রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দুই আদিবাসী বোনকে গণধর্ষণ মালদায়, খবর পেয়েই মায়ের মৃত্যু!

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: স্থানীয় এক প্রতিবেশীর বিয়ে থেকে ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের হাতে গণধর্ষণ ও যৌন হেনস্তার শিকার হলেন দুই আদিবাসী যুবতী বোন। খবর পেয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মায়ের। মেয়েদের মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে ফেরার পথে ওই মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি মালদা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মালদার হাবিবপুর থানার মঙ্গলপুরা গ্রামে কাছে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, গ্রামের এক বাসিন্দার মেয়ের বিয়ে ছিল। সেখানেই গিয়েছিলেন ওই দুই যুবতী। রাতে তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময়ে দুটি বাইকে চড়ে কয়েকজন যুবক তাঁদের পথ আটকায় এবং উতক্ত করতে থাকে। প্রতিবাদ করতেই বাইক থেকে নেমে দুই বোনকেই তুলে নিয়ে পাশে একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায় ওই যুবকরা। এরপর একজনকে আটকে রেখে অন্য জনের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতে থাকে।

এদিকে যুবতীদের চিৎকারে আশে-পাশের স্থানীয়রা ছুটে আসেন। অভিযুক্তরা পালাতে গেলে একজনকে ধরে ফেলেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশবাহিনী। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে এসছিলেন যুবতীদের মা-বাবাও।

এরপর পুলিশের গাড়িতে করেই যুবতীদের মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য বুলবুলচণ্ডী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেই সময় তাঁদের মাও সঙ্গেই ছিলেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে ফেরার পথে যুবতীদের মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে ফের ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হতে থাকায় ঝুঁকি না নিয়ে মালদা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয় ও পুলিশের দাবি, মেয়েদের ওপর হওয়া নির্যাতনের খবর সহ্য না করতে পেরেই এই ঘটনা ঘটে গিয়েছে।

ইতিমধ্যে দুই যুবতীর বাবা থানা ধর্ষণ ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেছেন। জেলার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, হবিবপুর এলাকায় বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুই বোন নিয়ে যায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, ছোট বোনকে হেনস্থা করা হয়েছে। বড় বোনকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। তাদের মেডিক্যাল করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More