কোভিডের ইউকে স্ট্রেন আগের চেয়ে বেশি ছোঁয়াচে, কিন্তু মারণ ক্ষমতা আগের মতোই

দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনার নতুন ইউকে স্ট্রেন নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে বিখ্যাত ল্যানসেট পত্রিকা। তাতে বলা হয়েছে, যাঁরা নতুন স্ট্রেনে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের উপসর্গ আগের চেয়ে গুরুতর নয়। মৃত্যুর সম্ভাবনাও আগের চেয়ে বেশি নয়। তবে ওই স্ট্রেন আগের চেয়ে বেশি ছোঁয়াচে। ফলে আগের চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ এখন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে কোভিডের নতুন স্ট্রেন ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়ে। ল্যানসেটের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০১৯ সালে চিনের উহান থেকে করোনার যে স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়েছিল, নতুন ইউকে স্ট্রেন তার চেয়ে বেশি ছোঁয়াচে। সম্প্রতি এইমসের ডায়রেক্টর রণদীপ গুলেরিয়াও বলেছেন, ভারতে করোনাভাইরাসের যে নতুন মিউটেশন ঘটেছে, তা আগের চেয়ে বেশি ছোঁয়াচে।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ইউকে স্ট্রেনে আক্রান্ত রোগীদের ৩৬ শতাংশ হয় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অথবা মারা গিয়েছেন। কিন্তু অন্যান্য স্ট্রেনে আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৮ শতাংশ।

ইউকে স্ট্রেন সম্পর্কে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা সংশ্লিষ্ট রোগীদের সোয়াব টেস্টের নমুনা খতিয়ে দেখেন। তাঁরা লক্ষ করেছেন, একই পরিমাণ সোয়াবের মধ্যে অন্য স্ট্রেনের তুলনায় ইউকে স্ট্রেনের ভাইরাস বেশি পরিমাণে থাকে।

ভারতে গত সোমবার কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৮৩৮ জন। এত বিপুল সংক্রমণ গত বছরও দেখা যায়নি। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা শুরু হওয়ার পরে প্রায় প্রতিদিনই নতুন সংক্রমণ মাত্রা ছাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এবং সংক্রমণের হারে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ভারতের স্থান। সংক্রমণে দৈনিক মৃত্যুও টেক্কা দিয়েছে অন্যান্য দেশকে। আজকের হিসেবই বলছে, একদিনে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৯০০ জনের বেশি, যা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

চিন্তার শেষ এখানেই নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য বলছে, দেশে এখন ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বাড়ছে। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশে কোভিড অ্যাকটিভ রোগী ২ লাখে নেমে গিয়েছিল। কোভিড অ্যাকটিভ কেসের হারও কমেছিল। হাঁফ ছেড়েছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু দু’মাসের মধ্যে পুরো ছবিটাই ফের বদলে গেছে। এই প্রথমবার ভাইরাস সক্রিয় রোগী ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অ্যাকটিভ কেসের হার ৮.৮৮ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড অ্যাকটিভ কেসের হার এইভাবে বাড়তে থাকলে দেশে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কোভিড পজিটিভিটি রেটও বাড়বে। জাতীয় গড়ে তার প্রভাব পড়বে।

মহারাষ্ট্র এখনও সংক্রমণের শীর্ষে। নতুন সংক্রমণ ৬৩ হাজার ধরা পড়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। লাগামছাড়া করোনা কার্ভ দেখে রাজ্যে পুরোপুরি লকডাউন চালু করার কথা ভাবছে উদ্ধব ঠাকরে সরকার। আজ এই মর্মে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা আছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপে বলেছেন, কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক হবে আজ। কনটেইনমেন্ট জ়োন ও কোভিড সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। গ্রেটার মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তরফে জানানো হয়েছে, কোভিড ওয়ার রুম খোলা হবে জায়গায় জায়গায়। ২৪ ঘণ্টাই সেখানে পর্যবেক্ষণে থাকবেন নোডাল অফিসাররা। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে নজর রাখার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল টিমও তৈরি হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More