ভারত বায়োটেকের হাত ধরল দুটি পিএসইউ প্ল্যান্ট, কোভ্যাক্সিনের উৎপাদন বাড়বে কয়েক গুণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভ্যাক্সিন টিকা উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ দেশে। ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল লিমিটেড এবং বিপকোল— এই দুই পিএসইউ (পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং) প্ল্যান্ট এবার হাত ধরছে ভারত বায়োটেকের। কোভ্যাক্সিন উৎপাদনকারী বায়োটেকে যাতে এবার আরও বেশি করে ভ্যাকসিন তৈরি হয়, সেই উদ্দেশেই এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের।

কোভ্যাক্সিন টিকার মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে দেশে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে খবর মিলছে, টিকা পাচ্ছেন না মানুষ। অনেকে প্রথম ডোজ পেলেও দ্বিতীয় ডোজ পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও রীতিমতো বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে ভ্যাকসিন নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে টিকার উৎপাদন বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন পৌঁছচ্ছে। হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেকের প্ল্যান্টে যে পরিমাণ টিকার উৎপাদন হচ্ছে তাতে চাহিদা মিটছে না। তাই এবার দুটি পিএসইউ প্ল্যান্টে কোভ্যাক্সিন টিকা তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ পরামর্শদাতাদের মধ্যে অন্যতম ডক্টর ভিকে পাল জানান, অনেকেই বলছিলেন টিকার অভাব মেটাতে এবং কোভ্যাক্সিনের উৎপাদন বাড়াতে অন্য সংস্থাতেও এর উৎপাদন চালু করা হোক। কেন্দ্রের তরফে যখন এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয় ভারত বায়োটেকের সঙ্গে, তারা এতে রাজি হয়।

জানা গেছে, এই টিকাটি শুধুমাত্র বিশেষ বিএসএল৩ ল্যাবে তৈরি করা সম্ভব। সব সংস্থার কাছে এই ল্যাব নেই। তবে যাদের কাছে আছে এবং যারা আগ্রহী, তারা এই টিকা তৈরিতে হাত লাগাতে পারে বলে ঠিক করা হয়। এর পরেই চূড়ান্ত হয় ইন্ডিয়ান ইমিউনোলজিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল লিমিটেড এবং বিপকোল-এ তৈরি হবে ভ্যাকসিন।

সব ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে কোভ্যাক্সিন তৈরি হবে এই দুটি পিএসইউ-তে। ফলে এই বছরের মধ্যে আরও বহু দেশবাসীর ভ্যাকসিনেশন সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। এই উদ্দেশ্যে কেন্দ্রের তরফে মোটা অঙ্কের বাজেটও বরাদ্দ হয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশে এখন দুটি টিকাই সার্বিকভাবে দেওয়া হচ্ছে, পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকা। তৃতীয় টিকা হিসেবে রাশিয়ার স্পুটনিক ভি-ও দেশে চলে এসেছে, খুব শিগগিরি তার প্রয়োগ শুরু হবে। তার পাশাপাশি কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন দুটি টিকারই উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

টিকার অভাবে ইতিমধ্যেই ১৮-৪৪ বছর বয়সিদের কোভ্যাক্সিন টিকাকরণ বন্ধ দেওয়া করে হয়েছে। একাধিক রাজ্যের সরকার জানিয়েছে, আপাতত এই টিকা পাবেন শুধু প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা এবং ৪৫ ঊর্ধ্বরাই। পাশাপাশি কেন্দ্রকে অবিলম্বে টিকা পাঠানোর অনুরোধও করেছে দিল্লি।

দুটি পিএসইউ-এর সঙ্গে হাত ধরার পরে ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, খুব দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে। সূত্রের খবর, নতুন দুটি পিএসইউ-তে উৎপাদন শুরুর আগেই অগস্ট মাসের মধ্যে আরও ৭.৮ কোটি টিকার ডোজ তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত বায়োটেক। সংস্থার ডিরেক্টর ডক্টর ভিকে মোহন জানিয়েছেন, জুলাই মাসের মধ্যে কোভ্যাক্সিন টিকার ৩.৩২ কোটি ডোজ তৈরি করার চেষ্টা করা হবে, অগস্ট মাসের মধ্যে আরও ৮ কোটি ডোজ তৈরি হয়ে যাবে। এর পরে পিএসইউ প্ল্যান্ট দুটিতে উৎপাদন শুরু হলে, সেখানে প্রতি মাসে ২ কোটি করে কোভ্যাক্সিন টিকার ডোজ তৈরির পরিকল্পনাও আছে সরকারের।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More