কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভের ধাক্কা, নেট স্থগিত রাখল ইউজিসি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী ২ মে থেকে ইউজিসি-র নেট (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট) হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক ঘোষণা করলেন, পরীক্ষা স্থগিত থাকছে। ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশনের হয়ে নেট নেয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। ওই পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগ করা হয়। কারা জুনিয়ার রিসার্চ ফেলোশিপ পাবেন, তাও ওই পরীক্ষার মাধ্যমে স্থির হয়।

এবছর নেট হওয়ার কথা ছিল ১৭ মে পর্যন্ত। কিন্তু ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি জানিয়েছে, “পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা কর্মীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ইউজিসি নেট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

এর আগে সোমবার আইসিএসই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এক্সামিনেশন (সিআইএসসিই) আগেই জানিয়েছিল, আইএসসি (দ্বাদশ শ্রেণি)-র পরীক্ষার দিনক্ষণ পরে ঘোষণা করা হবে। তবে আইসিএসই (দশম শ্রেণি)-র পড়ুয়াদের জন্য দু’টি বিকল্প রয়েছে। হয় তারা দ্বাদশের পড়ুয়াদের সঙ্গে অফলাইনে অর্থাৎ পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দেবে, না হলে অফলাইন পরীক্ষায় বসবে না। সেক্ষেত্রে  স্কুলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে মার্কশিট তৈরি হবে। আজ বোর্ডের তরফে জানানো হল, দশমের পরীক্ষা বাতিলই করে দেওয়া হচ্ছে। তবে আইএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

গত বুধবার শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে সিবিএসই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল, সিবিএসই বোর্ডের দশম শ্রেণির পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্বাদশের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হচ্ছে। তবে কবে তা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। ১ জুন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছিল, সিবিএসই দশমের পরীক্ষা বাতিল হলেও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে ছাত্রছাত্রীদের। যদি কোনও পড়ুয়া এই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে সন্তুষ্ট না হয়, তাহলে সে আবার পরীক্ষায় বসতে পারে। তবে সেই পরীক্ষা হবে কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার পরে।

ভাইরাস সক্রিয় রোগী বেড়েই চলেছে দেশে। কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। একদিনে লাখের বেশি অ্যাকটিভ রোগী ধরা পড়ছে, যা রীতিমতো চিন্তার বিষয় বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কারণ দেশে কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার বাড়ছে। মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণের হার যথেষ্টই বেশি। রোগ ছড়িয়ে পড়ছে খুব তাড়াতাড়ি।

দেশের সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত রাজ্য মহারাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৫৮,৯২৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩৫১ জনের। বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের করোনা পরিস্থিতিও ভয়ঙ্কর। বৃহন্মুম্বই পুরসভা জানাচ্ছে, মুম্বইতে এখন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৮৭ হাজার ছাড়িয়েছে। বস্তি এলাকাগুলোর থেকে বড় বড় আবাসনেই সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা বেশি। শহরের অন্তত ৯০ শতাংশ সংক্রমণের রিপোর্ট এসেছে আবাসনগুলি থেকেই। রাজ্যে এখন ১৫ দিনের লকডাউন চলছে। তবে তাতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সম্পূর্ণ লকডাউনের কথা ভাবা যেতে পারে বলেই জানিয়েছে উদ্ধব ঠাকরের প্রশাসন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More