মহারাষ্ট্রে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদল বৈঠক উদ্ধব ঠাকরের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮,৯৯৩ জন। মারা গিয়েছেন ৩০১ জন। তারপর এদিন রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। করোনা পরিস্থিতি সামলাতে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে লকডাউন জারি হয়েছে রাজ্যে। তা চলবে সোমবার পর্যন্ত। তবে খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা দিতে যাবেন, তাঁদেরও বাধা দেওয়া হবে না।

লকডাউনের ফলে এদিন ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস ও বৃহন্মুম্বই কর্পোরেশনের অফিসের বাইরের রাস্তাগুলো ছিল শুনশান। এদিন সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৮৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ। দেশে পরপর চারদিন এক লক্ষের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র আশ্বাস দিলেও সিরাম ইন্সটিটিউটের প্রধান আদার পুনাওয়ালা সাফ স্বীকার করে নেন ভ্যাকসিনের সংকট যে রয়েছে, একথা পুরোপুরি সত্যি। অর্থ এবং সময় — দুই-ই যদি বরাদ্দ না হয়, তাহলে সার্বিক সমস্যা আরও ভয়ংকর চেহারা নেবে।

আশার আলো দেখানো দূর অস্ত, এবার সিরামের আশঙ্কাকে কার্যত মান্যতা দিলেন এইমসের প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া। তিনি বলেন, ‘কোভিশিল্ডের ঘাটতি মেটাতে সিরামের প্রয়োজন প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। সেই সঙ্গে তিন মাস সময়। তাহলেই দেশে এবং বিদেশে ভ্যাকসিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।’

সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘উৎপাদন নিয়ে অবশ্যই চিন্তা করার সময় এসেছে। মাথায় রাখতে হবে, শুধু দেশে নয়, বিদেশেও এই ভ্যাকসিন বন্টন করা হবে। তাই এখন যদি উৎপাদন শুরু হয়, তাহলে চাহিদার বিপুল চাপ থাকবে৷ এই সমস্যা ছ’মাস আগেই অনুমান করা যেত। এর জন্য রকেট সায়েন্স জানাটা জরুরি নয়।’

করোনার ভ্যাকসিনে শুধু নয়, এবার করোনার ওষুধেও আকাল দেখা দিয়েছে কয়েকটি রাজ্যে। সংক্রমণ এত বিপুল হারে বাড়ছে যে করোনার দুই ওষুধ রেমডেসিভির ও ফ্যাভিপিরাভিরের চাহিদা বাড়ছিল গত দু’মাস ধরে। আর আশ্চর্যের ব্যাপার হল, এই দুই ওষুধের স্টকই একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশে এই মুহূর্তে রেমডেসিভির ও ফ্যাভিপিরাভির ওষুষের জোগান নেই বললেই চলে। বাজার ঘুরে নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অথচ এই রাজ্যগুলিতেই সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সাঙ্ঘাতিকভাবে আছড়ে পড়েছে।

মহারাষ্ট্রের কয়েকজন ওষুধ বিক্রেতা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি অবধি করোনা সংক্রমণ তেমনভাবে বাড়েনি। ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কমছিল। তাই ওষুধ বিক্রিও কমে গিয়েছিল। এপ্রিল মাস অবধি যে ওষুধগুলোর স্টক ছিল তার বেশিরভাগই সরবরাহকারীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি যা ছিল তা গত কয়েকদিনে হুড়মুড়িয়ে বিক্রি হয়ে গেছে। ভ্যাকসিন যাঁরা পাচ্ছেন না, তাঁদের বেশিরভাগই দোকানে এসে রেমডেসিভির বা ফ্যাভিপিরাভির ওষুধের খোঁজ করছেন। তাই ওষুধের বিক্রিও বেড়ে গেছে কিন্তু জোগান অনেক কমে গেছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More