিন প্রশাসনে ঘোষিত হয়েছে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের চূড়ান্ত জয়। এর পরই অশান্তিতে উত্তাল হয়ে ওঠে আমেরিকা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এমন ভয়ঙ্কর প্রভাব বোধহয় আগে দেখা যায়নি। উন্মত্ত বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে, পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়েছে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে। ধাক্কাধাক্কি চলেছে চরম। মুখে স্লোগান, ট্রাম্পকে কিছুতেই হারতে দেওয়া যাবে না। গুলি চলছে। রক্তাক্ত হয়েছে বিল্ডিং চত্বর। এক মহিলা-সহ চার বিক্ষোভকারীর মৃত্যুও হয়েছে বলে খবর।

এর পরেই মুখ খোলেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় ও সংবাদমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে তিনি জানান, “২০ জানুয়ারি থেকে নতুন প্রশাসক বসবেন মসনদে। আমি এখন চাই মসৃণভাবে, শৃঙ্ঘলা মেনে, কোনও অশান্তি ছাড়াই ক্ষমতার হস্তান্তর হয়ে যাক। আমি শান্তি ও সমন্বয় চাইছি এই মুহূর্তে।”

অন্যদিকে, এই চরম সংঘর্ষের জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন ক্যাপিটলের পুলিশ প্রধান। পুলিশ প্রধান স্টিভেন সান্ডের দায়িত্ব ছিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। তিনি তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই অভিযোগ উঠেছে এদিন। বুধবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত করা নিয়ে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হাউস অব রিপ্রেসেন্টেটিভ এবং সেনেটের বৈঠক চলছিল। সেই সময়েই বিক্ষোভকারীরা জোরজবরদস্তি বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে স্লোগান। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলেই অশান্তি শুরু হয়ে যায়। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে, ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। বাধ্য হয়ে গুলি চালায় পুলিশ। তবে শেষরক্ষা হয়নি।

এসবের পরেই হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলসি পুলিশ প্রধান স্টিভেনকে ডেকে এই ঘটনার দায় নিতে বলেন এবং অভিযোগ করেন, পুলিশ বিভাগের প্রস্তুতিতে খামতি ছিল। এর পরেই স্টিভেনকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন তিনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More