রাজ্যে লকডাউন করা হোক, চান মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীরা, উদ্ধব সিদ্ধান্ত জানাবেন বুধবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ হাজার ৯২৪ জন। রাজ্যের মন্ত্রী রাজেশ তোপী এদিন জানান, সব মন্ত্রীই চান, পুরোপুরি লকডাউন করা হোক। আগামীকাল সন্ধ্যা আটটায় এসম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। রাজেশ তোপী বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, বুধবার থেকে রাজ্যে পুরোপুরি লকডাউন করা হোক। এবার সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী।”

মহারাষ্ট্রে রোজ বিপুল সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় চাপ পড়ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ওপরে। হাসপাতালের বেড, জীবনদায়ী ওষুধ, অক্সিজেন, সব কিছুরই সংকট দেখা দিয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে উদ্ধব ঠাকরে ঘোষণা করেছিলেন, সপ্তাহের শেষের দু’দিন লকডাউন করা হবে। কিন্তু তাতে সংক্রমণ কমেনি।

এর মধ্যে দিল্লিতে শুরু হয়েছে লকডাউন। মঙ্গলবার রাত ১০ টা থেকে আগামী সোমবার ভোর পাঁচটা পর্যন্ত লকডাউন চলবে। মহারাষ্ট্রের মতো অক্সিজেনের সংকট দেখা দিয়েছে দিল্লিতেও।

দিল্লি সরকার হাইকোর্টে অভিযোগ করেছিল, অক্সিজেন সরবরাহে বৈষম্য করা হচ্ছে। একটি ‘বড় রাজ্যে’ অক্সিজেন পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি সেই রাজ্যের নাম করেনি। তাদের বক্তব্য, সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হবে। হাইকোর্ট এদিন কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করে, কোনও কারখানায় কি অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছে? বিচারপতি বিপিন সাঙ্ঘি ও বিচারপতি রেখা পাল্লিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করে, “কারখানায় পরেও অক্সিজেন পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু রোগীদের অপেক্ষা করানো যায় না। তাহলে অনেকের প্রাণ বিপন্ন হবে।”

বিচারপতিরা বলেন, তাঁরা শুনেছেন, গঙ্গারাম হাসপাতালের ডাক্তাররা বাধ্য হয়ে কোভিড রোগীদের অক্সিজেন কম দিচ্ছেন। কারণ হাসপাতালে যথেষ্ট সংখ্যক অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, ২২ এপ্রিল থেকে শিল্পের প্রয়োজনে অক্সিজেন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হচ্ছে। বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, “আজ থেকেই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না কেন? মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আপনারা কি রোগীদের বলবেন, অক্সিজেনের জন্য ২২ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”

সোমবার দিল্লিতে মারা গিয়েছেন ২৫০ জন। মৃত্যুর সংখ্যার বিচারে তা রেকর্ড। স্বাস্থ্য দফতর বলেছে, প্রতি ঘণ্টায় রাজধানীতে অন্তত ১০ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীর সংখ্যা এতটাই বাড়ছে যে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে কোভিড বেড দেওয়া যাচ্ছে না রোগীদের। একই বিছানায় রোগীদের ঠাসাঠাসি করে থাকতেও দেখা গিয়েছে।

দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে সংক্রমণ বেশি।  বিহারে রাত্রিকালীন কার্ফু জারি করা হয়েছে। রাত ৯টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত এই কার্ফু কার্যকর থাকবে। উত্তরপ্রদেশের পাঁচ শহরে লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More