মন্ত্রিত্ব খোয়াতে পারেন দুই মাহাতো, সেচমন্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েক বছরে পথে-প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আকছাড় বলেছেন, তাঁর জমানায় জঙ্গলমহল হাসছে। জঙ্গলমহলের তিন জেলায় কেন্দ্রের অনগ্রসর এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় ২০১১ সাল থেকে যে ধরনের পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ হয়েছে বা আদিবাসী মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার যতটা চেষ্টা হয়েছে, তাতে এ কথা হয়তো অতিশয়োক্তি নয়। কিন্তু তার পরেও পঞ্চায়েত ভোটে জঙ্গলমহল তথা বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের হাত পুড়েছে, তাতে তৃণমূলনেত্রী হতাশ শুধু নন, যারপরনাই ক্ষুব্ধ।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, দিদি রেগেছেন সেখানকার জেলার নেতা ও মন্ত্রীদের উপর। এতোটাই যে খুব শিগগির জঙ্গলমহলের চার জেলায় সংগঠনকে রদবদল করতে পারেন তিনি। শুধু তাই নয় মন্ত্রিত্ব খোয়াতে পারেন শান্তিরাম মাহাতো এবং চূড়ামণি মাহাতো। শান্তিরাম পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী এবং চূড়ামণি মাহাতো অনগ্রসর এলাকা উন্নয়ন মন্ত্রী।

একই ভাবে হাওড়ায় জেলা পরিষদে দলীয় প্রার্থী কল্যাণ ঘোষ পরাস্ত হওয়ার ঘটনায় সেচ মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ঘোর অসন্তুষ্ট তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। হাওড়া জেলা পরিষদের চল্লিশটি আসনের মধ্যে কেবল ওই একটি আসনেই হেরেছে শাসক দল। এ ব্যাপারে দলের জেলা সভাপতি অরূপ রায় দ্য ওয়ালকে বলেন, “চল্লিশটি আসনের মধ্যে চল্লিশটিতেই জেতার কথা ছিল আমাদের। কিন্তু একটি আসনে পরাজিত হওয়ায় একটু হলেও কালি লেগেছে গায়ে।“  কল্যাণ ঘোষের বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হিসাবে জিতেছেন জামালউদ্দিন মল্লিক। দলের মধ্যে অভিযোগ, সেচ মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ই এই গোঁজ প্রার্থীকে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন। অরূপবাবু অবশ্য রাজীবের নাম মুখে আনেনি। শুধু বলেন,”ওই আসনটিতে দল কেন হেরেছে সে ব্যাপারে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সব তথ্য রয়েছে।“ এ ব্যাপারে রাজীববাবুর প্রতিক্রিয়া অবশ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

তবে শাসক দলে সব থেকে বেশি উদ্বেগ এখন জঙ্গলমহল নিয়ে। পঞ্চায়েতের ফলাফলেই পরিষ্কার ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় কীরকম মুখ পুড়েছে তৃণমূলের। যেমন সদ্য রাজনীতিতে পা রাখা বিজেপি প্রার্থী গোপীনাথ গোস্বামীর কাছে ডাহা হেরেছেন পুরুলিয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতো। জেলা পরিষদ দখলে এলেও ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের সভাধিপতি সমায় মান্ডি ও সহ সভাধিপতি সোমা অধিকারীও পরাস্ত হয়েছেন। তা ছাড়া ঝাড়গ্রামের শালবনিতে চূড়ামণি মাহাতোর নিজের এলাকা আমলাচটিতে বিজেপি-র কাছে হেরেছে তৃণমূল। শান্তিরাম মাহাতোর এলাকা বলরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতেরও দখল নিয়েছে বিজেপি। ঝাড়গ্রামে ৩৭৩ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতেছে বিজেপি। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত সমিতিতে ১১২টি ও জেলা পরিষদে ৩ টি আসন দখল করেছে। পুরুলিয়ায় তাদের সাফল্য আরও বেশি। সেখানে ৬৪৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের আসন জিতেছে গেরুয়া শিবির। তা ছাড়া পঞ্চায়েত সমিতির ১৪২টি ও জেলা পরিষদে ১০ টি আসন দখল করেছে।

এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব স্বীকার করছেন, দলের সংগঠনের ভুলেই এই হার হয়েছেন। দলের উপরের সারির নেতাদের অনেকের এও মত, আদিবাসী সমাজেকর কেবল একটি অংশকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই এমন হতে পারে।মাহাতোর বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় বাকিরা চটেছে। তা ছাড়া ৮ মাস ধরে আদিবাসী উন্নয়ন মঞ্চের আন্দোলন মোকাবিলাও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে হয়নি। শুধু এই তিন মন্ত্রী নন আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে তৃণমূলের পরাজয়ের জন্য জেমস কুজুরের উপরেও চটেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More